ছাত্রলীগ কর্মীর হামলা, রাবিতে উত্তেজনা

ছাত্রলীগ কর্মীর হামলা, রাবিতে উত্তেজনা
রাবিতে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা। ছবি: আমার দেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) কার্যালয়ে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ এক নেতার ওপর সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীর হামলার ঘটনায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নারীঘটিত এক ইস্যুতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তার সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীরা। উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী ছাত্রদল কর্মী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রক্টর দপ্তরে আসেন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাস।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এসময় প্রক্টরের সঙ্গে আনাসের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রক্টর তাকে দপ্তর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

দুপুর ১২টার দিকে অভিযোগের বিষয়ে মহসিন আলমের বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি নেওয়ার জন্য তাকে প্রক্টর দপ্তরে তলব করা হয়। এ সময়ও আনাস সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আবারও প্রক্টরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তাকে মারধর করেন।

এরপর ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আনাসকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ প্রক্টর দপ্তরে আসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে প্রক্টর পুলিশকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান বলে জানা গেছে।

পরে আনাস প্রক্টর দপ্তর থেকে বের হয়ে কিছু সময় পর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাকসু ভবনে অবস্থানরত নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ-বিজ্ঞান সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন।

হামলার পর উভয় পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে চলে যায়। সেখানে রাকসু নেতৃবৃন্দ এবং আনাসের নেতৃত্বাধীন দলের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একপর্যায়ে আনাস ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গ্রন্থাগারের রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান এবং জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আহত এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ করে দেন প্রক্টর। তবে অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার পথেও তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘সেইফ এক্সিট’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন রাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ।

পরে উপাচার্যের সঙ্গে শিবির, রাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দের বৈঠক হয়। এতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় আহত রাকসুর সহ-বিজ্ঞান সম্পাদক নাজমুস সাকিব বলেন, আনাস প্রক্টর অফিস থেকে বের হয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ রাকসু ভবনে এসে জিয়া হলের জিএস আরিফকে খুঁজতে থাকে। আমি বলি, আরিফ জিয়া হলে থাকবে, রাকসু ভবনে কেন খুঁজতে আসছেন। এরপর আনাসসহ কয়েকজন রাকসু জিএসের কক্ষে গিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়।

তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে আনাসের সঙ্গে থাকা ছাত্রদলের কয়েকজন মিলে আম্মারের ওপর হামলা করে রাকসু ভবন থেকে বেরিয়ে লাইব্রেরির দিকে চলে যায়। এরপর প্রক্টর স্যার ওদের সেইফ এক্সিট দিয়েছেন।

সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা খুব দ্রুত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন