ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবারের এ হামলার পর রাজধানীসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকে। এতে বেশ কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত হিসেবে বিবেচিত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিয়েভে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও বাড়ছে।
মঙ্গলবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত জারির পর আবারও রুশ হামলার মুখে পড়ে কিয়েভ। সতর্কবার্তায় শহরের দিকে ড্রোন ধেয়ে আসার কথা জানানো হয়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দ্রুতগতির একটি ড্রোন ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে আঘাত হানে। এতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং নীল আকাশে ঝাঁঝালো কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব ভলোদিমির গোরবুলিন রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সুস্পিলনেকে বলেন, হামলার সময় তিনি একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন এবং সামান্য আহত হয়েছেন। তবে তার সহকারী, যিনি ভবনের কাছেই ছিলেন, হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
সোমবার রাতে কিয়েভে এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, তারা বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এ সময় ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরটির দিকে এগিয়ে আসছে। ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনটি জার্মান দূতাবাস, একটি ক্যাথেড্রাল, জাতীয় অপেরা ভবন এবং সরকারি ভবনগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও কিয়েভের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক স্থাপনা, সরকারি ভবন ও স্কুল রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এক বিবৃতিতে একাডেমি এ হামলাকে ‘রুশ সন্ত্রাস’ ও ‘বর্বরতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, হামলায় এমন ‘শান্তিপূর্ণ মানুষদের’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যারা নিজেদের কর্মস্থলে ছিলেন।
একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাজধানীতে আরেকটি হামলায় একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্রে রুশ হামলায় চারজন নিহত এবং অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভের একটি আবাসিক এলাকায়ও হামলা হয়েছে। সেখানে হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেৎস্কি জানান, রুশ বাহিনীর হামলায় কিয়েভের পশ্চিমে ঝিতোমির অঞ্চলে একটি আইসক্রিম কারখানা এবং উত্তরের সুমি, উত্তর-পশ্চিমের রিভনে ও দক্ষিণের ওডেসায় আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় রুশ হামলায় ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
এদিকে সোমবার পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের একটি গ্রামেও রাশিয়ার একটি জেটচালিত ড্রোন হামলা চালায়। এতে একটি সীমান্ত চেকপয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

