ইসরাইলপন্থি সংগঠনকে বিপুল অর্থ অনুদান গাজা শান্তি পর্ষদ নেতার

ইসরাইলপন্থি সংগঠনকে বিপুল অর্থ অনুদান গাজা শান্তি পর্ষদ নেতার
ছবি: সংগৃহীত

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত শান্তি পর্ষদের (বোর্ড অব পিস) এক সদস্য ইসরাইলি লবিং গ্রুপ আইপ্যাকের সংশ্লিষ্ট সংগঠন ইউডিপি ও সুপার প্যাককে ১৫ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। শুক্রবার তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আমেরিকার ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের নথিপত্র যাচাই করে প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে।

শান্তি পর্ষদের ওই সদস্য মার্ক রোয়ান আমেরিকার একজন ধনকুবের। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান তিনি। তার মোট সম্পদ ৮০০ কোটি ডলারের বেশি।

বিজ্ঞাপন

অনুদানের বিষয়টি প্রথম আমেরিকান সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্টে প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নিয়মিতই ইসরাইলকে সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহকেন্দ্রিক ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন ও অর্থ অনুদান দিয়ে আসছেন। গাজায় গণহত্যার মধ্যেও তার এ সহায়তা অব্যাহত ছিল।

ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের বৈঠকে মার্ক রোয়ান যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এর সম্ভাবনা অভূতপূর্ব। অর্থ বা সম্পদের কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা শান্তি প্রতিষ্ঠার।’

ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে আইপ্যাক-সংশ্লিষ্ট ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্টকে (ইউডিপি) ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন। একই দিন লবিং গ্রুপটির সংশ্লিষ্ট অপর সংগঠন সুপার প্যাককে পাঁচ লাখ ডলার দেন তিনি।

ইউডিপি অনুদানের অর্থ মিসৌরিতে ডেমোক্রেটদলীয় সাবেক সিনেটর করি বুশের বিরুদ্ধে ইসরাইলপন্থি রিপাবলিকানদলীয় বর্তমান সিনেটর ওয়েসলি বেলের প্রচারে ব্যয় করে। অন্যদিকে সুপার প্যাক অনুদানের অর্থ মিশিগানে ফিলিস্তিনপন্থি সিনেট সদস্য প্রার্থী আবদুর রহমান আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। উপত্যকার স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে প্রায় তিন বছরের নির্মম গণহত্যার প্রতিবাদে সারা বিশ্বের মতো আমেরিকায়ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মার্ক রোয়ান এ বিক্ষোভকে ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ হিসেবে মন্তব্য করে আসছেন।

গাজাকে ২০০৭ সাল থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। অবরোধের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপত্যকায় প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে ইসরাইলি সেনারা। এমনকি বেসামরিক ত্রাণ সরবরাহেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। আগ্রাসনের মধ্যে এ অবরোধ আরো জোরদার করা হয়েছে। ত্রাণ সহায়তা নিয়ে বেশ কয়েক দফা অধিকারকর্মীরা গাজায় যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুরো বহর আটক করে তাতে বাধা দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

নতুন করে আবার গাজায় ত্রাণবহর পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন। শনিবার এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, অক্টোবরে এ ত্রাণবহর পাঠানো হবে। ‘গাজায় ইসরাইলের অবৈধ ও প্রাণঘাতী অবরোধ’ চ্যালেঞ্জ করেই উপত্যকাবাসীর জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে নৌবহর যাবে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে সবশেষ ত্রাণবহর গাজায় যাওয়ার চেষ্টা করলে ইসরাইলি বাহিনী তা আটক করে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন