Rohan Rajiv

দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপির ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সতর্ক বার্তা হয়ে উঠেছে। বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও আমানতকারীদের আস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা নীতিগত দুর্বলতা, রাজনৈতিক

দেশের ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের ঋণে খেলাপির হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের জুন শেষে ৫০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ। ২০২৪ সালের একই সময় এ হার ছিল ১৭ দশমিক ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং আপডেট-সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত এক বছরে এ খাতে প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সময়ে আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ। এছাড়া এ সেবা ব্যবহার করে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সেও বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। সহজ প্রক্রিয়ায় ঋণ গ্রহণ, সঞ্চয়ের সুবিধা, তুলনামূলক কম সু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে নতুন এবং পুরাতন ভোটারদের আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা-৮ আসনের টিএন্ডটি উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরিবারের সঙ্গে ভোট দিতে এসেছেন সানজিদা আক্তার নুরু ও অহনা।

ত্রয়োদশ সংসদ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে শহিদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করেছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জাহারা নাফিছা।

মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না আসায় এবারের মুদ্রানীতিও সংকোচনমূলক রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বাজারে অর্থের জোগানও বাড়ানো হয়েছে, যা সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে

ব্যাংক খাতের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র থেকেও সরকারের ঋণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার নিট দুই হাজার ৪৬১ কোটি টাকার ঋণ পেয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে নিট ঋণ ছিল ঋণাত্মক দুই হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছ

গত দুই মাস—ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংক থেকে মানুষের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এখনই তিন এনবিএফআই জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে অবসায়ন করা হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের রূপালী ব্যাংক। গত বছর রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণ আদায়ে এগিয়ে ছিল এই ব্যাংকটি। ব্যাংকটির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আমার দেশ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রোহান রাজি

দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লিকুইডেশনের যৌক্তিকতা যাচাইয়ে শুনানি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেবে সরকার। তবে প্রাতিষ্ঠানিক আমানত এবং অ

ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে পরিচালকরা বছরে টানা তিন মাসের বেশি ছুটি নিতে পারবেন না—এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমান আইনে পরিচালকদের ছুটির নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকেই দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও পর্ষদে বহাল রয়েছেন, যা ব্যাংক পরিচালনা ও আমানতকার

দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩৭ শতাংশেরও বেশি।

দেশের ভেতরে বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থবির থাকলেও বিদেশে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশিরা বিদেশে মোট এক কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮২৯ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপ থেকে দুই কোটি টাকা ঘুস নেওয়ার তথ্য পেয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ। অবসরের পর ২৭ মাস এস আলমের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ৬ লাখ টাকা বেতনে চাকরিও করেন তিনি। ইসলামী ব্যাংক ও এসআইবিএলসহ কয়েকটি ব্যাংক দখ

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তাদের জমাকৃত আমানতের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাবেন না। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

হঠাৎ করেই আবার চাপে পড়তে শুরু করেছে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা। চলতি অর্থবছরের শুরুতে সরকার যেখানে ব্যাংক থেকে নেওয়া আগের ঋণ পরিশোধে মনোযোগী ছিল, সেখানে কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে সরকারের ব্যাংকঋণ নেওয়ার গতি দ্রুত বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩০০টি আসনের বিপরীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৭৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে এসব প্রার্থী ঋণখেলাপি কি না—তা যাচাই করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণতথ্য ব্যুরো (সিআইবি)।

একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বিশেষ রেজুলেশন স্কিম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিম অনুযায়ী আমানতকারীরা প্রথমে দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। এরপর যারা দুই লাখ টাকার বেশি আমানত রেখেছেন, তারা স্কিম কার্যকর হওয়ার পর প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে সর

একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি বিশেষ স্কিম অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই স্কিমের অনুমোদন দেন। আগামীকাল মঙ্গলবার সার্কুলার আকারে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন মজিবর রহমান শামীম। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি চরমোনাই পীরের দলে যোগ দেন।

একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। আগামী সোমবার থেকেই এসব ব্যাংকের গ্রাহকরা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। ব্যাংকগুলোর নিজ নিজ শাখা থেকেই এ টাকা তোলা যাবে। আমানত বীমা তহবিল থেকে এ অর্থ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির হার দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তবে পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে খেলাপি ঋণের মান।

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ১৭টির মোট ঋণের ৫০ থেকে ৯৯ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনে

স্কিম অনুযায়ী প্রথম ধাপে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আমানতকারীরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা এককালীন উত্তোলন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় আমানত বীমা তহবিল থেকে এ অর্থ পরিশোধ করা হবে।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত তথ্য সঠিক, নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্বাচনকালীন ঋণতথ্য যাচাইকে আরো স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে তথ্য হালনাগাদ ও যথা

বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থায় মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের জন্য উদ্যোগ নেয়। এ সুবিধা নিতে এক হাজার ৫১৬ আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এখন পর্যন্ত ৩০০ গ্রুপের ৯০০টি আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নীতি সহায়তা পাওয়ার মধ্যে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অর্থঋণ আদালতে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২২ হাজার ৩৪১টি। এসব মামলায় আটকে আছে চার লাখ সাত হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। তবে গত মার্চ পর্যন্ত দুই লাখ ১৯ হাজার ৬৩৩ মামলায় আটকে ছিল তিন লাখ ২০ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা।

