আসন্ন জুলাই মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মিডল ইস্ট আইকে (এমইই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত এপ্রিলে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং এই জোটের প্রতি তিনি বিরক্ত। তবে গত ২০ মে এরদোয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের কণ্ঠে। সেখানে তিনি আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে অংশ নিতে তুরস্ক সফরের কথা জানান।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, বিগত এক মাসে এরদোয়ান ও ট্রাম্পের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়েছে এবং কোনো ফোনালাপেই ট্রাম্প সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি।
এদিকে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্র বনাম তুরস্কের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আশা করছেন এরদোয়ান।
সূত্র জানায়, এরদোয়ান তুর্কি জাতীয় দলকে সমর্থন করতে প্রায়ই ফুটবল ম্যাচ দেখতে পছন্দ করেন এবং তিনি যদি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান, তবে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে এবং একসঙ্গে ম্যাচ উপভোগ করতে চাইতে পারেন। তবে এই সফরের বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ট্রাম্পের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে এরদোয়ান ওয়াশিংটন সফর করেছিলেন এবং ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টও পাল্টা সফরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে ট্রাম্প তার এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিচিত এবং এখনও কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মিডল ইস্ট আই।
চলতি বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্প ন্যাটো নিয়ে মিশ্র ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। ইউরোপ থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই পোল্যান্ডে সমসংখ্যক সেনা পাঠানোর কথা বলেন তিনি।
কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন
ট্রাম্পের এই সফরের খবরের পর থেকে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা আঙ্কারার ন্যাটো সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) যদি আসেন, তবে সেখানে বিশৃঙ্খলা ও বাগবিতণ্ডা হতে পারে। তবে তিনি যদি না আসেন, তবে তা এই জোটের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হবে।’
অন্যান্য ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সম্মেলনটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার তাগিদ তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা হয়তো বহিরাগত হুমকি থেকে ইউরোপকে আর রক্ষা করবে না।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা আটলান্টিক মহাসাগরের উভয় পারের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই জোটের গুরুত্ব কতখানি, তা ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে কেউ কেউ মনে করছেন, ট্রাম্প যা শুরু করেছেন তা হয়তো এক অনিবার্য পরিণতির দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আয়োজক দেশ হিসেবে তুরস্ক এবং অন্যান্য মিত্রদের জন্য সবচেয়ে ভালো করণীয় হতে পারে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ইউরোপ থেকে আকস্মিক প্রত্যাহারের পরিবর্তে ধীরে ধীরে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের একটি রোডম্যাপ চাওয়া।
একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, ‘আমাদের এমন একটি নতুন কাঠামো প্রয়োজন যা ট্রাম্পের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে এবং একই সঙ্গে ইউরোপের নিরাপত্তাজনিত চাহিদাও পূরণ করবে। তবে এটি সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগবে।’
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


