আলীজাহ মুহাম্মাদ সামানীন

আলা ইবনে হাজরামি বাহিনী নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন। তিনি এমন এক ভয়ানক ও প্রাণীবিবর্জিত নির্জন মরুপথ অতিক্রম করেন, যে পথে সচরাচর কেউ যাতায়াত করত না। অবশেষে তিনি গন্তব্যে পৌঁছান এবং হাজার নামক স্থানে মুরতাদদের মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করলেন।

মুসলিম বাহিনীর প্রাথমিক বিপর্যয়ের পর যখন মুরতাদরা খালেদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর তাঁবু পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন মুসলিম বাহিনী আবার সংগঠিত হতে শুরু করে। যুদ্ধের ওই মুহূর্তে মুজাহিদদের আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধের লক্ষ্যে শুরাহবিল ইবনে হাসানা (রা.)-এর নেতৃত্বে তৃতীয় বাহিনী প্রস্তুত করা হয়। তার অধীন সৈন্যসংখ্যা ছিল তিন হাজার। খলিফা আবু বকর (রা.) তাকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি পাঠান।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের আগে আরবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিদল মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় হানিফা গোত্রের বড় একটি দল মদিনায় আসে। তাদের মধ্যে সুমামা ইবন উসাল (রা.) ছিলেন।

খলিফা আবু বকর (রা.) ধর্মদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান পরিচালনার আগে শেষবারের মতো মুরতাদ গোত্রগুলোর কাছে চিঠি পাঠালেন এবং তাদের ইসলামের ফিরে আসার উদাত্ত আহ্বান জানালেন। তার আহ্বান মানা না হলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করার সতর্ক করে দিলেন।