জ্বালানির জোগান না থাকায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বহুল আলোচিত ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ। এরই মধ্যে এ প্রকল্পে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে পালিয়ে গেছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার।
বিদেশি ঋণ ও রাষ্ট্রের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা এ বিপুল অর্থের দায় এখন কে নেবেÑ এ নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। বিচারপতি মইনুল কমিশনও বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে অপ্রয়োজনীয় ও রাষ্ট্রের অর্থগচ্ছার প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা না করেই আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৯ সালে গড়ে তোলে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। ২০২২ সালে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও জ্বালানির অভাবে সেটা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটিকে স্বৈরাচার হাসিনার ব্যক্তিগত অভিলাসের প্রকল্প উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, ভারত থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস আমদানি করে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেটা কার্যকর হয়নি। ফলে পুরো প্রকল্পটি নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের যোগান দিয়ে আগামী বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কমিশনিংয়ের (পরীক্ষামূলক চালু) চিন্তা করা হচ্ছে। খুলনা অঞ্চলে কখনো গ্যাস উৎপাদন হলে সেটা দিয়ে যাতে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া যায়।
কর্মকর্তাদের মতে, উৎপাদনে যাওয়ার আগেই এ বিদ্যুৎ প্রকল্পে স্থাপিত যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল (লাইফ টাইম) প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে। গ্যারান্টি পিরিয়ডেরও পুরো সময় পার হয়ে গেছে। নতুন করে গ্যাস উৎপাদন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর কোনো উপায় দেখছেন না সরকারের নীতিনির্ধারকরাও।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) যৌথভাবে এ প্রকল্পে ৫০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা) ঋণ দেয়। আর সরকারের ব্যয় আড়াই হাজার কোটি টাকার মতো। পুরো এ অর্থই এখন দেশবাসীর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুদসহ কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ শুরু হওয়ায় চাপে পড়েছে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো)। তবে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা গচ্ছার জন্য দায়ীদেরও আইনের আওতায় আনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির যোগান ছাড়াই বিপুল অর্থ ব্যয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব। কারণ এখানে দেশের স্বার্থে প্রকল্প নেওয়া হয়নি। বাস্তবিক অর্থে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে ভারতের স্বার্থে।
সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানান, হাসিনা সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে দেশের অর্থ লোপাট হয়েছে। স্বজনপ্রীতি ও কিছু মানুষকে সুবিধা দিতে অপ্রয়োজনে বেসরকারি খাতে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশের স্বার্থের চেয়ে প্রতিবেশী দেশ ও পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্বার্থ রক্ষাই ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক হাসিনার প্রধান টার্গেট। রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও তার ব্যতিক্রম নয়। কোনো ধরনের জ্বালানির ব্যবস্থা না করেই এতবড় বিদ্যুৎকেন্দ্র করার উদ্দেশ্যই ছিল লুটপাট করা। শেষ পর্যন্ত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আদৌ গ্যাস দেওয়া যাবে কি না, এ বিষয়ে সন্দিহান সরকারের নীতিনির্ধারকরাও।
ভারতের স্বার্থে প্রকল্প
বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর খুলনার রূপসায় ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্পের জন্য খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস্ লিমিটেডের পরিত্যক্ত আবাসিক এলাকা থেকে জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট হাসিনার বিশেষ নির্দেশে প্রকল্পটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়। একই বছরের ২ নভেম্বর এ প্রকল্পের অনুকূলে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে ঋণপ্রাপ্তির বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য পরিকল্পনা কমিশন পিডিপিপি অনুমোদন দেয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, খুলনায় এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প নেওয়ার আগে ২০১৩ সালে ভারতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এইচ এনার্জি পশ্চিমবঙ্গের দীঘায় তাদের এলএনজি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশ সরকারকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। মূলত এ প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে রূপসায় ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। এলএনজি সরবরাহের জন্য নওপাজেকো ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এইচ এনার্জির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। এরই মধ্যে ভারতে এইচ এনার্জির প্রস্তাবিত গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে বিরোধ শুরু হলে তা সালিশের পর্যায়ে গিয়ে গড়ায়। এতে রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এইচ এনার্জির কাছ থেকে এলএনজি প্রাপ্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এডিবির ঋণ পেতে ভিন্ন কৌশল
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, ভারতের এইচ এনার্জির কাছ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি হিসেবে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি প্রাপ্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও সরকার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প বহাল রাখে। বিদ্যুৎ বিভাগ পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা চায়। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেট্রোবাংলা বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয়। পরবর্তী সময়ে জ্বালানি বিভাগ ২০১৭ সালের ৬ জুলাই এডিবিতে গ্যাস সরবরাহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানিয়ে চিঠি পাঠায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলার আওতাধীন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে নওপাজেকো’র ২০১৭ সালে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণে সমঝোতা স্মারক সই হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ২২ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) রূপসার ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২৪৬১ কোটি টাকা আর বৈদেশিক ঋণের পারিমাণ ৫৯৮৮ কোটি টাকা (ডলারের বর্তমান বিনিময় মূল্য ধরে আরো অনেক বেশি)।
