ভেনেজুয়েলার তেল খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ভেনেজুয়েলায় ফিরে আসার পথ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান দাবি।
কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতির তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংসদে একটি বিল প্রথম পাঠে অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে স্বাধীনভাবে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিলটি দ্বিতীয় পাঠে পাস হলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে কয়েক দশক ধরে চলে আসা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই শিথিল হবে। এই নিয়ন্ত্রণ ২০০০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে আরও কঠোর করেছিলেন প্রয়াত সমাজতান্ত্রিক নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ।
বিলটির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মাদুরোর সাবেক উপ-প্রধান এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রদ্রিগেজের নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেলের একটি অংশ পাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে, কর কমবে। ভেনেজুয়েলা তাদের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো করবে।”
এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে যে, লরা এফ. ডোগুকে ভেনেজুয়েলার নতুন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এর আগে নিকারাগুয়া ও হন্ডুরাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই নিয়োগকে দুই দেশের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৯ সালে নিকোলাস মাদুরোর পুনর্নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক দ্রুত উষ্ণতার দিকে যাচ্ছে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে কারাকাসে আটক করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই মার্কিন কূটনীতিকরা ভেনেজুয়েলায় গিয়ে দূতাবাস পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন। ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, তিনি দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।
এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেলসি রদ্রিগেজ শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন, যদিও ওয়াশিংটনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি।
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে রদ্রিগেজ স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যেতে তার সরকার প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল খাতে সংস্কার এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির ফলে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

