আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মুক্ত বিশ্বকোষের রুদ্ধ দুয়ার-১

জুলাই শহীদদের নাম-নিশানা মুছে ফেলছে উইকিপিডিয়া

ইসমাঈল হোসাইন সোহেল

জুলাই শহীদদের নাম-নিশানা মুছে ফেলছে উইকিপিডিয়া

মুক্ত অনলাইন বিশ্বকোষ হিসেবে পরিচিত উইকিপিডিয়া স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা সম্মিলিতভাবে সম্পাদিত হওয়ার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্ল্যাটফর্মকে বাংলাদেশ ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের ব্যাপক অপতৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই বিপ্লবের পর এই গোষ্ঠী বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, একটি সংঘবদ্ধ আদর্শিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আন্দোলনের নেতাদের নাম মুছে ফেলা, বিকৃত করা ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। একই সঙ্গে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও ভারতপন্থি বয়ান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা উইকিপিডিয়াকে কার্যত জিম্মি করে ফেলা হয়েছে। আমার দেশ-এর গত প্রায় চার মাস ধরে চালানো অনুসন্ধানে এসব বিষয় উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা সরকারের কাছে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জুলাই বিপ্লব ও শহীদদের পেজ মুছে ফেলার অভিযোগ

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত হামলায় দেশের তিন জেলায় ছয়জন নিহত হন। এই ঘটনাই বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক গণবিস্ফোরণের সূচনা করে এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে বদলে দেয়।

হাসিনা সরকারের পতনের আগে ও পরে এই ছয় শহীদ ব্যাপকভাবে আলোচিত হন এবং বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রায় সব অনুষ্ঠানেই তাদের স্মরণ করা হয়। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে নিহত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম ও ছাত্রশিবির নেতা ফয়সাল আহমেদ শান্ত অন্যতম। দুটি ছাত্র সংগঠনই ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে তাদের আদর্শিক অবস্থান থেকে এই শহীদদের সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করে আসছে।

যারা দেশের জন্য জীবন দেন এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে আসেন, তাদের বিষয়ে উইকিপিডিয়ায় পেজ থাকা স্বাভাবিক বিষয়। ব্যাপক তথ্য-উপাত্ত ও কয়েক ডজন সূত্রের ভিত্তিতে ওয়াসিম আকরাম ও ফয়সাল আহমেদ শান্তের নামে উইকিপিডিয়ায় দুটি পেজ তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে উইকিপিডিয়ার সব নীতিমালা মেনে প্রতিটি তথ্য যথাযথ সূত্রসহ উপস্থাপন করা হয়। তবুও পেজ দুটি মুছে ফেলা হয় ‘নি৭’ ধারা ব্যবহার করে, যাতে বলা হয়েছে—‘অগুরুত্বপূর্ণ (ব্যক্তি, প্রাণী, সংস্থা, ওয়েব) বিষয়বস্তু বা ঘটনা’।

যিনি ওয়াসিম আকরাম ও ফয়সাল আহমদের লেখা দুটি লিখেছেন, তিনি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে উইকিপিডিয়ায় শতাধিক কনটেন্ট সম্পাদনা করেছেন। যাদের মৃত্যু বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে দিয়েছে এবং লেখার প্রতিটি তথ্য সূত্রসহ উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই লেখা কীভাবে ‘নি৭’-এর আওতায় পড়ে সে বিষয়ে জানতে চাইলেও মুছে ফেলা প্রশাসক (অ্যাডমিন) কোনো জবাব দেননি। উইকিপিডিয়ার নিয়মানুসারে কোনো প্রশাসকের যদি মনে হয় লেখাটি উন্নত করা দরকার, তিনি সেটা সবার আলোচনার জন্য উন্মুক্ত করতে পারেন। কিন্তু কাউকে কোনো আলোচনার সুযোগ না দিয়ে একটি অপ্রাসঙ্গিক ধারা যুক্ত করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহীদদের কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে। লেখক বারবার পেজ ফিরিয়ে আনার দাবি জানালে তাকে বিরক্ত না করতে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

জুলাই শহীদ ইমতিয়াজ আহমেদ জাবিরের পেজও একইভাবে ‘নি৭’ ধারায় মুছে ফেলা হয়। তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের ঠিকভাবে জানাজাও পড়তে দেওয়া হয়নি। ঢাকা থেকে লাশ যশোরে নেওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কার্যত মাটিচাপা দিয়ে রেখে আসে তাকে।

আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওয়াসিম, শান্ত বা জাবিরই নন—জুলাই বিপ্লবে ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রায় সব শহীদের পেজই একই অপ্রাসঙ্গিক ধারা ব্যবহার করে মুছে ফেলা হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকজন শহীদ, যারা শুধু বাংলাদেশ নয় বরং পুরো বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় রয়েছেন এবং এখনো সারা দুনিয়ায় বিপ্লবের মুখ হয়ে রয়েছেন, তাদের কয়েকটি পেজ এখনো টিকে আছে। তবে সেগুলোও নিয়মিত সম্পাদনা ও মুছে ফেলার চেষ্টার মুখে রয়েছে।

আন্দোলনের সংগঠন ও নেতাদের টার্গেট করা

জুলাই বিপ্লবের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বিভিন্ন দল, প্ল্যাটফর্ম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পেজও মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পেজেও সংঘবদ্ধভাবে বিতর্ক তৈরি ও অপসারণের চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।

সাদিক কায়েম, শরীফ ওসমান হাদি, আলী আহসান জুনায়েদ, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দিন নাছির, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাহিদুল ইসলাম, রাশেদ খান, আব্দুল হান্নান মাসুদসহ আরো অনেকে শেখ হাসিনার সরকারের পতনে এবং পতনের পরেও এদের সবাই জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কার্যক্রম ও আলোচনায় রয়েছেন। হাসিনা-পরবর্তী রাজনীতিতে তাদের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখা হয়। তাদের প্রত্যেকের নামে করা উইকিপিডিয়ার পেজ একাধিকবার মুছে ফেলা হয়েছে এবং প্রতিবারই ‘নি৭’ ধারা ব্যবহার করে দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তি বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হওয়ায় ‘নি৭’ এখানে প্রযোজ্য নয়। তারপরও এমন একটি অপ্রাসঙ্গিক ধারা ব্যবহার করে তাদের পেজ বারবার মুছে ফেলা হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের শরীফ ওসমান হাদি ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার পর তার পেজ ফিরিয়ে আনা হয়। অথচ এর আগে বহুবার তার পেজ মুছে ফেলা হয়েছিল। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের পেজ অন্তত ১৩ বার মুছে ফেলার পর সম্প্রতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তবে ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবে অবিস্মরণীয় ভূমিকার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এনসিপির আব্দুল হান্নান মাসুদ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আপ বাংলাদেশের আলী আহসান জুনায়েদ, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দিন নাছির, ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বা ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানদের মতো জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের পেজ এখনো ‘নি৭’ ধারায় বারবার মুছে ফেলা হচ্ছে। অথচ তারা সবাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে জাতির কাছে স্বীকৃত।

এছাড়া শহীদ আনাসের শাহরিয়ার খান আনাসের নামে থাকা নিবন্ধটিও একাধিকবার মুছে ফেলা হয়েছে। তবে কয়েক মাস আগে কিছু সম্পাদনাসাপেক্ষে সেটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি বিকেলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামে লেখা নিবন্ধটির অংশবিশেষ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এর বিপরীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নামে বাংলা ও ইংরেজিতে তিনটি পেজ বহাল রয়েছে, যেখানে তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। যেখানে তার পক্ষে বলা হয়েছে তিনি ‘নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের ছয় শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পক্ষে সওয়াল করতেন’। তার বিরুদ্ধে ডাকসু অফিসে হামলা করে সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ থাকলেও ওই পেজে তা উল্লেখ নেই। পতিত আওয়ামী লীগের আরো অসংখ্য ব্যক্তির নামে উইকিপিডিয়ায় এ ধরনের বানোয়াট প্রশংসা স্থান পাচ্ছে। এর বিপরীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী নেতা ও শহীদদের পেজ মুছে ফেলা, বিতর্কিত করার চেষ্টা চোখে পড়ার মতো। এসব বিষয়ে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট লেখকদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে, যা উইকিপিডিয়ার মতো প্ল্যাটফর্মে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সম্পাদকরা।

বাংলাদেশের নবইতিহাসে ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও ছাত্রশিবিরের সদ্যসাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামের ভূমিকা ঐতিহাসিক। দুজনেরই দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এর বিপরীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের ইতিহাস বিতর্কিত ও নিপীড়নমূলক হলেও উইকিপিডিয়ায় সম্পূর্ণ তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ, সংগঠন বা সংগঠনগুলো উইকিপিডিয়ার প্রশাসকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও সমকামী ও বাংলাদেশবিদ্বেষী ব্যক্তিদের ব্যাপক কদর রয়েছে তাদের কাছে। অভিজিৎ রায়, আসিফ মহিউদ্দীন, আহমেদ রাজীব হায়দার, জুলহাজ মান্নান, তসলিমা নাসরিন, রেজাউল করিম সিদ্দিকীসহ সমকামিতাকে উৎসাহিত করা ব্যক্তিদের নিয়ে উইকিপিডিয়ায় প্রশংসার শেষ নেই। তারা দেশের জন্য জীবন দেওয়া শহীদদের চেয়েও কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল তার কোনো ব্যাখ্যা উইকিপিডিয়ার প্রশাসকরা দিতে রাজি নন।

