হরমুজ নিয়ন্ত্রণ নিতে ট্রাম্পের ‘অপারেশন ফ্রিডম’

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

হরমুজ নিয়ন্ত্রণ নিতে ট্রাম্পের ‘অপারেশন ফ্রিডম’
ছবি: আল-জাজিরা

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা ‘চোখরাঙানি’ মোকাবিলায় ‘অপারেশন ফ্রিডম’ (প্রজেক্ট ফ্রিডম) শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন পাহারায় পার করে দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের অবরোধের সক্ষমতা যাচাই করা।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মার্ক ফাইভেল আল-জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি পথ। ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের ‘চোকহোল্ড’ বা গলার কাঁটা হয়ে থাকা এই অবরোধ ভেঙে সেখানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি মনে করেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ কৌশলের আওতায় যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ নিরাপদে পার করা যায়, তবে আলোচনার টেবিলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সুবিধা পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

ফাইভেল আরো জানান, বর্তমানে সেখানে এক ধরনের পরীক্ষা চলছে। একদিকে মার্কিন সহায়তায় জাহাজগুলো প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইরানের জাহাজগুলো সেখানে অবাধে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মূলত এটি দুই পক্ষের মধ্যে একে অপরের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টির লড়াই। এই চাপের মাধ্যমেই সংঘাত নিরসনে আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে কি-না, তা এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন এই বিশ্লেষক।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের নাম ‘এপিক ফিউরি’ থেকে পরিবর্তন করে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বা ‘অপারেশন ফ্রিডম’ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত সন্দিহান মিত্র দেশগুলোকে এই অভিযানে পাশে পেতেই ওয়াশিংটন এমন কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাজনৈতিক ও সামরিক বিষয়ক সহকারী স্টেট সেক্রেটারি মার্ক কিমিট আল-জাজিরাকে বলেন, অভিযানের নাম পরিবর্তন কোনো লক্ষ্যহীন পদক্ষেপ নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত মোড়। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন তার মিত্রদের বোঝাতে চায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও সার রপ্তানি পুনরায় চালু করার মতো ‘যৌক্তিক কারণ’ এই মিশনের পেছনে রয়েছে।

কিমিট আরো জানান, ‘এপিক ফিউরি’ নামটি একটি আক্রমণাত্মক অভিযানের ইঙ্গিত দিলেও ‘অপারেশন ফ্রিডম’ নামটি এই যুদ্ধকে মানবিক ইস্যু হিসেবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে।

এদিকে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া ১৪ দফার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া খুব একটা ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ না হলেও কিমিট মনে করেন, আলোচনার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

তবে পারমাণবিক ইস্যুতে দুই পক্ষ এখনো একে অপরের থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে। তিনি পরামর্শ দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ সচল রাখার মতো আঞ্চলিক স্বার্থগুলোর ওপর গুরুত্ব দিলে প্রকৃত আলোচনার পথ প্রশস্ত হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন