মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ মানে এ দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ সমান অধিকার ও আত্মমর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।
শুক্রবার রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারে শ্রী শ্রী নরসিংহ জিউ বিগ্রহ মন্দিরের সংস্কার কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের পর সম্ভবত প্রথমবার তিনি এই মন্দিরে এসেছেন। তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠানোর জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। যে উদ্দেশ্যে তারা তাকে নির্বাচিত করেছেন, সেই উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্দিরের সংস্কারকাজ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, নরসিংহ জিউ বিগ্রহ মন্দিরে বেশ কিছু সংস্কারকাজ প্রয়োজন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করবেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, পূজার আগে এলাকার মন্দিরগুলোর জন্য সরকারের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ আসনে অনেকগুলো মন্দির রয়েছে এবং অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। এ বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে সরকারের কাছে চিঠিও দিয়েছেন। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অতীতে পূজার আগে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বসবাস করে আসছেন। তাঁদের মধ্যে কোনো দিন কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল অতীতে এ বিষয়টি নিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে তা মোকাবিলায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরা কাজ করছেন। এই জাতীয়তাবাদের অর্থ হলো দেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ও সমান মর্যাদা ভোগ করবেন। হিন্দু-মুসলিম সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিয়ে তাদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি গৌরবের জায়গা। বাংলাদেশের উৎপত্তির কথা বলতে গেলে মুক্তিযুদ্ধকে ধরতে হবে। এ দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি।
এলাকার বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, এলাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার রাতারাতি সমাধান হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশের কেউ দায়ী নয়। গত ১৭ বছরে আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির ওপর বাংলাদেশকে পরিচালনা করা হয়েছে। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসসম্পদ উত্তোলনে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে দুটি রিগ সচল করা হয়েছে এবং আরও দুটি নতুন রিগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এবং বঙ্গোপসাগরে গিয়ে গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু করবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে, রাতারাতি হয় না। তাই জনগণকে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট সমাধানে বিকল্প উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের দিকে এখন বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে দেশের শতভাগ জ্বালানি চাহিদা পূরণ সম্ভব না হলেও পিকিং আওয়ারে অতিরিক্ত চাহিদার সময় এটি ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে লোডশেডিংয়ের সমস্যা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গ্যাস সংকটের কারণে মানুষের ভোগান্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর মতো তিনিও দুঃখ প্রকাশ করেন। দ্রুততম সময়ে সংকট নিরসন করে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। এ জন্য সবার সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন ইশরাক হোসেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


