নিয়াজ মুর্তজার বিশ্লেষণ

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি শাসনে রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ার শঙ্কা পাকিস্তানে

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি শাসনে রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ার শঙ্কা পাকিস্তানে

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারির পদক্ষেপ দেশটির রাজনৈতিক সংকট আরো গভীর করতে পারে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশটির প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেও রাজনৈতিক সমর্থন ও জনআস্থা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার প্রচেষ্টাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই সামরিক শক্তি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমঝোতা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং কার্যকর নিরাপত্তা কৌশলের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

‘পলিটিকস অর ওয়ার’ শীর্ষক এক নিবন্ধে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যকার বিরোধ, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি ও গভর্নর শাসন জারির সিদ্ধান্ত এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের কৌশল নিয়ে এমন বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিরোধ নিষ্পত্তিতে আলোচনা, যুক্তি ও সমঝোতার পরিবর্তে ক্রমেই বলপ্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক বিরোধ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে সমাধান না হয়ে রাজপথের সংঘাতের দিকে গড়াচ্ছে।

পাকিস্তানের গণতন্ত্রে অক্টোবরের অন্ধকার অধ্যায়

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে অক্টোবর মাস বারবার সংকট ও ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী হয়েছে। দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড, ১৯৫৪ সালের জরুরি অবস্থা, ১৯৫৫ সালের ‘ওয়ান ইউনিট’ পরিকল্পনা, ১৯৫৭ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ক্ষমতাচ্যুতি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৯৯ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মতো ঘটনা দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। সিন্ধু প্রদেশে গভর্নর শাসন জারির ঘটনাও এই ধারাবাহিকতার অংশ।

বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা আরো ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। বিতর্কিত নির্বাচনী ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত সংসদকে দলীয় স্বার্থে আইন প্রণয়ন ও রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ানোর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতও অনেকের কাছে নিরপেক্ষ বিচারকের পরিবর্তে পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাহী বিভাগ ভিন্নমত মোকাবিলায় বলপ্রয়োগকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান না হলে সংঘাত রাজপথে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। রাষ্ট্র রাজপথের আন্দোলন সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও সংঘাত সশস্ত্র প্রতিরোধের পর্যায়ে পৌঁছালে তা দমন করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

পিটিআইয়ের সঙ্গে কেন্দ্রের বিরোধ

কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান স্পষ্ট। পিটিআইয়ের নেতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আদালতের দেওয়া সুযোগ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছিল দলটি। কিন্তু এসব সীমিত দাবির প্রতিও কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। শেষ পর্যন্ত খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি ও গভর্নর শাসন জারির পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত শাসন ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের কারণে পাকিস্তানে অবাধ নির্বাচন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির মতো বৃহত্তর দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের যৌক্তিকতা রয়েছে। সেই তুলনায় ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি ছিল সীমিত পরিসরের।

২০২৩ সাল থেকে পিটিআইয়ের ওপর চলমান রাজনৈতিক চাপ ও দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতাও দলটির বর্তমান অবস্থানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে দলটিরও নিজস্ব সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক দুর্বলতা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ছিল প্রথমে নিজেদের নীতিগত দুর্বলতা সংশোধন করা এবং এরপর পিটিআইকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে উৎসাহিত করা। কিন্তু সমঝোতার পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের পথে এগোনোয় রাজনৈতিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আফগান নাগরিকদের বিতাড়ন নিয়েও প্রশ্ন

পাকিস্তানে অবস্থানরত আফগান নাগরিকদের বিতাড়নে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নীতিও সমালোচিত। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের কর্মকাণ্ডের দায় সাধারণ আফগান নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়।

পাকিস্তানে বসবাসরত অনেক আফগান দেশটির অর্থনীতি, পুঁজি ও শ্রমবাজারে অবদান রাখছেন। বিদেশে চলে যাওয়া বহু পাকিস্তানির কারণে শ্রম ও পুঁজির যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, আফগান নাগরিকদের অবদান তার কিছুটা পূরণ করছে।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ তালেবান সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির বড় ভুক্তভোগী। এ অবস্থায় আফগান নাগরিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা নির্বিচারে বিতাড়ন দুই দেশের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিও ঘটাতে পারে।

পাকিস্তানে বসবাসরত সাধারণ আফগানদের সবাইকে সীমান্তের ওপারে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) প্রশিক্ষণশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মনে করারও ভিত্তি নেই। তাদের অনেকেই এসব শিবির থেকে দূরে রয়েছেন। ফলে সবাইকে সম্ভাব্য জঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত নয়।

তবে জোরপূর্বক বিতাড়নের ফলে কিছু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বঞ্চনাবোধ তৈরি হলে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নতুন সদস্য সংগ্রহের সুযোগ পেতে পারে। অর্থাৎ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপই উল্টো নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

সন্ত্রাসবাদ দমনে কার কতটা দায়

খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পিটিআইকে দায়ী করলেও সমস্যাটির দায় এককভাবে প্রাদেশিক সরকারের ওপর চাপানো যায় না। জঙ্গিরা সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানে প্রবেশ করলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দেশের অভ্যন্তরেও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা প্রাদেশিক পুলিশের তুলনায় বেশি। ফলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে।

