মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটি বলেছে, সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই ডিজিটাল ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঋণ আদায়ের নামে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা বৈধ নয়। বিএফআইইউ জানিয়েছে, মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার জন্য এসব অননুমোদিত মাধ্যমকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সংস্থাটি বলেছে, এসব অননুমোদিত ঋণ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তথ্য, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে ঋণ আদায়ের নামে ঋণগ্রহীতাদের ওপর অযাচিত চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকির মতো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, অননুমোদিত আর্থিক লেনদেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বিএফআইইউ বলেছে, এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও অর্থপাচারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ অর্থপাচারের একটি সম্পৃক্ত অপরাধ এবং আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য।
জনসাধারণকে অপরিচিত কোনো মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ঋণের প্রলোভনে কোনো অপরিচিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য, পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য কিংবা মোবাইল ফোনের সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঋণ দেওয়ার নামে অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং ফি বা অন্য কোনো অর্থ দাবি করা হলে সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছে বিএফআইইউ।
বিএফআইইউর নজরে এ পর্যন্ত ৩১টি অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপের তথ্য এসেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈয্য লোন, ফিন ডট ডু, টাকা ক্যাশ লোন, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও অ্যাপ।
অননুমোদিত প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নিয়ে প্রতারণার শিকার হলে অথবা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য থাকলে বিএফআইইউতে অভিযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