দেশের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকে থাকা বিপুল ঋণের চাপেই ধসের মুখে পড়েছে এবি ব্যাংক। এক সময় গ্রাহকসেবায় সুনাম কুড়ানো প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকটি এখন গভীর আর্থিক সংকটে। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট ঋণের ৮৪ শতাংশ। মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেকই আটকে আছে বড় গ্রহীতাদের

বেসরকারি খাতের আইএফআইসি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকের লুকানো বা নিয়মিত দেখানো পুরোনো খেলাপি ঋণগুলো নতুনভাবে শ্রেণিবিন্যাস করতেই এমন উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

বেসরকারি খাতের আইএফআইসি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকের লুকানো বা নিয়মিত দেখানো পুরোনো খেলাপি ঋণগুলো নতুনভাবে শ্রেণিবিন্যাস করতেই এমন উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় কমাতে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন ভাতার ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত জানান গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর।

আইএমএফের ঋণ চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে বেসরকারি খাতে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ এবং সরকারি ব্যাংকে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৪৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকের ৪ দশম

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক ঋণ সুদহারের সীমা বেঁধে রাখা হয়েছিল। সরকার পতনের পর সেই সীমা তুলে দিয়ে বাজারমুখী করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোয় আমানতের সুদহার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। তাতে কিছু ব্যাংকে প্রচুর আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারছে না। এতে ব্যাংকগুলোর কাছে

আগামী রমজান ঘিরে দেশে ৯ ধরনের ভোগ্যপণ্য আমদানি গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। আমদানি বৃদ্ধি পাওয়া এসব পণ্যের তালিকায় রয়েছে চিনি, সয়াবিন তেল, ডালজাতীয় পণ্য ছোলা, মটর ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও খেজুর। পণ্যভেদে কোনো কোনোটির আমদানি বেড়েছে ২৯৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ডসহ জনসাধারণকে দেওয়া সরকারি পাঁচটি পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আগামী ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস ও অন্যান্য অফিস গিয়ে সাধারণ মানুষ এ ধরনের সেবা পাবে না। মূলত নিরাপত্তাঝুঁকি কমানো, মতিঝিল অফিস আধুনিকায়ন ও উন্নত ভল্ট স্থাপন করার লক্ষ্যে

দীর্ঘ ২৫ বছর স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ আঁকড়ে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা গোপালগঞ্জের কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। শেখ হাসিনা ভারতে পালানোর পর তিনি নিজ থেকে চেয়ারম্যান পদ ছাড়েন। যদিও তিনিসহ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এখনো ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন।

দেশের ব্যাংক খাত এখন ভয়াবহ খেলাপি ঋণের চাপে নাজুক অবস্থায় পড়েছে। লাগামহীন এ ঋণ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে, সেগুলোকে একীভূত (মার্জার) করা বা অবসায়নের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছে। সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলের

চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসায় জড়িয়েছেন আইএফআইসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা ইকবাল পারভেজ চৌধুরী। তিনি ‘ইকবাল ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের

ঋণ জালিয়াতিতে আলোচিত সাদ মুসা গ্রুপ আর্থিক খাতে আবার সক্রিয় হচ্ছে। অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় তদবির করছেন গ্রুপের কর্ণধার মুহাম্মদ মোহসিন। রপ্তানিতে কাঁচামাল কেনাবেচা দেখিয়ে ১১ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার ঋণ নেয় সাদ মুসা। এর বাইরে আরো

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব নেন শওকত আলী খান।

ব্যাংক খাতে আমানত বাড়লেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে বড় ধাক্কা লেগেছে। এ খাতে মানুষের বিনিয়োগে আকর্ষণ কমে যাচ্ছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৩৩৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯৬ শতাংশ কম। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিট বিনিয়োগ এসেছিল ৮ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে একটি বৃহৎ ইসলামী ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামী বুধবার এসব ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি)

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইউজার আইডি ব্যবহার করে একটি প্রতারকচক্র গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের অর্থ তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের মধ্যে আরিফুর রহমানকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত সরকারের আমলে যেসব ব্যাংক লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই সময় থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ধার দেওয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেটাকে বলা হয় ‘লেন্ডার অব দ্য লাস্ট রিসোর্ট’। এখন পর্যন্ত দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় জামানত ছাড়া প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এভাবে সুবিধা দেওয়ার

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঋণের নামে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়। ব্যাংক থেকে ঋণের নামে যে কয়টি গ্রুপ অর্থ বের করে নেয়, তার মধ্যে অন্যতম ছিল এস আলম গ্রুপ। জনতা ব্যাংকের প্রধান তিন শাখার একটি হলো সাধারণ বীমা ভবন করপোরেশন। এই শাখা থেকে ১০ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা ঋণ

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু আছে। এগুলো হলোপরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এসব সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কাছাকাছি।

বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের যাত্রা শুরু ১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর। এরই মধ্যে ২৬ বছর পেরিয়েছে ব্যাংকটি। বর্তমানে শীর্ষ কয়েকটি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে এমটিবির অবস্থান। দীর্ঘ এই পথচলায় সবার আস্থা অর্জন করেছে ব্যাংকটি।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বড় অংশই আটকে আছে মামলাজটে। এসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ব্যাংকগুলো অর্থ আদায় করতে পারছে না। বর্তমানে এই ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৪৯ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ অর্থ মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি-বেসরকারি অনেক ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। যেসব ব্যাংক অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার হয়েছে, তারা এখন বড় ধরনের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ২৪ ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে। এসব ব্যাংকের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। গত মার্চ শেষে