ব্রিটেনে আবাসন নীতি নিয়ে অসন্তোষ, প্রতিবাদে বার্নহ্যামের স্থানীয়রা

 ব্রিটেনে আবাসন নীতি নিয়ে অসন্তোষ, প্রতিবাদে বার্নহ্যামের স্থানীয়রা

যুক্তরাজ্যে সাবেক একটি বিমানঘাঁটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে দেশ ছাড়ার গণভোট আয়োজনের কথা ভাবছে ইংল্যান্ডের একটি ছোট গ্রাম। সাফোকের বার্নহ্যাম গ্রামের বাসিন্দারা অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রামের অনুসরণে এমন গণভোট আয়োজন করতে পারেন।

বার্নহ্যাম প্যারিশ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জন বাউয়ার জানিয়েছেন, পিডিংটন গ্রামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রায় ৬০০ মানুষের এই গ্রামে প্রস্তাবিত আশ্রয়কেন্দ্র নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাফোকের সাবেক আরএএফ বার্নহ্যাম সামরিক ঘাঁটিকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানটি উপযুক্ত হলে সেখানে ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী একক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বার্নহ্যামের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। ওয়েস্ট সাফোক কাউন্সিল জুলাইয়ে এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতভাবে জানায়, সাবেক আরএএফ ঘাঁটিটি আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার জন্য উপযুক্ত নয়। স্থানীয় পরিষদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, স্থানীয় সেবা ও অবকাঠামোর ওপর চাপ এবং গ্রামটির ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে।

বার্নহ্যামের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনা। সেখানে গত সপ্তাহে একটি অনানুষ্ঠানিক ও প্রতীকী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৯২ শতাংশ ভোটার এতে অংশ নেন। ভোট দেওয়া ৩১২ জনের মধ্যে ২৮৫ জন যুক্তরাজ্য থেকে ‘স্বাধীনতা’র পক্ষে এবং ২৬ জন বিপক্ষে ভোট দেন। একটি ব্যালট বাতিল হয়। তবে এই ভোটের কোনো আইনগত বা সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই।

পিডিংটনের এই প্রতীকী ভোটও আয়োজন করা হয়েছিল স্থানীয় একটি সাবেক সামরিক স্থাপনায় আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদ হিসেবে। পিডিংটনের ভোটের পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে। বার্নহ্যামের স্থানীয় নেতারা মনে করছেন, একই ধরনের প্রতীকী উদ্যোগ নিলে তাদের আপত্তিও কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে আরও জোরালোভাবে আসতে পারে।

তবে ব্রিটিশ সরকার বলছে, সাবেক সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হলে তা হোটেল ব্যবহারের তুলনায় কম ব্যয়বহুল ও ব্যবস্থাপনার দিক থেকে সহজ হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন আরও সমভাবে বণ্টনের চেষ্টা করছে।

সরকারের এই নীতির পেছনে রয়েছে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেল কমানো বা বন্ধ করার পরিকল্পনা। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনায় ব্যয় কমেছে এবং ভবিষ্যতে সাবেক সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য বড় স্থাপনা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় আরও কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বার্নহ্যাম ও আশপাশের এলাকায় অবশ্য বিষয়টি শুধু আবাসন নিয়ে স্থানীয় আপত্তিতে সীমাবদ্ধ নেই। আগস্টে কাছের থেটফোর্ড শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কিত বাড়িঘরকে কেন্দ্র করে কয়েক রাত উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব ঘটনার পর নতুন করে নিরাপত্তা ও সামাজিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বার্নহ্যাম প্যারিশ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জন বাউয়ার বলেছেন, গ্রামের জনসংখ্যা ৬০০-এর কাছাকাছি হলেও সেখানে দোকান বা পাবের মতো মৌলিক বাণিজ্যিক সুবিধাও নেই। তাঁর মতে, এত ছোট একটি গ্রামের পাশে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী রাখার পরিকল্পনা স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি প্রশ্নের বিষয়। তিনি আরও জানিয়েছেন, পিডিংটনের অভিজ্ঞতা দেখে বার্নহ্যামেও প্রতীকী ভোট আয়োজনের কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে আরএএফ বার্নহ্যাম ব্যবহারের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘাঁটিটি বিশেষ পরিবেশগত সুরক্ষা এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে নতুন উন্নয়ন বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন হিসেবে ঘাঁটিটি ব্যবহারের আগে বিভিন্ন অনুমোদন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে।

বার্নহ্যামে প্রস্তাবিত গণভোট শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পিডিংটনের পর দ্বিতীয় একটি ইংরেজ গ্রামে একই ধরনের প্রতীকী ‘স্বাধীনতা’ ভোটের আলোচনা ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থী আবাসন নীতি নিয়ে স্থানীয় অসন্তোষের আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে সরকার বলছে, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের চাপ মোকাবিলায় সাবেক সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের বিষয়টি এখনো সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও ওয়েস্ট সাফোক কাউন্সিল

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...