বড় আকারের সামরিক অভিযান চালালে খাইবার পাখতুনখোয়ার স্থানীয় জনগণ আবারও বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। এ ধরনের অভিযানের বিরোধিতা রয়েছে প্রদেশটির অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মধ্যেও। তাই নির্বিচার বা ব্যাপক সামরিক অভিযানের পরিবর্তে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক কমান্ডো অভিযান এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা তুলনামূলকভাবে কার্যকর ও মানবিক হতে পারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ছিল এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সন্ত্রাসবাদ দমনের কৌশল নির্ধারণ করা। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে প্রাদেশিক সরকারকে দুর্বল করার উদ্যোগ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় আরো কঠিন করে তুলতে পারে।

জরুরি শাসনে বাড়তে পারে রাজনৈতিক ক্ষোভ

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারির সিদ্ধান্তকে নিবন্ধকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনায় অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক আলোচনা চলার পাশাপাশি আন্দোলন ও পদযাত্রার পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত সমঝোতার সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে।

এই পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রদেশটির প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারে। কিন্তু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অর্জন আর রাজনৈতিক বৈধতা বা জনসমর্থন নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়।

নির্বাচিত রাজনৈতিক কাঠামোকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা বিরোধী পক্ষের ওপর চাপ বাড়ানোর ফলে পিটিআইয়ের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ আরো বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দলটি নিজেদের রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবে। এতে রাজনৈতিকভাবে পিটিআই লাভবানও হতে পারে।

বর্তমান পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থা বিপুল ক্ষমতা অর্জন করলেও তা কার্যকর জনসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সাফল্যে রূপান্তরিত হয়নি। অস্থির খাইবার পাখতুনখোয়ায় অস্থায়ী ও অজনপ্রিয় প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে কার্যকর শাসন প্রতিষ্ঠা করা আরো কঠিন হতে পারে।

অতীতের বিভিন্ন সংঘাতের অভিজ্ঞতা বলছে, রাজনৈতিক বিরোধে রাষ্ট্র সহজে প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখতে পারলেও সংঘাত সশস্ত্র প্রতিরোধের পর্যায়ে পৌঁছালে তা নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিরোধীদের সঙ্গে ‘কে জিতবে, কে হারবে’—এমন মানসিকতা নিয়ে এগোনোর পরিবর্তে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।

শুধু অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল সম্ভব নয়

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সামরিক শক্তি ও অস্ত্রের পাশাপাশি জনসমর্থনও অপরিহার্য। খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি ও গভর্নর শাসনের কারণে স্থানীয় জনগণের সমর্থন কমে গেলে সামরিক শক্তি দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হবে।

সীমান্তের ওপারে টিটিপির প্রশিক্ষণশিবিরে বিমান হামলা চালালেও সন্ত্রাসবাদের মূল কারণগুলো থেকে যেতে পারে। একইভাবে কঠোর ভ্রমণ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেও সীমান্তের দুর্বল ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়, যদি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আইন প্রয়োগ ও সীমান্ত নজরদারির সক্ষমতা যথেষ্ট না হয়।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুগত রাজনৈতিক অংশীদারদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালিত হলেও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা যায়নি। খাইবার পাখতুনখোয়াতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশটিতে অনুগত রাজনৈতিক অংশীদার পেতে পারে, কিন্তু সেই অংশীদারের জনসমর্থন, রাজনৈতিক বৈধতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা দুর্বল হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করা যাবে না।

সন্ত্রাসবাদ দমনের কার্যকর কৌশলে সামরিক অভিযান, স্থানীয় অভিজ্ঞতা, জনগণের সহযোগিতা এবং শক্তিশালী সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সমন্বয় থাকতে হবে। শুধু বলপ্রয়োগের ওপর নির্ভর করলে সমস্যার মূল কারণগুলো অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে।

সমঝোতার বদলে সংঘাত বাড়ানোর ঝুঁকি

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে ‘কে জিতবে, কে হারবে’—এমন মানসিকতা নিয়ে এগোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ সংকুচিত করছে। আইন, প্রাতিষ্ঠানিক রীতি, যুক্তি, সমঝোতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিবর্তে বলপ্রয়োগকে প্রাধান্য দিলে সংঘাত আরো বিস্তৃত হতে পারে।

এ কারণে পিটিআইসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় অভিন্ন কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন কেন্দ্রীয় সরকারকে সাময়িক প্রশাসনিক সুবিধা দিতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক সমর্থন, স্থানীয় জনগণের আস্থা ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে এসব পদক্ষেপ কাজ করবে না।

রাজনৈতিক সমঝোতা ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাকে উপেক্ষা করে শুধু শক্তি প্রয়োগের ওপর নির্ভর করলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার খাইবার পাখতুনখোয়ায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেও সন্ত্রাসবাদ দমনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবে না। বরং এমন নীতি রাজনৈতিক ক্ষোভ বাড়িয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...