সাইফুল ইসলাম ফারহান

বাগেরহাটের মোংলা থানার কচুবুনিয়া গ্রামের সোবাহান হাওলাদার ও কুসুম বেগম দম্পতির বড় ছেলে শাহীন হাওলাদার। অভাবের সংসারে হাল ধরতে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারেননি। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করলেও সর্বশেষ গাড়ি চালানো ও ঢাকার গুলিস্তানে রেন্ট-এ কারের ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরেছিলেন।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আদম বাড়াইপাড়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মামুন ইসলামকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করতেও সংগ্রাম করতে হয়েছিল। এরপর জীবিকার সন্ধানে রাজধানীতে পাড়ি জমান তিনি।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল পুরো দেশ। সকাল থেকেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কাটছিল বেলা। ওইদিন দুপুরের দিকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরই উল্লাসে ফেটে পড়ে জনতা। যুদ্ধযাত্রা বদলে যায় বিজয় মিছিলে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল দিনগুলোতেও পেশাগত দায়িত্ব জারি রাখেন সাংবাদিক হাসান মেহেদী। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায়। সেখানে হঠাৎ পুলিশের ছররা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার শরীর।

গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন এসি মেকানিক আলামিন। ৫ আগস্ট কারফিউ ভেঙে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন। সেখানেই পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে লুটিয়ে পড়লে আন্দোলনরত কয়েকজন তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যান। আইসিইউতে ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

২০২৪ সালের ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের গণআন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মুগদা থানা শ্রমিক দলের সদস্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দিন।

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের এক দফা আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হন বাসচালক মনোয়ার হোসেন চৌকিদার (৪৭)। গত বছরের ৫ আগস্ট দুপুরে হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে বিজয় উদযাপনে মেতে ওঠে গোটা দেশ। সেই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতেও শুরু হয় আনন্দ মিছিল।

অর্ণবের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর গ্রামে। তবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। আবু তালেব ও সাহিদা বেগম দম্পতির তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে অর্ণব সবার ছোট। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

অভাবের সংসারে একমাত্র ভরসা ছিলেন নুরে আলম সরদার (৪৫)। পেশায় ছিলেন হকার। রাজধানীর উত্তরায় ভ্যানে করে বিক্রি করতেন পুরাতন কাপড়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে ১৬ জুলাই ভ্যানটি রাস্তায় রেখে বাসায় চলে আসেন। এরপর গত ১৯ জুলাই ভ্যানটি রাস্তায় সাইড করে রেখে আসার জন্য উত্তরা হাউস বিল্ডিং

ডলি আক্তারের প্রথম সন্তান শহীদ মুহা. জুনায়েদ হোসেন (২৩)। ছেলে যে আর বেঁচে নেই সেটা বিশ্বাসই হচ্ছে না মমতাময়ী মায়ের।

মায়ের নিষেধ না শুনে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার আন্দোলনে অংশ নিতে থাকেন শ্রমজীবী মায়ের একমাত্র সন্তান আকাশ। ৪ আগস্ট আন্দোলন যখন তুঙ্গে, সেদিন মিরপুর-১০ নম্বরে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।