ব্রিটেনের বিভিন্ন রেলস্টেশন এখন স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে ফুল, গাছ ও সবুজ বাগানে নতুন রূপ পেয়েছে। পরিত্যক্ত ও অবহেলিত জায়গাকে বাগানে পরিণত করে শুধু স্টেশনের সৌন্দর্যই বাড়ানো হয়নি, একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন পরিবেশ। এ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিতে প্রথমবারের মতো ‘রেলওয়ে স্টেশনস ইন ব্লুম’ পুরস্কার চালু করেছে রয়্যাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি (আরএইচএস)।
১৯৬৪ সাল থেকে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় বাসিন্দাদের উদ্যোগে ফুলের ঝুড়ি ও নানা রঙের ফুলের বাগান তৈরি হয়ে আসছে। প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৬০০টি কমিউনিটি আরএইচএসের ‘ব্রিটেন ইন ব্লুম’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এবার রেলস্টেশনের বাগান পরিচর্যায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মান জানাতে আলাদা পুরস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবার পাঁচটি রেলস্টেশনের বাগান চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারের বিজয়ী হয়েছে স্কটল্যান্ডের কার্ডরস কমিউনিটি অর্গানিক গার্ডেন। বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষকে স্টেশনের কার্যক্রমে যুক্ত করার কারণে বিচারকেরা বিশেষভাবে দলটির প্রশংসা করেছেন। স্কুলশিশু, ব্রাউনি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী এবং বাগান পরিচর্যা দলের সদস্যরা সেখানে যুক্ত রয়েছেন।
ইংল্যান্ডের এসেক্সের আলরেসফোর্ড স্টেশনও তালিকায় রয়েছে। প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে সেখানে তৈরি করা হয়েছে ‘ড্রাই গার্ডেন’। বাগান তৈরির জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা অ্যাসফল্ট কেটে ফুলের বেড তৈরি করেছেন এবং খরা সহনশীল গাছ লাগিয়েছেন। বাগানটির নেতৃত্ব দেওয়া স্বেচ্ছাসেবী ফ্রাঙ্ক বেলগ্রেভ বলেন, উদ্যোগটি গ্রামের কেন্দ্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। একসময় স্থানীয় সংবাদপত্রে স্টেশনটিকে অবহেলিত হিসেবে বর্ণনা করা হলেও এখন সেখানকার বাগান চেলসি ফ্লাওয়ার শোর বাগানের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বেলগ্রেভ জানান, আগে বাগানের গাছে পানি দিতে স্বেচ্ছাসেবীদের অনেক সময় ব্যয় হতো। পরে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে তারা খরা সহনশীল গাছ দিয়ে বাগান তৈরি করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এতে সহযোগিতা করছেন। কেউ কেউ গাছ ও কম্পোস্ট নিয়ে এসে বাগানে দিয়ে যান।
স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের কার্ডরস স্টেশনেও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ২০২২ সালের মার্চ থেকে স্টেশনের পরিবর্তনযোগ্য প্রায় প্রতিটি জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে। কঠিন শীতের কারণে সেখানে মৌসুমি ফুলের বদলে শক্ত ধরনের ঝোপজাতীয় গাছ বেছে নেওয়া হয়েছে। নিজেদের বাড়ির বাগান থেকেও গাছ এনে স্টেশনে লাগিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
চূড়ান্ত তালিকায় থাকা অন্য স্টেশনগুলোর মধ্যে মার্সিসাইডের ম্যাগহাল স্টেশনে টিকিট অফিসের জানালার বাক্সগুলো ফুলে সাজানো হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একটি ছোট বনও তৈরি করেছেন। বার্মিংহামের ওয়াইল্ড গ্রিন স্টেশনে অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালা পরিষ্কার করে পরাগায়নকারী পতঙ্গবান্ধব গাছ লাগানো হয়েছে। এতে একটি ‘বি করিডর’ তৈরি হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিবছর প্রজাপতি গণনাও করেন এবং তাদের হিসাবে প্রজাপতির সংখ্যা বেড়েছে।
সামারসেটের কেইনশ্যাম স্টেশনে গরম সহ্য করতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের সাকুলেন্ট গাছ লাগানো হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, এই বাগান পরিচর্যার কাজ তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগও বাড়িয়েছে। অনেকেই এ কাজ করতে গিয়ে নতুন বন্ধু পেয়েছেন। যাত্রীরাও বাগান দেখতে এসে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলেন।
আলরেসফোর্ডের বেলগ্রেভ জানান, স্টেশনের বাগানের কারণে সেখানে মৌমাছি, প্রজাপতি, হেজহগ ও স্লোওয়ার্মসহ বিভিন্ন প্রাণীর উপস্থিতি বেড়েছে। তার মতে, এখনো অনেক স্টেশন এই উদ্যোগের বাইরে রয়েছে। আরও মানুষ এগিয়ে এলে সেসব স্টেশনও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

