ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের সরবরাহ কমে আসায় আগামী মে বা জুন মাস নাগাদ বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। এই নৌপথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, জ্বালানি স্বল্পতার কারণে মে মাস থেকেই বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বাতিল শুরু হতে পারে।
আইইএ তাদের মাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপ যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের অন্তত ৫০ শতাংশ বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করতে না পারে, তবে আগামী জুন মাস নাগাদ তাদের মজুত ‘সংকটকালীন পর্যায়’ অর্থাৎ ২৩ দিনের স্তরে নেমে আসবে।
তথ্য অনুযায়ী, ওইসিডি ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ ব্রিটেন ও নরওয়ে অন্তর্ভুক্ত। তাদের প্রয়োজনীয় জেট ফুয়েলের ৩০ শতাংশের বেশি আমদানি করে। এই আমদানির সিংহভাগই আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, মহাদেশটিতে এখনো পুরোপুরি জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি। তবে কমিশনের মুখপাত্র আন্না-কাইসা ইকোনেন স্বীকার করেছেন, সরবরাহ সংকট এখন অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মে মাস থেকে বিশ্বজুড়ে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
সূত্র : আল-জাজিরা
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

