সারা দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ক্রয়নীতি শিথিল করে এবং বাড়তি দাম দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না সরবরাহকারী। ফলে গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গ্যাসের অভাবে চুলা জ্বলছে না, শিল্পের চাকা ঘুরছে না। সিএনজি পাম্পগুলোয় দীর্ঘতর হচ্ছে ক্রেতার লাইন। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে দিন-রাতের একটা বড় অংশ। সংকটে পড়ে শিল্পোৎপাদনে মারাত্মক ভাটা পড়েছে। গ্যাসভিত্তিক কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার ৭০ শতাংশই অব্যবহৃত থাকছে। ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে গেছে তৈরি পোশাকশিল্প খাতের উৎপাদন। স্বাভাবিক কারণেই হুমকিতে পড়েছে রপ্তানিমুখী শিল্প খাত। গ্যাস-বিদ্যুতের এই সীমাহীন সংকটে নাকাল দেশবাসী।
গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি পাম্প ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসের প্রেশার অত্যন্ত কমে গেছে। ফলে দিনের একটা অংশ সিএনজি বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যখন চালু থাকছে, তখন অধিকাংশ সরবরাহ কেন্দ্র বন্ধ রেখে এক বা দুটি দিয়ে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ তিন থেকে চার ঘণ্টা লাইন ধরে যারা পাম্পের সামনে আসতে পারছেন, তারাও ট্যাংক ভরে সিএনজি নিতে পারছেন না। একবারে ৮০ থেকে ১০০ টাকার বেশি জ্বালানি ঢুকছে না গাড়িতে। ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের চোখে-মুখে দেখা যায় রাজ্যের হতাশা।
হতাশার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে গৃহিণীদের কণ্ঠেও। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে রাজধানীর শান্তিনগরের গৃহিণী নাজমা আকতার গতকাল আমার দেশকে বলেন, আমরা শুধু শুধু গ্যাসের বিল দিচ্ছি। দিনের বেলায় চুলা জ্বলছেই না। রাতে সামান্য গ্যাস এলেও বিদ্যুতের আসা-যাওয়া সারাদিন লেগেই থাকে। গ্যাসের অভাবে বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করতে গিয়ে সেখানেও হোঁচট খেতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, উপায় না পেয়ে সিলিন্ডার গ্যাস কিনেছি। সবগুলো সুযোগই রেখেছি যেন একটি হারালে অন্যটি কাজে লাগানো যায়।
ঘাটতি ১,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট
পেট্রোবাংলার তথ্যানুযায়ী গতকাল সোমবার সারা দেশে ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২,৪০০ থেকে ২,৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতি ছিল ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে এসেছে ৭৪০ থেকে ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশি কূপগুলো থেকে উৎপন্ন হয়েছে ১,৬১৫ থেকে ১,৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে শেভরন থেকে ৮৭০, বাংলাদেশ গ্যাসকূপ থেকে ৪৭৭, সিলেট গ্যাসকূপ থেকে ১৩৯, বাপেক্স থেকে ৯৬ এবং তাল্লো গ্যাপকূপ থেকে গতকাল ৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। যদিও গ্যাসকূপগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা ২,৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ভাসমান টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা ১,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
প্রাপ্ত গ্যাস থেকে গতকাল বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এছাড়া শিল্পের জন্য ৫৫০ থেকে ৫৮৫ মিলিয়ন, সার উৎপাদনে ৮০ থেকে ৯০ মিলিয়ন এবং আবাসিক ও সিএনজি পাম্পের জন্য ২৭০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গতকাল গ্যাসের চাহিদা ছিল ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এছাড়া শিল্পের জন্য ১,১০০ থেকে ১,২০০, সার উৎপাদনে ২৫০ থেকে ৩০০ এবং আবাসিক ও সিএনজি পাম্পের জন্য ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিল্পকারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট বেড়েছে, চুলায় আগুন কমেছে, বিদ্যুৎহীনতায় দীর্ঘ সময় থাকতে হয়েছে এবং সিএনজি পাম্পগুলোয় গ্রাহকদের অপেক্ষমাণ লাইন আরো দীর্ঘ হয়েছে।
যদিও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের দাবি, আগের চেয়ে সরবরাহ বেড়েছে। এলএনজি যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তার মাধ্যমে সরবরাহ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর বাইরে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির অধীন এলএনজি আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুতের ঘাটতি ২,২০০ মেগাওয়াট
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে বিদ্যুতের পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ১৬,২০০ থেকে ১৬,৫০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে দেশের কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন ও আমদানি যোগ করে গতকাল সরবরাহ করা হয় ১৪,৩০০ মেগাওয়াট। ফলে দেশজুড়ে ২,০০০ থেকে ২,২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় এই ঘাটতি তৈরি হয় বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে গতকাল ১২,১৫৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে ৫,৫০০ থেকে ৫,৮০০ মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৭,৯৪৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে ৩,৮০০ থেকে ৪,১০০ মেগাওয়াট। ভারত সরকার ও আদানি থেকে গতকাল আমদানি হয়েছে ১,৬০০ থেকে ১,৭৫০ মেগাওয়াট। তরল জ্বালানি থেকে ৬,৪০৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে ২,০০০ থেকে ২,২০০ মেগাওয়াট। নবায়নযোগ্য ও জলবিদ্যুৎ থেকে এসেছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টরা জানান, পায়রা, মাতারবাড়ী ও নরিংকো কেন্দ্রে যান্ত্রিক এবং জ্বালানি সীমাবদ্ধতায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত বেসরকারি কেন্দ্রগুলো উচ্চ ব্যয়ে সীমিত আকারে চালানো হচ্ছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে শুধু দিনের বেলা পিক আওয়ারে সাপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে ডিপিডিসি ও ডেসকোর নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় গতকাল বিদ্যুতের ২৫০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি ছিল। ফলে এসব এলাকায় দিনে দুই থেকে তিনবার এবং রাতে তিন থেকে চারবার লোডশেডিং হয়। গাজীপুর ও সাভার শিল্পাঞ্চলে ক্যাপটিভ পাওয়ারে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলস্বরূপ এসব শিল্প এলাকায় গতকাল তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়।
