ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে ওয়াশিংটন। পরে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ওই চুক্তিতে যুক্ত হয়। অন্তর্বর্তীকালীন এই সমঝোতার পর দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল সুইজারল্যান্ডে।
শুক্রবার (১৯ জুন) নির্ধারিত সেই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে আকস্মিকভাবে সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফলে বহুল আলোচিত এই আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রত্যক্ষ শান্তি সংলাপেও মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে জানান, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই জটিল ও অনিশ্চিত ছিল। তাই আপাতত ভাইস প্রেসিডেন্টের সফর স্থগিত করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে প্রস্তাবিত ১৪ দফা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে নির্ধারিত আলোচনা আপাতত হচ্ছে না।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের প্রতিনিধি দল আদৌ সুইজারল্যান্ডে যাবে কি না, সে বিষয়েও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা দ্রুত শুরু করতে তারা আগ্রহী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় এই বৈঠক পিছিয়ে যায়। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় কয়েকজন ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রাতভর হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। আল-শারকিয়াহ ও হারুফসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর ৮০টির বেশি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এসব হামলায় গোষ্ঠীটির বহু সদস্য নিহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহর হামলায় নিজেদের কয়েকজন সেনা নিহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে আইডিএফ।
সর্বশেষ সামরিক আপডেটে বলা হয়েছে, নাবাতিয়া অঞ্চলসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার, রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মাত্র দুদিন আগে হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, আলোচনায় ইরানের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ করা। তেহরান বরাবরই এই বিষয়টিকে নিজেদের ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ভবিষ্যৎ যেকোনো আলোচনায় তেহরানের নির্ধারিত সীমারেখা সম্মান করতে হবে। তার ভাষায়, ইরানি জনগণের স্বার্থ ও পূর্বনির্ধারিত শর্ত থেকে তারা একচুলও সরে আসবে না।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ যদি অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে, তাহলে ইরানও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



চীনে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ শুরু, মহাবিপদে ভারত