‘কাশ্মীরের মডেল দিল্লিতে রপ্তানি হয়েছে’—ধরপাকড় নিয়ে ওমর আবদুল্লাহর কটাক্ষ

‘কাশ্মীরের মডেল দিল্লিতে রপ্তানি হয়েছে’—ধরপাকড় নিয়ে ওমর আবদুল্লাহর কটাক্ষ
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের আগে বিরোধী নেতা ও আন্দোলনকারীদের আটক এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) নেত্রী মেহবুবা মুফতি। দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০১৯ সালে কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর আরোপ করা বিধিনিষেধের সঙ্গে তুলনা করেছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। শনিবারের ওই কর্মসূচির আগে রাজধানীতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, নেহা বোরা, যোগেন্দ্র যাদব ও প্রশান্ত ভূষণসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওমর আবদুল্লাহ লেখেন, কাশ্মীরের মডেল দিল্লিতে রপ্তানি করা হয়েছে। নতুন দিল্লিতে স্বাগতম, যা নতুন জম্মু-কাশ্মীরের আদলে তৈরি।

দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ঘটনাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন। শনিবারের বিক্ষোভ সামনে রেখে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।

এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লিতে যান ওমর আবদুল্লাহ। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

অন্যদিকে, দিল্লির পরিস্থিতিকে কাশ্মীরের অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করে মেহবুবা মুফতি বলেন, ২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান দিল্লির চিত্র তা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

তার অভিযোগ, সে সময় মানুষকে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং গোটা অঞ্চলকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। এরপরও কেউ প্রতিবাদ করেনি বলে দাবি করা হয়েছিল।

দিল্লির পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মুফতি আরো বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ, যন্তরমন্তরে যাওয়ার পথ অবরুদ্ধ এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করার পর কর্তৃপক্ষ একইভাবে দাবি করতে পারে যে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করেনি। তার ভাষায়, প্রথমে বিক্ষোভ দমন করা, তারপর সেই প্রতিবাদকে অস্বীকার করা—এভাবেই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের সময় ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট, মোবাইল ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

দীর্ঘ ওই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীরে পূর্ণগতির ফোরজি ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়। এর আগে সীমিত গতির ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও যোগাযোগ পরিষেবায় বিধিনিষেধের ঘটনায় তাই কাশ্মীরের অতীত অভিজ্ঞতা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।

সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...