প্রশাসকদের ভূমিকা ও অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড

জুলাই শহীদদের পক্ষে লেখা ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলার কারণে একাধিক অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসক ইয়াহইয়াকে ইমেইলে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে প্রশ্নকারীর অ্যাকাউন্টও সাসপেন্ড করেন। ফলে এ বিষয়ে উইকিপিডিয়ায় অপতৎপরতা চালানো এসব প্রশাসকের কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

লেখক ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

উইকিপিডিয়ার নিয়মিত লেখক মামুন হোসেন বলেন, একটি উন্মুক্ত বিশ্বকোষ হলেও বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশের সংশ্লিষ্ট ধর্ম ও আদর্শিক বিষয়গুলো একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হয় এখানে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। এতে ভারতের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও আদর্শিক মনঃপূত লেখালেখির বিশেষ কদর রয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শিক অবস্থানবিরোধী প্রচুর লেখালেখিও পাবেন। সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই বিপ্লবীদের পক্ষে বেশকিছু লেখালেখি এবং এর আগে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট লেখালেখির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া পেয়েছি বাংলা উইকিপিডিয়ার বর্তমান প্রশাসকদের কাছ থেকে, যা প্রমাণ করে এটি সুস্পষ্টভাবে সাম্প্রদায়িক ও আদর্শিক গোষ্ঠীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

হাসনাত সিদ্দিকী মুরাদ নামের আরেক লেখক বলেন, বাংলা উইকিপিডিয়াকে কোনো অবস্থাতেই উন্মুক্ত বিশ্বকোষ বলা যায় না। এটা একটি সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং সেই গোষ্ঠী বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ধর্ম ও আদর্শিক অবস্থানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ভারত থেকে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়েছে, সেখানেও উইকিপিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টির দিকে রাষ্ট্রের নজর দেওয়া সময়ের দাবি। আরেক লেখক সৌরভ অভিযোগ করেন, বাংলা উইকিপিডিয়া পতিত হাসিনা সরকার ও ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফেসবুক, ইউটিউবসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমকে কবজা করতে শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবেশী দেশের যোগসাজশে উইকিপিডিয়াতেও নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায় তারা। তখন থেকেই উইকিপিডিয়া বাংলার অ্যাডমিনদের মধ্যে ভারতীয়, আওয়ামী ও ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ ঘটে। তারাই বিভিন্ন সময়ে উইকিপিডিয়াকে নিজেদের স্বার্থে ও উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে আসছেন। তাদের কারণেই মাধ্যমটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

উইকিপিডিয়া বাংলার অ্যাডমিন প্যানেলের তিনজনকে ইমেইল করে অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চায় আমার দেশ। গত ১১ ডিসেম্বর নাহিদ সুলতান, এমডিএস শাকিল ও ইয়াহইয়া নামের তিন অ্যাডমিনকে দেওয়া সেই ইমেইলের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া উইকিপিডিয়া ফাউন্ডেশনের অধীনে কাজ করা লেখক ও সম্পাদকদের প্ল্যাটফর্ম উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানায় দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার কল দিলেও সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ আমার দেশকে বলেন, ১৫ বছর আওয়ামী লীগ যে কাজ করে গেছে, সেটা ব্যক্তিউদ্যোগে মোকাবিলা করা কঠিন। সরকারের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। আমার মনে হয় এখনো সময় আছে। অন্তর্বর্তী সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে নির্ধারিত যেসব আইডি থেকে এই কাজগুলো করা হয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। সেই সঙ্গে আমাদের যেসব হিরো আছে, জাতির যাদের স্মরণ করা দরকারÑ তাদেরও এখানে তুলে ধরা দরকার। আগের এই ব্যর্থতা থেকে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিবে সেটা আমরা আশা করছি।

সার্বিক বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আমার দেশকে বলেন, ‘উইকিপিডিয়া ব্যক্তিবিশেষের দ্বারা পরিচালিত, সরকার দ্বারা নয়। তাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হবে উইকিপিডিয়া কমিউনিটির সঙ্গে কথা বলে একটি করণীয় নির্ধারণ করা। এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে আমাদের উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলব।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...