মহাসড়কে নিরাপত্তার দাবিতে জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের পাশাপাশি সকাল থেকে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ রয়েছে। পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
অন্যদিকে ফিটনেসবিহীন রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে গঠিত আন্দোলনকারীরা। মানববন্ধন চলাকালে বাস শ্রমিকদের হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন। আহতদের মধ্যে আদিব সৌরভ, আলিমুল ইসলাম ও এহসানুল হক জীবনের নাম জানা গেছে। তারা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের লাহিরীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন নিহত হন। এ ঘটনার পর রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার জামালপুরের নান্দিনা এলাকায় রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধের দাবিতে আন্দোলন হয়। আন্দোলনের পর দুর্বৃত্তরা দুটি বাসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জামালপুর থানায় মামলা হয়েছে।
বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর পরিবহন শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে রাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাসে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা বাস-মিনিবাস চালক শ্রমিক ইউনিয়ন। বাসের পাশাপাশি সকাল থেকে সিএনজি চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা এবং টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকাগামী বিভিন্ন রুটে প্রায় ৩০০ বাস চলাচল করে। এসব বাস বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে ছোট যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বাসস্ট্যান্ডে এসে বাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও ময়মনসিংহগামী যাত্রীদের বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এদিকে বাস শ্রমিক ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, অন্যদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন—দুই পক্ষের কর্মসূচির চাপে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
আন্দোলনকারী এহসানুল হক জীবন অভিযোগ করে বলেন, জামালপুরে ভালো বাস সার্ভিস চালু হতে দিচ্ছে না একটি সংঘবদ্ধ পরিবহন সিন্ডিকেট। তার দাবি, ফিটনেসবিহীন রাজীব পরিবহনও ওই চক্রের কারণে চলাচল করছে। এ কারণে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আমলে ফারুক আহমেদ চৌধুরী এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বর্তমানে বিএনপি আমলে এর নিয়ন্ত্রণ ওয়ারেছ আলী মামুনের হাতে রয়েছে।
এহসানুল হক জীবন অবিলম্বে ফিটনেসবিহীন রাজীব পরিবহনের চলাচল বন্ধ, উন্নতমানের বাস সার্ভিস চালু, নেশাসক্ত চালক ও হেলপারদের বাস পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জেলা বাস-মিনিবাস চালক শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, রাজীব বাস ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে না।
জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, এ বিষয়ে আমরা বাসচালকদের সঙ্গে কথা বলব। দ্রুত সময়ের মধ্যে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হবে।
জেলা প্রশাসক ইউসুপ আলী বলেন, বাস শ্রমিক ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা-বার্তা চলছে। বাস ধর্মঘট প্রত্যাহারসহ বিষয়টির সুরাহার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা ও টাঙ্গাইল-ঢাকা রুটে যাত্রী দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

