আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আটকে গেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

এম এ নোমান

আটকে গেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

শেষ মুহূর্তে আটকে গেল বহু প্রত্যাশিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প। ভারতের পানি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৬ জেলার ১২৩ উপজেলার জীববৈচিত্র্যের প্রাণ ফেরানোর জন্য ৫০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকায় প্রকল্পটি নিয়েছিল সরকার। সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অজ্ঞাত কারণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন হয়নি প্রকল্পটি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেকে উত্থাপন না করার পেছনে ভারতের কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের নতিস্বীকার হিসেবে দেখছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সনদ, রীতিনীতি ও আইন লংঘন করে ভারত যেভাবে দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলো থেকে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে তাতে বাংলাদেশের কৃষিসহ পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে তা টাকার অঙ্কে নিরূপণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন খুবই জরুরি ছিল। অপরদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন সরকারের মূল দৃষ্টি একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। নির্বাচিত সরকার এসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিজ্ঞাপন

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীতে প্রবাহিত পানির ন্যায্য হিস্যা উভয় দেশই প্রাকৃতিক নিয়মে পেয়েছে। ১৯৬০ সালের দিকে ভারত গঙ্গাসহ কয়েকটি নদী থেকে আইন অমান্য করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার শুরু করে। পরের বছরই পূর্ব পাকিস্তান পানি উন্নয়ন বোর্ড (ইপওয়াডা) বর্তমান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পদ্মার পানির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের পানি আগ্রাসন মোকাবিলার বিষয়ে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। পরবর্তী সময়ে ২০০০ সাল পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে পাউবো চারটি প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালিয়েছে।

পাউবো জানায়, ২০০২ সালে দেশের পানি সম্পদের সামষ্টিক পরিকল্পনাকারী সংস্থা ওয়ারপো কুষ্টিয়া অথবা রাজবাড়ী জেলায় এ সংক্রান্ত ব্যারাজ নির্মাণের সুপারিশ করে। এ নিয়ে প্রকল্পের বিষয়ে দাপ্তরিক কাজ বেশ কিছুদূর এগোয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিস্তৃত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকৌশল নকশা প্রণয়ন করা হয়।

প্রকল্পে ভারতের আপত্তি

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের পানি প্রত্যাহারের ফলে দেশের কৃষিসহ জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে থাকলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারও প্রকল্পটি নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনার এক পর্যায়ে ২০১৬ সালের অক্টোবরে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে ঢাকায় বৈঠক করেন। পরে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি যৌথ কারিগরি উপকমিটিও গঠন করা হয়। এক পর্যায়ে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকসহ দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে এ প্রকল্প নিয়ে ভারত প্রবল আপত্তি দেয়। ২০১৮ সালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নথিগুলো হিমাগারে নথিজাত করে রাখে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দেশের ভূ-প্রকৃতির স্বার্থে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারের অন্যান্য দপ্তরগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে প্রকল্পের নথি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে জোরাল দায়িত্ব পালন করেন।

ফারাক্কার ক্ষতি মোকাবিলায় ব্যারাজটির প্রয়োজনীয়তা

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নথিতে আরো বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে ভারত পদ্মা নদীতে ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করে এর প্রবাহ একতরফাভাবে ভাগিরথী নদীর মাধ্যমে হুগলি নদীতে প্রত্যাহার করে, যা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করে। ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের আগে জানুয়ারি-এপ্রিলে পদ্মা নদীতে ন্যূনতম প্রবাহ ছিল ১৫০০ কিউসেক। ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ পরবর্তী সময়ে প্রবাহ কমে সর্বনিম্ন ১৭০ কিউসেকে নেমে যায়।

ফারাক্কার মাধ্যমে ভারতের পানি প্রত্যাহারে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিয়ে নথিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পদ্মানির্ভর এলাকা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ৩৭ শতাংশ। এখানে বাস করে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ এবং একতরফাভাবে পদ্মার পানি প্রত্যাহারের ফলে মাথাভাঙা, সাগরখালী, নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, ফটকি, ভৈরব, আফ্রা, কপোতাক্ষ, হরিহর, টেকা, মুক্তেশ্বরী, বেতনা নদী গঠিত হিসনা-মাথাভাঙা নদী সিস্টেম, কালিগঙ্গা, মুচিখালী, আঠারোবেকী, মধুমতি, রূপসা, পশুর নদী নিয়ে গঠিত গড়াই-মধুমতি নদী সিস্টেম, চন্দনা, বারাশিয়া, কুমার, পুরাতন কুমার নদী নিয়ে গঠিত চন্দনা-বারাশিয়া নদী সিস্টেম এবং বড়াল, নন্দখুঁজা, নারোদ, মুসাখান নদী গঠিত বড়াল–ইছামতি নদী সিস্টেমগুলোতে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। পলি পতনের কারণে পদ্মা থেকে নদী সিস্টেমগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভরাট হওয়া নদীগুলো খনন করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পর্যাপ্ত প্রবাহ না থাকায় তা ফলপ্রসূ হয়নি। পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না পাওয়া অধিকাংশ নদী মরে গেছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে উজানের প্রবাহ না থাকায় সাগর থেকে জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর এলাকার নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া ত্বরান্বিত করেছে। যা নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টির পাশাপাশি অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লবণাক্ততা। ফলে এলাকাগুলোতে রয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। লবণাক্ততার মাত্রা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানিস্তর পুনর্ভরণ না হওয়ার কারণে বরেন্দ্র এলাকায়ও রয়েছে তীব্র পানি সংকট। যা অনেক এলাকায় আর্সেনিক দূষণের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।

