নির্বাচিত নতুন সরকারের সাত মাস অতিবাহিত হলেও জনপ্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত গতির দেখা মিলছে না। প্রশাসনের প্রায় সব স্তরেই ঢিলেঢালা পরিস্থিতি। নিয়ন্ত্রণও দৃশ্যত শিথিল। শীর্ষ আমলাদের মধ্যে দায়সারা ও গা-ছাড়া ভাব। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আগ্রহ কম। এ নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও অস্বস্তি বিরাজ করছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে পারস্পরিক আস্থাহীনতার ঘটনাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, একাধিক ধারায় বিভক্ত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রুটিন ওয়ার্ক চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের মধ্যম ও নিচের দিকে স্থবিরতা বিরাজ করছে। নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েও গতি আনতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। প্রশাসন নিয়ে অসন্তোষের কথা সরকারের নীতিনির্ধারকদের মুখেমুখে। সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথাও বলছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ। তারা জানান, জনপ্রশাসন এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পায়নি।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের কেন্দ্র থেকে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত একটি নীতির আওতায় চলার কথা থাকলেও বর্তমানে এর ব্যত্যয় দেখা যাচ্ছে। ফলে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজানোর ফলে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈর শাসনামলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের অধিকাংশই পুনর্বাসিত হয়েছেন। জনপ্রশাসন নিয়ে কেন্দ্রের উদারনীতির খেসারত জনসাধারণকে দিতে হচ্ছে বলেও অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
তারা বলেন, প্রায় দেড় যুগ পর দেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের গা-ছাড়া ভাব দেশের জন্য সুখকর নয়।
অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব যেভাবে প্রশাসন সাজানোর দরকার ছিল, এ সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুরু থেকেই বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রশাসন সাজাতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছে সরকার। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে প্রশাসনের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল। কর্মকর্তারা সরকারের নীতিকে তাদের নিজস্ব নীতি হিসেবে বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বর্তমান প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েকটি ধারা থেকে পদায়ন হয়েছেন। ফলে তাদের মধ্যে বিএনপির প্রতি দায়বোধ নেই। শুধু রুটিন ওয়ার্ক করছেন।
অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জানান, মেধাবী ও দক্ষ হওয়ার পরও শুধু জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শের তকমা দিয়ে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যাদের পদোন্নতি ও পদায়ন থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল, তাদের অনেকে এখনো বঞ্চিত রয়েছেন। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কানিজ মওলাসহ কয়েকজন সচিবের ওএসডি হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদের ওএসডি হওয়ার ঘটনা বর্তমান সরকারের নীতি, কর্মসূচি, নির্বাচনি ইশতেহার ও আদর্শ ধারণ করা কর্মকর্তাদের ব্যথিত ও হতবাক করেছে। প্রশাসনে মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এসব কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের কেউ জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শকে ধারণ করেন এমন অভিযোগ এনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি ও পদায়ন থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাদের কেউ কেউ পদোন্নতি ও পদায়নের সুযোগ পেলেও নির্বাচিত সরকারের সময়ে এসে আবার ওএসডি হন তারা। তাদের পদগুলোতে অধিষ্ঠিত হয়েছেন এইচটি ইমামের প্রশাসন খ্যাত শেখ হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা। এর প্রভাব প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে পড়ছে বলেও জানান তিনি।
‘জয় বাংলার প্রশাসনে’ প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের নীতি
মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলার অভাব কেন? এমন প্রশ্ন ছিল একজন প্রতিমন্ত্রীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া প্রশাসন দায়ী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনকে সরকারের নীতিবিরোধী বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এ নিয়োগে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে দেশের ৬১ জেলার প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী বাদ পড়েন। যেসব প্রার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ধরনের প্রতিবেদন বর্তমান সরকারের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরাও।
প্রশাসনে আওয়ামী প্রভাবের কথা উল্লেখ করে একজন কর্মকর্তা জানান, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও শেখ হাসিনার জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের হাতে গড়া প্রশাসনের ধারাবাহিকতায় চলছে বর্তমান প্রশাসন। আগের আমলে সার্ভিস রুল ও রুলস অব বিজনেসের পরিবর্তে সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আওয়ামী লীগের নীতি ও নির্বাচনি ইশতেহারকেই নীতি হিসেবে প্রতিপালন করতে হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারি করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ‘জয় বাংলা’ বলতেও বাধ্য করা হয়। বর্তমান সরকার প্রশাসন সাজানোর ক্ষেত্রে ‘উদার নীতি’ নেওয়ায় সর্বত্র আওয়ামী লীগের সেই ‘জয় বাংলা’র অনুসারী কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থান করে নিয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এইচটি ইমাম। বহুল আলোচিত ওয়ান-ইলেভেন সরকার-পরবর্তী ওই নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর পুরো জনপ্রশাসন সাজানোর দায়িত্ব পান তিনি। তিনি ২০২১ সালে মারা গেলেও ইমাম প্রশাসনের ধারাবাহিকতা অন্তর্বর্তী সরকারের হাত ধরে বর্তমান প্রশাসনেও চলমান বলে জানান পদোন্নতি ও পদায়নবঞ্চিত কর্মকর্তারা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া একজন কর্মকর্তা জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আলী ইমাম মজুমদারকে প্রশাসন সাজানোর দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনিও আওয়ামী প্রশাসনের প্রায় পুরোটাই বহাল রাখেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে রদবদল করা হলেও অধিকাংশ মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আগের প্রশাসনিক কাঠামোই বহাল রাখা হয়।
অপর একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রার শুরুর দিন থেকেই প্রশাসনে তিনটি বলয় তৈরি হয়। প্রথম বলয়টি আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের। অপর দুটি বলয় তৈরি হয় বিএনপি ও জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের নিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে লোক বাছাইয়ের শুরুতে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেলে তার সুযোগ নিয়েছেন আগে থেকে ওই পদে থাকা আওয়ামীপন্থি ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কর্মকর্তারা। এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে বলেও জানান সাবেক এ শীর্ষ আমলা।
ঘুস-দুর্নীতির হেরফের হয়নি
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এর সিংহভাগের পেছনে দেশের আমলাদের হাত ছিল। অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি জড়িতও ছিল বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘আওয়ামীপন্থি’ হিসেবে পরিচিত হাসিনা সরকারের লুটপাটের সঙ্গী প্রশাসনের বড় অংশটি বর্তমান বিএনপি সরকারের কাঁধে ভর করেছে বলেও অভিযোগ ওই সময় বঞ্চিত কয়েকজন কর্মকর্তার। তাদের মতে, জুলাই বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারও আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া কর্মকর্তাদের স্বপদে বহাল রেখে দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। এ ব্যর্থতার দায় এখন নতুন সরকারের কাঁধেও পড়েছে বলে মনে করছেন তারা।
সেবাগ্রহীতারা বলেন, সরকারের বদল হলেও ঘুস, দুর্নীতি, অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো হেরফের হয়নি। ফাইল আটকে টাকা আদায় সেই আগের মতোই রয়েছে। ঘুস ছাড়া কোনো ফাইল নড়াচড়া তো দূরের কথা, কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে কথা বলাও মুশকিল। সিটি করপোরেশন কার্যালয়, ভূমি অফিস, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিসগুলোসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি দপ্তরগুলোতে ঘুসের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। এমন চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশ্যে ঘুস লেনদেনের ঘটনায় যে কয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তারা সবাই পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী থাকাবস্থায় এক অনুষ্ঠানে আক্ষেপ করে বলেছেন, দেশের প্রশাসনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। আগে যারা ঘুস খেতো, তারা এখনো ঘুস খাচ্ছে। ঘুস ছাড়া একটি ফাইলও নড়াচড়া করে না।
সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে ঘুস লেনদেনের কথা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে পদে পদে ঘুসের সম্মুখীন হওয়ার পর শাহেদ শরীফ আহমেদ ‘ঘুস ডট সাইট’ নামে একটি ওয়েবসাইট খুলে প্রতিবাদ জানান। তার এ সাইটে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ১৯ হাজার ২৫৮টি ঘুসের অভিযোগ জমা পড়ে। এতে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি করা ঘুসের মোট পরিমাণ ৫৫২ কোটি টাকা।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ মিয়া আমার দেশকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে একটি ভঙ্গুর প্রশাসন পেয়েছে। এ প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর জন্য যে ধরনের দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রয়োজন ছিল, তা বাছাইয়ে সরকার ভুল করেছে। বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি ও অবসরে পাঠালেও প্রশাসনের সর্বত্রই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ পদ ও অবস্থানে রয়েছেন। এতে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের অধিকাংশই সরকারের কর্মসূচি ও নীতিকে নিজেদের নীতি হিসেবে গ্রহণ করছেন না। তারা শুধু রুটিন ওয়ার্কই করে চলেছেন। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হয়ে আসা একটি সরকারের প্রশাসনের যে স্পিরিট থাকার কথা, বর্তমানে সেটা দেশে নেই বলেও জানান কর্মকর্তারা।
রাজনৈতিক নিয়োগে প্রশাসনে হতাশা
এদিকে প্রশাসনের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন পদে রাজনৈতিক নেতাদের নিযুক্ত করায় ক্ষোভের পাশাপাশি হতাশাও প্রকাশ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। কিছুদিন আগে একযোগে ১২টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নিয়োগ দেয় সরকার। এর আগে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে সরকারদলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও অস্বস্তি
জানা গেছে, প্রশাসনের ঢিলেঢালা ভাব নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও অস্বস্তি বিরাজ করছে। পুলিশের কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না। অতীতে অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন আইজিপি থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নিজেদের সংশোধনের সুযোগ রয়েছে পুলিশের।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তাদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনজনিত বিষয় নজরে এলে তাদের সাময়িক বরখাস্তসহ যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা রুজু করে শাস্তির বিধান রয়েছে এবং এই তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার এসিআরে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


