জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাজনীতিকদের অবাস্তব বক্তব্যে অপূরণীয় ক্ষতি

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে রাজনীতিকদের অবাস্তব বক্তব্যে অপূরণীয় ক্ষতি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বজুড়ে দ্রুত স্পষ্ট হলেও এ সংকট মোকাবিলায় রাজনীতিকদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। যুক্তরাজ্যে রেকর্ড তাপমাত্রা, খরা, ফসল নষ্ট হওয়া ও দাবানলের মতো ঘটনা বাড়লেও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এখনো জলবায়ু নীতি বাস্তবায়নের খরচ নিয়েই বেশি চিন্তিত।

সম্প্রতি বিবিসি রেডিও-৪-এর একটি আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—সংকট মোকাবিলায় কি ইতোমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে? আলোচনায় অংশ নেওয়া গার্ডিয়ান-এর কলাম লেখক জো উইলিয়ামস বলেন, এখনো আশা হারানোর সুযোগ নেই। তাঁর মতে, পৃথিবীর উষ্ণতা যতই বাড়ুক, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু ক্ষতি ইতোমধ্যে অপূরণীয় হয়ে উঠেছে বলেও মত দেওয়া হয়। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বার্চ গাছের টিকে থাকা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে।

আলোচনায় কনজারভেটিভ এমপি নাইজেল হাডলস্টনের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেন উইলিয়ামস। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের দৃশ্যমান প্রভাবের মধ্যেও কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যে যাওয়ার ব্যয়কে বড় করে দেখানো বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে অংশ মাত্র প্রায় ১ শতাংশ—এমন যুক্তিও দেশটির রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায়ই আসে। কিন্তু উইলিয়ামসের মতে, এই যুক্তি দিয়ে জলবায়ু মোকাবিলার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। চীনসহ অন্য দেশগুলোও একই কাজ করবে—এমন অপেক্ষায় বসে থাকলে সংকট আরও গভীর হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব যখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তখন রাজনৈতিক বক্তব্যও সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে; তাই রাজনৈতিক কৌশল ও কথার মারপ্যাঁচে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন