পানি না পেয়ে জমিতে ফাটল

ক্ষেতলালে গভীর নলকূপের মালিকানা দ্বন্দ্বে সেচ বন্ধ, বিপাকে কৃষক

ক্ষেতলালে গভীর নলকূপের মালিকানা দ্বন্দ্বে সেচ বন্ধ, বিপাকে কৃষক
ছবি: আমার দেশ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে গভীর নলকূপের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়া ও নলকূপের ঘরে ডাবল তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রায় ১৫০ বিঘা জমির কৃষক। পানি না পেয়ে অনেক জমিতে ফাটল ধরেছে, শুকিয়ে যাচ্ছে আমনের চারা। ব্যাহত হচ্ছে আগাছা দমন ও সার-কীটনাশক প্রয়োগসহ জমির পরিচর্যা।

শনিবার ২২ আগস্ট সকালে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর মৌজার দাওয়ারপুকুর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গভীর নলকূপটির বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার নেই। নলকূপের ঘরে ঝুলছে দুটি তালা। আশপাশের জমিতে পানির অভাবে ফাটল ধরেছে। কোথাও আমনের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও আগাছায় জমি ভরে গেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষক জালাল, ইয়াকুব, জাহাঙ্গীর ও মোতালেবসহ কয়েকজন জানান, মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে গভীর নলকূপটি বন্ধ রয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচের অভাবে তারা চরম সমস্যায় পড়েছেন। জমিতে পানি দিতে না পারায় চারা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং সময়মতো আগাছা দমন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তার প্রায় পাঁচ বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘা জমিতে পানি না থাকায় আমন ধান রোপণ করতে পারেননি। মালিকদের দ্বন্দ্বের কারণে কৃষকের ক্ষতি কেন হবে- এ প্রশ্ন তুলে তিনি দ্রুত নলকূপটি চালুর দাবি জানান।

গভীর নলকূপটির সাড়ে ১১ আনা মালিকানা রয়েছে দাবি করে মোতালেব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নলকূপটির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর ধরে অপর পক্ষ জবরদখল করে নলকূপটি পরিচালনা করছে এবং বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করছে না। বিদ্যুৎ মিটার তার নামে থাকায় তিনি নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছেন। এ কারণে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগের পর ট্রান্সফরমার খুলে নেওয়া হয়েছে এবং সেটি বর্তমানে থানায় রয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের দাবি জানান তিনিও।

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ওই কৃষকের জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কৃষকরা চাষাবাদের প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছেন না। তাই কৃষকদের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

অপর পক্ষের শেয়ার মালিক মতিউরের ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন, প্রায় ৩০ বছর মোতালেব তালুকদার নলকূপটির দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে গত দেড় বছর ধরে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত মোতালেব হোসেনের হাতে দেওয়া হয়েছে। গত ১২ জুলাই মোতালেব ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যান। এতে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দ্রুত নলকূপটির সংযোগ চালু করার দাবি জানান তিনিও।

ক্ষেতলাল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ) কাজী তৌকির আহমেদ বলেন, গভীর নলকূপটির শেয়ার মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ একজনের নামে থাকায় তিনি অফিসে আবেদন করেছিলেন। কৃষকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে এক পক্ষ থানার সহযোগিতা নিয়ে ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যায়। মালিকানা নিয়ে বিরোধ মীমাংসা হলে জানানো মাত্রই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।

ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ মুক্তারুল আলম বলেন, মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে মিটার মালিক পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রান্সফরমারগুলো থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুই পক্ষের বিরোধ দ্রুত মীমাংসা হওয়া উচিত। মালিকদের ডেকে সমাধানের আশ্বাস দেন ওসি৷

এদিকে, মালিকানা বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করে গভীর নলকূপটি চালু না হলে চলতি আমন মৌসুমে কৃষকের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন