যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা তেহরানে যাচ্ছেন।
রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টির বেশি দেশের সিনিয়র কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে ইরান।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ তেহরানে যাবেন। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।
জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। কিউবার পক্ষ থেকে দেশটির উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা অংশ নেবেন।
ভারত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। দলে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটাও।
চীনও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠাবে।
দাফন আয়োজন কমিটির প্রধান এবং ইরানের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর পোরজামশিদিয়ান জানিয়েছেন, ৩০টির বেশি দেশ এবং ৯০টিরও বেশি দেশের ধর্মীয় নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বহুদিনব্যাপী এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে ইরানি কর্মকর্তারা আশা করছেন। তারা জানিয়েছেন, এটি হবে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাফন অনুষ্ঠান।
শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রেয়ার কমপ্লেক্সে খামেনির লাশ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। সোমবার ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রার মাধ্যমে তেহরানে মূল দাফন অনুষ্ঠান হবে।
এরপর ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোম, ৮ জুলাই ইরাক এবং ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফেও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে সমন্বয়ের জন্য সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বাগদাদ সফর করেন।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার প্রথম দিনে তেহরানে তার বাসভবনে হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।
পরে মার্চ মাসে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস তার ছেলে আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


