আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভোটের আগে মানুষের হাতে নগদ টাকা বেড়েছে ৪১ হাজার কোটি

রোহান রাজিব

ভোটের আগে মানুষের হাতে নগদ টাকা বেড়েছে ৪১ হাজার কোটি

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এ নির্বাচন উপলক্ষে দেশব্যাপী প্রচার কার্যক্রম এখন তুঙ্গে। একইসঙ্গে নির্বাচনি প্রচারের ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। বিশেষ করে গত দুই মাস—ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংক থেকে মানুষের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত দুই মাসে নগদ টাকা উত্তোলনের পরিমাণ বেড়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এটি ঘটছে। কারণ নির্বাচনি ব্যয় মেটাতে প্রার্থীরা টাকা উত্তোলন করছেন। অবৈধ বা বড় কোনো লেনদেন সন্দেহজনক হলে তা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পর্যবেক্ষণ করবে। সন্দেহজনক লেনদেন দেখলেই ব্যাংকগুলোকে রিপোর্ট করার নির্দেশনা দেওয়া আছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের মোট প্রচলিত মুদ্রা থেকে ব্যাংকে জমা টাকা বাদ দিয়ে প্রতি মাসে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।

গত বছরের জুলাই থেকে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে নগদ টাকা কমতে শুরু করে। এই ধারাবাহিকতা নভেম্বর পর্যন্ত বজায় ছিল। তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, আগস্টে কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা এবং অক্টোবরে কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে মানুষের হাতে নগদ টাকা বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কারণ প্রার্থীরা তাদের ব্যয় মেটাতে সাধারণত নগদ লেনদেন করে থাকেন। অস্বাভাবিক কিছু হলে ব্যাংকগুলো বিএফআইইউকে তা রিপোর্ট করে।

এদিকে গত ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে তদারকি জোরদার করেছে বিএফআইইউ। সংস্থাটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো একটি হিসাবে কোনো নির্দিষ্ট দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তদূর্ধ্ব অর্থ কিংবা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা জমা বা উত্তোলনের (অনলাইন, এটিএমসহ যেকোনো ধরনের নগদ লেনদেন) ক্ষেত্রে বিএফআইইউর কাছে নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন (সিটিআর) অবশ্যই জমা দিতে হবে।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নগদ লেনদেন প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহের রিপোর্ট পরবর্তী সপ্তাহের তিন কার্যদিবসের মধ্যে জমা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে সিটিআর দাখিলে ব্যর্থতা কিংবা ভুল, অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা তথ্য বা বিবরণী সরবরাহ করলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও মানুষের মধ্যে নগদ টাকা হাতে রাখার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। তবে তা উল্লেখযোগ্যভাবে আসন্ন নির্বাচন থেকে অনেক কম। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের আগের দুই মাস—নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকা বেড়েছিল আট হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বরেই বেড়েছিল ছয় হাজার কোটি টাকা।

এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) সীমিত করা হচ্ছে। এর ফলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহকরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করতে পারবেন। প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির হিসাবে টাকা স্থানান্তর সেবা বন্ধ রাখা হবে। ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সীমিতকরণ অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে যাতে অর্থের অপব্যবহার না করা যায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করবে। টাকার লেনদেনের সীমা কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন