নরসিংদীর রায়পুরায় এক কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. নয়ন মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নরসিংদী প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী লুৎফর রহমান। তিনি রায়পুরা উপজেলার হাসনাবাদ এলাকার শহীদুল হকের ছেলে। ২১ বছর কুয়েতে কর্মরত ছিলেন। ১৪ বছর আগে হাফসা আক্তারের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের বৈবাহিক জীবনে মো. তাওহিদ (১১) নামে এক ছেলে এবং তাসমীম আক্তার (৮) নামে এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
লুৎফর রহমানের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আদালতে মামলা করতে গিয়ে তার পরিচয় হয় নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নয়ন মোল্লার সঙ্গে। মামলায় লুৎফর নিজে বাদী হতে চাইলেও কৌশলে তার স্ত্রী হাফসাকে বাদী করিয়ে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব নেন নয়ন মোল্লা। সেই সুযোগে নয়ন মোল্লা প্রবাসীর স্ত্রীকে ফুসলিয়ে পরকীয়ায় লিপ্ত হন এবং বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন।
গত ৩ আগস্ট কুয়েতে অবস্থানকালে বিষয়টি জানতে পেরে ৪ আগস্ট থেকে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন লুৎফর। পরে সন্দেহ হলে ৬ আগস্ট তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে শহরের ব্যাংক কলোনির ভাড়া বাসায় খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লা এবং তার স্ত্রী হাফসা আক্তার প্রায় ৭ মাস যাবৎ ওই বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করে আসছেন। লুৎফর দেশে ফিরছেন খবর পেয়ে নয়ন মোল্লা প্রবাসীর স্ত্রী, দুই সন্তান, অর্জিত ১ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও হয়ে যান। পরে নয়ন মোল্লার মোবাইল ফোনে স্ত্রী-সন্তান, টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করলেও মালামাল ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগে আরো বলা হয়, নয়ন মোল্লা নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক আইনবিষয়ক সহসম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি নরসিংদী জজ কোর্টের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদ বাগিয়ে নেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অন্যের একাধিক স্ত্রী ও টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং পরবর্তীতে তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রবাসী লুৎফর রহমান বলেন, আদালত ও আইনজীবীরা হলেন সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল। আইনজীবী হয়ে যদি কেউ এমন প্রতারক ও লোভী হয়, তবে মানুষ কোথায় বিচার পাবে? আমার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে অমানবিক উপায়ে নিয়ে যাওয়া একজন আইনজীবীর দ্বারা কীভাবে সম্ভব? বিদেশের কষ্টার্জিত টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে তারা এখন লাপাত্তা। আমি দেশবাসীর কাছে এর ন্যায়বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট নয়ন মোল্লা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। লুৎফর রহমান তার স্ত্রী হাফসাকে নির্যাতন করতেন বলেই হাফসা তাকে তালাক দিয়েছেন। টাকা-পয়সা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে তিনি নিজেকে আত্মগোপনে নেই বলে দাবি করেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, লুৎফর দেশে ফিরে তার আইনজীবী চেম্বারে সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালিয়েছেন, যার আলামত নরসিংদী মডেল থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব সমিতির সাধারণ সম্পাদককে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হবে। আর সমিতি থেকে বহিষ্কৃত হলে তার এপিপি পদটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এম আর আল মামুন জানান, প্রবাসীর লিখিত অভিযোগটি হাতে পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