কর্মকর্তারা জানান, একনেকে অনুমোদন দেওয়া হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ২০১৮ সালের ২ আগস্ট এডিবির সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি করে। বিপুল বৈদেশিক ঋণের টাকায় এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হলেও পেট্রোবাংলা চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আনার চেষ্টাও ব্যর্থ
নওপাজেকো সূত্র জানায়, এ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পটুয়াখালীর পায়রাতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনসহ খুলনা পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ টার্মিনাল থেকে ২০২৪ সাল নাগাদ গ্যাস সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনাও ছিল সরকারের। পরবর্তী সময়ে হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এ উদ্যোগও ভেস্তে যায়। যদিও ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি বিশেষ আইনে পেট্রোবাংলার মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ মহল আবারও ভারত থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয়। ফলে পায়রা এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়ন কাজ আর এগোয়নি।
কর্মকর্তারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্তের কারণে পায়রার ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং এ ধরনের অন্যান্য সব উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যায়।
আওয়ামী সরকারের নীতিনির্ধারকদের শাস্তি দাবি
হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম এবং দুর্নীতি অনুসন্ধানে সুপ্রিমকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাসের যোগান না থাকার পরেও তারা একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলেছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত লাভের জন্যই করা হয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। সাবেক দুই বিদ্যুৎ সচিব, যারা পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব হয়েছিলেন; তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে সংঘবদ্ধ এসব দুর্নীতিতে। এই দুজন হলেন আবুল কালাম আজাদ ও আহমদ কায়কাউস।
শুধু ভারতকে একতরফা সুবিধা দিতে নেওয়া প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও দেশের ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শাসসুল আলম আমার দেশকে বলেন, একটি বিশেষ মহলকে বিশেষ সুবিধা দিতে বিগত সরকার এ আত্মঘাতী প্রকল্প নিয়েছিল। ওই সময় এর ব্যয় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা হলেও এখন এর দায় ১০ হাজার কোটি টাকার উপরে পৌঁছেছে। এজন্য দায়ী বিগত সরকারের নীতিনির্ধারকরা। তারা সবাই দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন। তার মতে, এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণের ফাঁদে ফেলা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।
অধ্যাপক শামসুল আলম আরো বলেন, এ প্রকল্পটির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও দায়ের হয়নি। এ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। এভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে না। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাঁচানোর জন্য সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে জনগণের ঘাড়ে ঋণের বোঝা আরো বাড়তে থাকবে বলেও মনে করেন জ্বালানি খাতের এ বিশেষজ্ঞ।
বিদ্যুৎমন্ত্রী যা বললেন
রূপসায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি হাসিনার সরকার দেশের স্বার্থে নয়, ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতেই নিয়েছিলেন বলে মনে করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, অনিয়মের মহোৎসব হয়েছে। স্বজনপ্রীতি ও নিজেদের পছন্দের মানুষকে সুবিধা দিতে অপ্রয়োজনে বেসরকারি খাতে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, বিদ্যুৎ কোম্পানিকে টাকাও দিতে পারি না, আবার বিদেশি হলে ডলার দিতে পারি না। গ্যাস আমদানির জন্য ডলার দিতে পারছি না। বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার জন্য কিন্তু বিদ্যুতের ট্যারিফ বারবার বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎখাতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির দায় এখন আমাদের ওপর বর্তেছে।
দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন রেখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আমার দেশকে বলেন, কার স্বার্থে এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলো? কার স্বার্থে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা খরচ হলো? মানুষ তো কোনো উপকার পাচ্ছে না। এখন আমাদের এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাঁচিয়ে রাখতে হলেও গ্যাস সরবরাহের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা নিজের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে দেশের বিদ্যুৎখাতকে ধ্বংস করে গেছে। এখন এর বোঝা এসে পড়েছে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর।
এদিকে প্রকল্পটি নিয়ে এখন উভয় সংকটে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এত বিশাল একটি প্রকল্প উৎপাদনে না গেলে রাষ্ট্রেরই বিশাল ক্ষতি। বিদেশি ঋণ তো আর মওকুফ হবে না। সুদসহ বিপুল পরিমাণ ঋণে বোঝা এখন বিদ্যুৎ বিভাগের ঘাড়ে।
এদিকে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পেট্রোবাংলা থেকে গ্যাসের নিশ্চয়তা পেলে আগামী বছর কমিশনিংয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবেক প্রকল্প পরিচালক সাইফুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, পরিকল্পনা কমিশনে আমরা এ প্রকল্পের বিষয়ে প্রথমবারে মতো সংশোধিত প্রস্তাবনা পেশ করেছি। বর্তমানে এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পেট্রোবাংলার কাছে জ্বালানি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেলে আগামী বছরে এটির কমিশনিং করা যাবে। যাতে ভবিষ্যতে গ্যাসের নিশ্চয়তা পেলে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে নেওয়া যায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


