ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও দর-কষাকষির পথ প্রশস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন রাজনীতিকদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে লেবানন সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে গভীর মতভেদ দেখা দিয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীসহ রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ আলোচনার এই ধারা অব্যাহত রাখতে চান। তাদের মতে, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একমাত্র পথ এটিই।
গতকাল লেবাননের প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়েছেন, তিনি চান না তার দেশ আঞ্চলিক কোনো স্বার্থের গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হোক।
তার এই মন্তব্য মূলত হিজবুল্লাহ ও ইরানের প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে, যারা লেবাননের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনাকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহর দাবি, লেবানন সরকারের হাতে ইসরাইলকে চাপে ফেলার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা নেই, কারণ লেবাননের সেনাবাহিনী এই লড়াইয়ে সরাসরি যুক্ত নয়।
হিজবুল্লাহর যুক্তি হলো যেকোনো কিছু আদায়ের জন্য ইরানের সমর্থন এবং ইসরাইলে ইরানি হামলার হুমকি বজায় রাখা জরুরি।
লেবাননের পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহ ব্লকের নেতা মোহাম্মদ রাদ বলেছেন, যে যুদ্ধবিরতি ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা সম্পূর্ণ বন্ধের নিশ্চয়তা দেয় না, তা মূলত আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার একটি অজুহাত মাত্র।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় আলোচনায় বসার পরিণতি ১৯৮৩ সালের ১৭ মে-র চুক্তির চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। ওই চুক্তিটি লেবানন থেকে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও বাস্তবে তা গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, যার বিভাজন আজও বিদ্যমান।
সূত্র : আল-জাজিরা
এএ,
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

