গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের ৭ দিনের মধ্যে মিরাজ শেখকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেছেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র ৫৭ দিনের মাথায় মিরাজ শেখকে গুমের মধ্য দিয়ে সরকার শেখ হাসিনা আমলের মতো গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জেডিপি আয়োজিত “গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম গুম: মিরাজ শেখ কোথায়?” শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন নাঈম আহমাদ।
নাঈম আহমাদ বলেন, গুমের পথ উন্মুক্ত করতেই সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করেছে। সরকারের প্রণীত নতুন আইন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার কথা বলা হলেও মিরাজ গুমের ১৩৩ দিন পার হয়ে গেছে। অথচ সরকার এখনো ঘটনাটি অস্বীকার করছে।
তিনি বলেন, “মিরাজ বেঁচে আছেন কি না, নাকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন সাহেবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইলিয়াস আলীর মতো মিরাজকেও হত্যা করে সুন্দরবনের নোনা জলে ভাসিয়ে দিয়েছে—তা আমরা জানতে চাই।”
জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, মিরাজ শেখকে গুম এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলের ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। কারণ, গত ৩ এপ্রিল গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, অধ্যাদেশটি বাতিল করা হচ্ছে। এর মাত্র সাত দিনের মাথায় ১০ এপ্রিল মিরাজ শেখকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাঈম আহমাদ আরও বলেন, গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ অনুমোদন করেছে। এই আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ করা হলে সেই অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে পুলিশ। তাঁর ভাষায়, “এই তদন্তে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে—এ কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ, কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিই গ্রহণ করেনি পুলিশ।”
তিনি বলেন, “এই আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। কোস্ট গার্ড গুমের অভিযোগ অস্বীকার করছে। এমনও হতে পারে, এই আইনের অপব্যবহার করে উল্টো মিরাজের পরিবারকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হতে পারে।”
মিরাজ শেখের বর্তমান অবস্থা অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়ে নাঈম আহমাদ বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী এ ধরনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের ওপর যেকোনো ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ দূর করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে হবে এবং জুলাইয়ের অঙ্গীকার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।
জেডিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহতাব হোসেন সাব্বিরের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন জেডিপির সদস্য সচিব এডভোকেট আব্দুল আলিম, প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত, যুগ্ম আহ্বায়ক ফুয়াদ জামান, ইঞ্জিনিয়ার আইমান আন্দালিব, আবদুল হামিদ, আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় ছাত্র মঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ প্রমুখ।
উল্লেখ, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার জেলে মিরাজ শেখকে গুম করার অভিযোগ উঠেছে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই গুমের প্রথম ঘটনা বলে ধারণা করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


