‘জিপিএ-৫ পাওয়াকে জীবনের আলটিমেট অর্জন মনে করবেন না। সামনে আরও কঠিন যাত্রা আছে। এখন বিনয়ী হয়ে এক পয়েন্টে চেষ্টা করতে হবে’—এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এমন অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ।
তিনি বলেন, এসএসসির ফলাফল সফলতার শেষ ধাপ নয়; বরং এটি উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার বড় প্রস্তুতির শুরু। জিপিএ-৫ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে পরবর্তী ধাপের জন্য আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার মমতাজ কনভেনশন হলে উপজেলা ছাত্রশিবির আয়োজিত জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানটি আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ সাইফুদ্দিনের পরিচালনায় এবং সেক্রেটারি রিয়াদুল এরশাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
এস এম ফরহাদ বলেন, ‘যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ নাও পেতে পারে। আবার যারা জিপিএ-৫ পায়নি, তাদের অনেকেই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারে। তাই কোনো ফলাফলকেই জীবনের চূড়ান্ত পরিচয় হিসেবে দেখা যাবে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রতিযোগিতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনসংখ্যা সীমিত। ফলে শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, পরবর্তী ধাপের প্রতিযোগিতার জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এসএসসির পরের দুই বছর শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইন্টারমিডিয়েটে ভালো ফলাফল অর্জন করা এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যতের উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।’
শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করার পরামর্শ দিয়ে ফরহাদ বলেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনে অনেক কিছু থেকেই নিজেকে দূরে রাখতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত অধ্যবসায়ই একজন শিক্ষার্থীকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে ‘ডিপ ফোকাস’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া শুধু বই খুলে বসে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। কখন কী পড়তে হবে, কোন অধ্যায় শেষ করতে হবে এবং কত সময় পড়তে হবে—এসব আগে থেকেই নির্ধারণ করে পড়াশোনা করতে হবে।
নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ২০, ৩০ কিংবা ৫০ মিনিটের ফোকাস সেশনে পড়াশোনা করলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। পড়ার সময় অন্য কোনো চিন্তা মাথায় এলে সঙ্গে সঙ্গে সেই কাজে ব্যস্ত না হয়ে তা কাগজে লিখে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এতে মনোযোগ নষ্ট না করে নির্ধারিত সময়ের পড়াশোনা শেষ করা সম্ভব হবে।
পড়ার পরিবেশ নিয়েও শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান ডাকসুর জিএস। সম্ভব হলে এমন জায়গায় পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন, যেখানে বাইরের কোনো বিষয় সহজে মনোযোগ নষ্ট করতে পারে না।
শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “থিঙ্ক গ্লোবালি, অ্যাক্ট লোকালি।” অর্থাৎ নিজের অবস্থান থেকে কাজ করলেও চিন্তা ও লক্ষ্য হতে হবে বিশ্বমানের।
জীবনের প্রতিকূলতাকে সাফল্যের পথে বাধা না মনে করার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকট, বাবা কৃষক বা রিকশাচালক হওয়া কিংবা অন্য কোনো সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতা সফলতার পথে চূড়ান্ত বাধা নয়। বরং এসব সংকটকে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
জীবনে একজন আদর্শ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই মানুষ নিজেকে গড়ে তুলতে পারে উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য, সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবুল হাসান এবং ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের অফিস সম্পাদক সারতাজ আরেফিন ফাহিম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আনোয়ারা উপজেলার তত্ত্বাবধায়ক শোয়াইবুল ইসলাম মোরশেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিবুল হাসানসহ ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

