পশ্চিম তীরকে দ্বিতীয় গাজা বানাচ্ছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক বয়কটের দাবি

ইসরাইলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক বয়কটের দাবি

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের দমন-পীড়ন বন্ধে দেশটির বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এক সংসদ সদস্য। তার মতে, পশ্চিম তীরকে আরেকটি গাজায় পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ আহ্বান জানান হেইস অ্যান্ড হার্লিংটন আসনের লেবার পার্টির সংসদ সদস্য জন ম্যাকডোনেল।

বিজ্ঞাপন

তিনি লেখেন, ‘নেতানিয়াহু যখন পশ্চিম তীরকে দ্বিতীয় গাজায় পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, তখন আমাদের সরকারকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গণহত্যার এই বিস্তার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না—এ বার্তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।’

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরাইলি বাহিনীর দমনমূলক পদক্ষেপের খবরের পর ম্যাকডোনেল এ মন্তব্য করেন। শহরটির বাইরে একটি তল্লাশি চৌকির কাছে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তিমূলক অভিযান শুরু করেছে ইসরাইল—এমন খবর প্রকাশিত হয়।

এরপর শুক্রবার হেবরনে এক অভিযানে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তার বাহিনী। ওই অভিযানে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ এবং বাড়িঘরে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান ৭৫ বছর বয়সি ম্যাকডোনেল। তিনি বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে সীমিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে গিয়ে আরও ব্যাপক ব্যবস্থা নিতে হবে। গাজায় চলমান গণহত্যার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করা প্রয়োজন।

ম্যাকডোনেল বলেন, ‘ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, এটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। আমাদের প্রয়োজন সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্য বন্ধ করা।’

তিনি মনে করেন, শুধু বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে সীমিত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ও দমন-পীড়ন বন্ধে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ইসরাইলকে একঘরে করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন