ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘কালা মোবারক’ ওরফে ‘গলাকাটা মোবারকসহ’ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
গতকাল বুধবার ভোরে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘কালা মোবারক’ ওরফে ‘গলাকাটা মোবারকসহ’ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল রয়েছে। এটি ব্রাজিলের তৈরি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পিস্তলটি কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র। মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কালা মোবারককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম পিস্তলটিকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।
গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে। হত্যার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া অন্য অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ৭ দশমিক ৬৫ এমএম বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি দেশীয় পিস্তল। এ ছাড়া ২৩ রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, কালা মোবারক বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম সহযোগী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ। তিনি ওই বাহিনীর ‘প্রধান শুটার’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি, রাউজান ও চট্টগ্রাম নগরে একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।
মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায় এর আগে আফসার, ধামা ইলিয়াস ও দিদার নামের তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী তদন্তে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সম্প্রতি আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে অস্ত্রের তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
লুটের অস্ত্র পৌঁছাল সন্ত্রাসীর হাতে
থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রের একটি এখন ফটিকছড়িতে এক সন্ত্রাসীর কাছ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্রটির গতিপথ নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ৯ এমএম পিস্তলটি কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের তালিকার সঙ্গে মিলে গেছে।
এখন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অস্ত্রটি কীভাবে থানা থেকে লুট হওয়ার পর অপরাধীদের হাতে পৌঁছাল, সেটি। একই সঙ্গে অস্ত্রটি লুটের পর কার কার হাতে ছিল এবং এর আগে কোনো অপরাধে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই করা হচ্ছে। অস্ত্রের সিরিয়াল নম্বর ও সরকারি রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে এর উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র হিসেবে পিস্তলটির সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে অস্ত্রের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তদন্তে পিস্তলটির ব্যালিস্টিক প্রতিবেদন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত মিলিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই সঙ্গে কালা মোবারকের কাছ থেকে একসঙ্গে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে এবং বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কীভাবে অস্ত্র সরবরাহ করা হতো, সেটিও তদন্তের অংশ হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ি, রাউজান ও চট্টগ্রাম নগরকেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই কালা মোবারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্রের বিষয়টি এখন তদন্তে আরও স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