পল্লী বিদ্যুতের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় গতকাল বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি ছিল সবচেয়ে বেশি। কোনো কোনো পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে চাহিদার মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে এসব এলাকার গ্রাহককে গতকাল ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয় বলে স্বীকার করেছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববাজারে এলএনজি সংকট চরমে
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে চরম চাপে পড়েছে সরকার। পেট্রোবাংলা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তিন দফা দরপত্র আহ্বান করেও চলতি আগস্ট মাসের জন্য তিন কার্গো এলএনজি সরবরাহকারী পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে আরো বেশি দামে এবং বেশি সময় নিয়ে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
সূত্রমতে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়াদেশ দেওয়া এলএনজির একটি কার্গোও দেশে না আসায় বিপাকে পড়েছে সরকার। ফলে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না, কাটছে না সংকট। আবার প্রতি দরপত্রে এলএনজির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ডিপিএম না করে আগে দরপত্র ডাকা হলে কম দামে এলএনজি পাওয়া যেত বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, গত ৬ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত জানুয়ারিতে এশিয়ার স্পট বাজারে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ১০ থেকে ১১ ডলার। এপ্রিলের শেষদিকে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ থেকে ১৫ ডলার। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ২২ ডলারে পৌঁছায়। বর্তমানে সরকার ২২ থেকে ২৫ ডলার দরে এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আগস্টে তিনটি ও সেপ্টেম্বরে প্রথম সপ্তাহের জন্য দুটি এলএনজি কার্গো কিনতে ১৭ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করে সরকার। ২৩-২৪ আগস্ট ও আগামী ৪-৫ সেপ্টেম্বর দুটি কার্গো সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ ২২ ডলার দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। অন্য তিনটির জন্য আবার দরপত্র আহ্বান করা হয় ১৮ আগস্ট। এতে ১-২ সেপ্টেম্বরের জন্য ২৪ ডলারের নিচে দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় সৌদি আরামকো। তৃতীয় দফায় ১৯ আগস্ট দুটি কার্গোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ২৬-২৭ আগস্টের কার্গো সরবরাহ করতে ২৫.৩১ ডলার দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় বিপি।
সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি
জাতীয় গ্রিডে দ্রুত পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকারের উচিত গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করার একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো। তা না হলে উদ্যোক্তাদের পক্ষে উৎপাদন পরিকল্পনা, কাঁচামাল কেনা, শ্রমিক ব্যবস্থাপনা, ক্রেতাদের সঙ্গে সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া; সর্বোপরি শিল্পের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়ে তারা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা শিল্পের জন্য সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু আমার দেশকে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে রপ্তানি বাণিজ্যে চরম দুর্দিন নেমে আসবে।
এদিকে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সমাধানে আরো দুবছর সময় লাগবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা চাইলেই কাল সকালে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে পারব না; গ্যাসও দিতে পারব না। সময় লাগবে। তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এ কারণে সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। তেল-গ্যাসের কথা তো আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিশীলতা ও স্থিতিশীলতা থেকে সমৃদ্ধির দিকে যাওয়ার জন্যই দুবছর সময়ের কথা বলছেন বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
দুই কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ
এদিকে আগামী মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের জন্য দুই কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জ্বালানি আসবে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে। প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের (এমএমবিটিইউ) দাম পড়বে ২৪ ডলারেরও বেশি। গতকাল সোমবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারের ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই আমদানি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই এলএনজি কেনা হচ্ছে।
আগামী ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর সময়ে সরবরাহ করার শর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান ট্রেডিং ও এনার্জি কোম্পানি পোসকে ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে কেনা এলএনজির দাম পড়বে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬২৫ ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরে সরবরাহের শর্তে এক কার্গো এলএনজির প্রতি এমএমবিটিইউর দাম পড়বে ২৪.২৫ ডলার।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩.৯৩ ডলার দরে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

