ইরান যুদ্ধের মধ্যেই গোপনে আমিরাত সফর করেন মোসাদ ও শিন বেত প্রধান

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই গোপনে আমিরাত সফর করেন মোসাদ ও শিন বেত প্রধান

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরাইলের শীর্ষ দুই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফর করেছেন বলে বুধবার প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে। এই গোপন সফরগুলো ইসরাইল ও আমিরাতের মধ্যে যুদ্ধকালীন সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরব কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ইরান যুদ্ধ চলাকালে অন্তত দুইবার আমিরাত সফর করেন। মার্চ ও এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে আবুধাবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি যুদ্ধসংক্রান্ত সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেরুজালেম ও আবুধাবির মধ্যে ইরান যুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমন্বয় বাড়াতেই এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সফরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, ইসরাইলি সূত্র বার্নিয়ার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

একই সময়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউএই সফর করেছেন বলে কান পাবলিক ব্রডকাস্টার জানিয়েছে। তার সফরের লক্ষ্যও ছিল ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা ও আমিরাতের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার করা। তবে এ সফরের বিষয়েও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি কোনো পক্ষ।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করা এবং সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্বাচন এসব ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ে।

এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এপ্রিলের শুরুতে আমিরাত গোপনে ইরানের ভেতরে সামরিক হামলা চালায়। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়। আবুধাবি আনুষ্ঠানিকভাবে এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও, ইরান ওই সময় একটি অজ্ঞাত শত্রুর হামলার কথা স্বীকার করেছিল। পরবর্তীতে ইরান আমিরাত ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বনাম ইরান যুদ্ধ চলাকালে তেহরান আমিরাতের ওপর প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করে। ফলে অঞ্চলটির মধ্যে আমিরাতই সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

নিজেদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস মিত্রকে রক্ষায় ইসরাইল ইউএইতে একটি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও তা পরিচালনার জন্য সেনা পাঠায় বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পরে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ওয়াশিংটন আমিরাতের এই অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখেছে বলে জানা গেছে, বিশেষ করে যখন উপসাগরীয় অন্য কয়েকটি দেশ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখায়।

অন্যদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবও ইরানি হামলার জবাবে মার্চের শেষদিকে গোপনে ইরানে একাধিক পাল্টা বিমান হামলা চালায়। যদিও সৌদি সরকার এ বিষয়ে সরাসরি কিছু নিশ্চিত করেনি।

১০ সপ্তাহব্যাপী এ যুদ্ধে ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সব ছয়টি সদস্য রাষ্ট্রে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...