ইরান ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন ইরানের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদার।
চীন ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করে থাকে। ধারণা করা হয়, এই তেল বাণিজ্য ইরানের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংঘাত শুরুর আগেও চীনের মোট সমুদ্রপথে আমদানি করা তেলের প্রায় ১৩ শতাংশই ইরান থেকে আসত, যা তুলনামূলকভাবে কম দামে কেনা হতো।
চীনের দৃষ্টিতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ। ফলে বেইজিং চায়, ইরান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল থাকুক এবং শক্তিশালী হোক।
এই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে জ্বালানি, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ইরানও চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে, তেল কেনাবেচায় চীনা মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহারের প্রচার করছে ইরান, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের প্রভাব বাড়াতে সহায়ক।
সব মিলিয়ে, ইরান-চীন সম্পর্ক শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


