মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি

আমার দেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো-

বিজ্ঞাপন

‘ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে চায় না’: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া তার এক পোস্টে বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে চায়, ‘যাতে তারা প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে।’ প্রণালী বন্ধ থাকলে এই আয় হারানোর ঝুঁকি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে মার্কিন অবরোধ বজায় রাখা ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য জরুরি।

তিনি আরও বলেন, চার দিন আগে অনেকেই আমার কাছে এসে বলেছে, ‘স্যার, ইরান অবিলম্বে প্রণালি খুলতে চায়।’ কিন্তু আমরা যদি তা করি, তাহলে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্ভব হবে নাÑ যদি না আমরা তাদের দেশের বাকি অংশ, এমনকি নেতৃত্বও ধ্বংস করি!

পরবর্তী আরেক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরান আর্থিকভাবে ধসে পড়ছে!’

তিনি অভিযোগ করেন, দেশটি ‘অর্থের জন্য হাহাকার করছে’ এবং ‘সামরিক ও পুলিশ সদস্যরা বেতন না পাওয়ায় অভিযোগ করছে।’

-ইরানের বন্দর অবরোধ-

ইসলামাবাদে প্রথম দফা আলোচনা শেষে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই অবরোধ বহাল থাকবে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যেই খার্গ দ্বীপের মজুত পূর্ণ হয়ে যাবে এবং দুর্বল ইরানি তেলকূপগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের সমুদ্র বাণিজ্য সীমিত করলে তাদের ‘প্রধান আয়ের উৎস’ লক্ষ্যবস্তুতে পড়বে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গোপন বাণিজ্য বা অর্থায়নের মাধ্যমে এ সব কার্যক্রমে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়বে।’

-যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন ট্রাম্প,অবরোধ বহাল-

ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন, যাতে শান্তি আলোচনার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়। বুধবার ভোর পর্যন্ত এ বিষয়ে তেহরানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, সংঘাত শেষের প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি ‘আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই ঘোষণা আসে।

-উপসাগরের তেলে হুমকি ইরানের-

ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

গার্ডের মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার মাজিদ মুসাভি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেন, ‘দক্ষিণের প্রতিবেশীরা জেনে রাখুক, তাদের ভূগোল ও স্থাপনা যদি শত্রুর সেবায় ব্যবহৃত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকে বিদায় জানাতে হবে।’

-ভ্যান্সের যাত্রা বিলম্ব-

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আসন্ন আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তিনি ওয়াশিংটনেই অবস্থান করেন।

গ্রিনিচ মান সময় ১৭০০ টার কিছুক্ষণ পরে এএফপিকে পাঠানো একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে একজন কর্মকর্তা জানান, হোয়াইট হাউস জানায়, তিনি অতিরিক্ত নীতিনির্ধারণী বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন ভ্যান্স।

-লেবাননের ৫০০ মিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন-

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম মঙ্গলবার প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে চলমান সংঘাতের মানবিক সংকট মোকাবিলায় আগামী ছয় মাসে দেশটির ৫০০ মিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন।

-ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা-

হিজবুল্লাহ জানায়, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে মঙ্গলবার তারা ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এটিই তাদের প্রথম এমন দাবি।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের একটি শহরে গোলাবর্ষণের উৎস বলে দাবি করা একটি স্থাপনায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

-লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,৪৫৪ জন-

ইসরাইল-হিজবুল্লাহর ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৪৫৪ জনে। ১০ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।

-নাবিকদের ‘এসওএস’-

জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থার প্রধান উপসাগরে আটকে পড়া হাজারো নাবিকের জন্য সহায়তা চেয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২০ হাজার নাবিক ও ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে।

-ইরানি প্রতিনিধিদল যায়নি-

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলেছে, ‘এখন পর্যন্ত ইরান থেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদের উদ্দেশে কোনো প্রতিনিধিদল রওনা হয়নি; তা মূল বা সহায়ক, প্রাথমিক বা দ্বিতীয়Ñ কোনো প্রতিনিধিদলই হোক না কেন।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, নতুন দফা শান্তি আলোচনার জন্য একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল ‘শিগগিরই’ পাকিস্তানে যাবে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন