আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

দুই সন্তান নিয়ে দিশাহারা শহীদ আলামিনের স্ত্রী

সাইফুল ইসলাম ফারহান

দুই সন্তান নিয়ে দিশাহারা শহীদ আলামিনের স্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন এসি মেকানিক আলামিন। ৫ আগস্ট কারফিউ ভেঙে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন। সেখানেই পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে লুটিয়ে পড়লে আন্দোলনরত কয়েকজন তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যান। আইসিইউতে ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

বিজ্ঞাপন

শহীদ আলামিনের বয়স ছিল আনুমানিক ৩৭ বছর। তার বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুডা উপজেলার মডেরহাট পোস্ট অফিসের চরমালগাঁও গ্রামে। তার স্ত্রী সুমি আক্তার। আলামিন-সুমি দম্পতির দুই ছেলে। বড় ছেলে সিয়াম ইয়াসিনের বয়স ১৩ বছর। পড়াশোনা করে ক্লাস সেভেনে। আর ছোট ছেলে ইয়াসিরের বয়স চার বছর । ছোট্ট শিশু এখনো বোঝে না তার বাবা আর নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আলামিন। তাকে হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সুমি।

কান্নারত অবস্থায় আমার দেশকে সুমি আক্তার বলেন, ৫ আগস্ট আন্দোলনে যাওয়ার পর মেরুল বাড্ডায় পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। এরপর আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আইসিইউতে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি শহীদ হন। তবে, তিনি কবে থেকে আন্দোলনে যেতেন তার কিছুই জানতাম না। এসব আন্দোলনকে আমি ভয় পাওয়ার কারণে আমাকে কিছুই জানাতেন না তিনি। ওই দিন দুপুরে খাওয়ার পর বাসা থেকে বের হয়ে যান । কিন্তু এরপর কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাসায় না ফেরায় আমি কল দিই তাকে। তিনি তখন আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি বাইরে আছি, একটু পরে আসতেছি বাসায়।’ তার সঙ্গে এটাই ছিল আমার শেষ কথা।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আলামিন। তাকে হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে এখন দিশাহারা সুমি আক্তার। শ্বশুর, বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনের আর্থিক সহায়তায় কোনোমতে চলছে তার সংসার। সরকার কোনো খোঁজখবর নেয়নি বলে জানান তিনি। এমনকি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকেও মেলেনি কোনো আর্থিক সহযোগিতা। তবে বিএনপি ও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন থেকে কিছু টাকা পেয়েছেন বলে জানান সুমি। তিনি বলেন, সন্তানদের নিয়ে আমার স্বামীর অনেক স্বপ্ন ছিল, আমি তার সেই স্বপ্ন পূরণে সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাব।

শহীদ আলামিনের বড় ভাই পারভেজ আমার দেশকে বলেন, আলামিন দেশের জন্য জীবন দিলেও রাষ্ট্র তার পরিবারের কোনো খোঁজ নেয়নি। এখন পর্যন্ত দেয়নি কোনো আর্থিক সহযোগিতা। সরকার যেন অতি দ্রুত এই শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতাসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং তার দুই সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানান পারভেজ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন