শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে ঢাকা-গাজীপুরে নৈরাজ্য

শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে ঢাকা-গাজীপুরে নৈরাজ্য
ছবি: আমার দেশ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও গাজীপুরে দিনভর সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে জেলা দুটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকা। এছাড়া পুলিশের গাড়ি ও পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি সংঘর্ষে পুলিশ এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।

পুলিশ দাবি করেছে, শ্রমিকদের আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যুক্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঢাকায় ১১ ও গাজীপুরে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেলের তিনটি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিরপুর, আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুর এলাকার ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি এপিসি, শিল্প পুলিশ, এপিবিএন, এসআরবি ও থানা পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে পোশাক খাতের অস্থিরতা নিরসন ও করণীয় নির্ধারণে গতকাল সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিকে শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।

মিরপুরে গাড়িতে আগুন

রাজধানীর মিরপুরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা। মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনারের ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। নিরাপত্তা বিবেচনায় মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে

সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১, ১২ ও প্রশিকা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুরো এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমার দেশ-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার পাপ্পু হোসেন আহত হন। তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি গাড়িতে লাগা আগুন নেভাতে গিয়ে হামলার শিকার হয় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গাড়িটির সামনের উইন্ডশিল্ড ও দুই পাশের লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলে। ভাঙা কাচের আঘাতে আহত হন গাড়িটির চালক।

ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন এ বিষয়ে জানান, গাড়ি দুটি পৌঁছানোর পর আন্দোলনকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় আহত চালককে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখন এর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে। এটি শ্রমিকদের বোঝানোও হয়েছে। এরপরও তারা সড়ক ছাড়ছিলেন না। পুলিশের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। জনভোগান্তি কমাতে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, কারো মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।

নিষিদ্ধ সংগঠনের ১১ সদস্য গ্রেপ্তার

মিরপুরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মিরপুর বিভাগের ডিসি রাকিব খান বলেন, কদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। শনিবার থেকে তারা বেশ সহিংস হয়ে উঠেছেন। রোববারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মূলত সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মাঝ থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মিরপুর-১০ এবং এর আশপাশের এলাকায় অভিযানে আটকরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতা। মিরপুরের পলাতক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা মূলত এই নাশকতার সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন। তিনিই মূলত ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব নেতাকর্মীকে ঢাকায় এনেছেন। দলটির শতাধিক নেতাকর্মী এখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের শনাক্ত করে আটক অভিযান চলমান।

রণক্ষেত্র গাজীপুর

টঙ্গীতে রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ, অবরোধ ও সংঘর্ষের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের ঝুটের গুদামে আগুন দেওয়া হয়। হামলাকারীরা বিভিন্ন এলাকায় অন্তত অর্ধশত দোকান ভাঙচুর করে। তাদের ঠেকাতে গিয়ে অন্তত ২২ পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানা গেছে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত হন তিন সাংবাদিক। দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিক রেজাউল করিম রেজার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হলেও পরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় যমুনা ব্যাংক ও বিভিন্ন কারখানার গেটে ভাঙচুর, মৌচাক কাটার এলাকায় পুলিশ বক্স ভাঙচুর, কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সে আগুন এবং আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। শ্রমিক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার পর কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। প্রথমে কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবরোধ শুরু হলেও পরে রতনপুর, কোনাবাড়ী, কাশিমপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে এসব এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। শিল্প পুলিশের হিসাবে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় ১০০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে হাজার হাজার শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নিলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তারেকুল ইসলাম জানান, ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের ঝুটের গুদামে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। সড়কে যান চলাচল বন্ধ ও যানজটের কারণে প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে বিজিবির সহায়তায় উল্টো পথে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেন জানান, শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক সপ্তাহের জন্য পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।

আন্দোলরত শ্রমিকরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ওভারটাইমের সুযোগ কমে যাওয়ায় আয়ও কমেছে। তাই ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

আন্দোলন ঠেকাতে মাঠে বিএনপি

কালিয়াকৈরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সহিংসতা প্রতিরোধে মাঠে নামেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল দুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন ঠেকাতে মাঠে নামেন মজিবুর রহমান। এ সময় তারা মহাসড়কের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

কয়েক নেতা গ্রেপ্তার

গাজীপুর জেলা গার্মেন্ট শ্রমিক নেতা আলী আসগর, শ্রমিক নেতা মোর্শেদ আলম কাওসার, রোজিনা আক্তার সুমি, মোস্তফা কামাল, ফুয়াদুর রহমান নির্জন এবং আলতাফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিএমপির গাজীপুর থানায় সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আশুলিয়ায় বিক্ষোভ

এদিকে, আশুলিয়ায় আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় আব্দুল্লাহপুর- বাইপাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। পরে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। গতকাল সকাল থেকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থান নেন বেশ কয়েকটি কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক। একপর্যায়ে তারা শারমিন গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনে অবস্থান নেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মমিনুল হক ভূঁইয়া জানান, সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা রয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি আমজাদ হোসাইন আমার দেশকে বলেন, মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশও তাদের সহযোগিতা করছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে দুষ্কৃতকারীরা যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে তোলে। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়। পাশাপাশি কোনাবাড়ীতে পুলিশ বক্স ও ভোগড়া এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সেও আগুন দেয় তারা। জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ পুলিশের সবগুলো ইউনিটকে সঙ্গে নিয়ে আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সোমবার (আজ) কোনো কারখানা খোলা রাখা সম্ভব হবে না। বিজিএমইএ সভাপতি বলেছেন, পরিস্থিতির কারণে তাদের ছোট-বড় প্রায় ৬০০ কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন গাজীপুর, টঙ্গী ও ঢাকা উত্তরের স্টাফ রিপোর্টার]

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন