দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসকে আধুনিক এবং পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনা হিসেবে গড়ে তুলতে ১ হাজার ৩১১ কোটি ৫০ লাখ ৬৬ হাজার টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় টেবিলে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
আজ বুধবার পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির উদ্যোক্তা। বাস্তবায়ন করবে সেনাসদর, ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ শাখা, পূর্ত পরিদপ্তর ও ঢাকা সেনানিবাস। প্রতিরক্ষা খাতের আওতায় নেওয়া এ উদ্যোগের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনা বিভাগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং বেনাপোল উপজেলা অন্তর্ভুক্ত।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রামু সেনানিবাসকে আধুনিক মানের পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলা। এ জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। নথিতে বলা হয়েছে, সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সুদৃঢ়তা এবং আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রামু সেনানিবাসকে আধুনিক মানে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত কাজের মধ্যে রয়েছে আবাসিক ভবন নির্মাণ, যার আয়তন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮২.৯৭ বর্গমিটার। পাশাপাশি ৬ হাজার ১৫৮.৩০ বর্গমিটার আয়তনের অনাবাসিক ভবন তৈরি করা হবে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ২৫ হাজার মিটার নিকাশ কাঠামো এবং ১১টি নলকূপ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও পানি সরবরাহ, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম ক্রয় ও স্থাপন, অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ এবং ভূমি উন্নয়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম এবং আসবাবপত্রও কেনা হবে। অর্থাৎ, শুধু ভবন নির্মাণ নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক সুবিধাও গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রয়োজনীয় ভবন ও আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে রামু সেনানিবাসকে বিশ্বমানের পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