১২৩ উপজেলার মানুষকে বাঁচাতে প্রকল্পে যা থাকছে

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৬টি জেলার ১২৩টি উপজেলার সাধারণ মানুষ আশায় বুক বেঁধে বসে আছে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে— মূল পদ্মা ব্যারাজ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো (স্পিলওয়ে, আন্ডার স্লুইস, ফিস পাস, নেভিগেশন লক, গাইড বাঁধ, এপ্রোচ এম্বাঙ্কমেন্ট ইত্যাদি) নির্মাণ। পদ্মা ব্যারাজ সংশ্লিষ্ট একটি ইলেকট্রিক ওয়ার্কস এবং হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ। গড়াই অফটেক মূল এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো (স্পিলওয়ে, আন্ডার স্লুইস, ফিস পাস, নেভিগেশন লক, গাইড বাঁধ, এপ্রোচ এম্বাঙ্কমেন্ট ইত্যাদি) নির্মাণ। গড়াই অফ-টেক সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রিক ওয়ার্কস এবং হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ, চন্দনা ও হিসনা অফটেক অবকাঠামো নির্মাণ, গড়াই-মধুমতি নদী ড্রেজিং, হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী সিস্টেম পুনঃখনন এবং এফ্ল্যাক্স বাঁধ নির্মাণ।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য জুলাই পর্যন্ত ব্যারাজ রিজার্ভার অবস্থায় থাকবে। পানি সমতল থেকে ৮ মিটার নেমে গেলে মধ্য অক্টোবর থেকে ব্যারাজে পানি সংরক্ষণ শুরু হবে। ১০-১৫ দিনেই রিজার্ভারের পানি সমতল ১২ দশমিক ৫০ মিটার উন্নীত করা সম্ভব হবে।

ফারাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় এ প্রকল্প

বাংলাদেশের জন্য ভারতের ফারাক্কা বাঁধকে মরণফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘বর্ষা মৌসুমের শেষদিকে ব্যারাজে পানি সংরক্ষণ শুরু হবে। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই এ ব্যারেজের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী দুই দশমিক ৯০ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ হবে। এ ধারণকৃত পানি দ্বারা সংশ্লিষ্ট নদী সিস্টেমগুলোসহ সেচ প্রকল্পগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে চরম শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা ব্যারাজ দিয়ে এর ভাটিতে ৫৭০ কিউমেক পানি ছাড়া সম্ভব হবে। শুধু ব্যারেজে সংরক্ষিত পানির দ্বারাই ফারাক্কায় পানি প্রত্যাহারের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের অধিকাংশই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এখনো ভারতের প্রভাব

ভারতের আপত্তির কারণে পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার। আমার দেশকে তিনি বলেন, ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি লংঘন করে অভিন্ন সব নদী থেকে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

ভারতের পানি প্রত্যাহারকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের পানি আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, পানির ন্যায্যহিস্যা আদায়ে ভারতকে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। আমরা এটির জন্য অপেক্ষা করছি। যদি সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে, তাহলে আমাদের আর বুঝতে বাকি থাকবে না এখানে ভারতের প্রবল আপত্তি কাজ করেছে।

প্রকল্প আটকে যাওয়ার বিষয়ে যা বলছে মন্ত্রণালয়

সব আয়োজন শেষ হওয়ার পরও প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেক বৈঠকে উপস্থাপন না করার কারণ জানতে যোগাযোগ করা হয় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের দপ্তরে। তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানানো হয়। উপদেষ্টার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

তবে, মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এ প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের জন্য শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা উপদেষ্টা অনুমতি দেননি। পরে রাজনৈতিক সরকার এসে এটি করবে বলেও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার আমার দেশকে বলেন, প্রকল্পটির ব্যাপারে সরকার শতভাগ আন্তরিক। এটি দেশ ও জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আমরা এটি হাতে পাওয়ার পরপরই এ সংক্রান্ত টেকনিক্যাল কমিটির কাছে মূল্যায়নের জন্য পাঠিয়েছি। তারাও এ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে।

প্রকল্পটি গত ২৫ জানুয়ারির একনেক বৈঠকে উপস্থাপনের কথা থাকলেও সময় স্বল্পতার জন্য এটি আর উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, সামনের সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর করার বিষয়ে সরকার মনোযোগী। ১২ ফেব্রুয়ারির আগে একনেক বৈঠক হলে সেখানে এটি উপস্থাপন হতে পারে। আর বৈঠক না হলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সময়ে এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবে বলেও আশা করছেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...