উপজেলা প্রতিনিধি, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর বাগডহরা এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র শিলাবৃষ্টিতে অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে। এতে শতাধিক পরিবার বর্তমানে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি মো. রিয়াদুন্নবী রিয়াদ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক ভোরের ডাকের মো. মঈনুজ্জামান মিল্টন। কোষাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন দৈনিক সংগ্রামের মো. আশরাফুল আলম এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক সংবাদ সংযোগের মো. সুমন মিয়া।

গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, আমি প্রায় ছয় বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে ভেবে আশা করছিলাম কিছু লাভ হবে। কিন্তু বাজারে আলুর দাম অনেক কম। তার ওপর হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গেছে। এখন যদি আলু পচে যায় তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহানাজের বাবা মো. সাহাবুল ইসলাম একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। সংসারের হাল ধরতে তিনি কাঁধে মাইক নিয়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, অনুষ্ঠান ও স্থানীয় ঘোষণার জন্য গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে সামান্য আয় করেন।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নেই চালক।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. রায়হান সিরাজী বলেন, নারীর অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তার অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

আনুর বাজার পশ্চিম সরকারটারি এলাকার মোকলেছ উদ্দিন বলেন,“ইউএনডিপি আমাদের মুরগি, ঘর আর খাবার দিয়েছে, যাতে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারি। আল্লাহ চাইলে এই মুরগিই আমাদের সংসার বাঁচাবে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তীব্র শীতের কারণে চরম দুর্ভোগে আছেন তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ। খোলা চর, নদীর হিমেল বাতাস এবং পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

ভারতের পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তাপাড়ের অন্তত ৪৫০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলার কোলকোন্দ, আলমবিদিতর, নোহালী, গঙ্গাচড়া সদর, লক্ষীটারী ও মর্নেয়া ইউনিয়নের বিশশাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মাত্র দুই মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে আলমবিদিতর ও নোহালী ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম। রোববার সকাল ৮টার দিকে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিতে শতাধিক কাঁচা ও কিছু ইটের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং কৃষিজমির ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।

এ বিষয়ে ঝর্ণা বেগম বলেন, `মোক বেইজ্জত করেন না ভাই। এগুলা বিষয় নিয়া বাড়াবাড়ি করি মোক বিপদোত না ফেলান।'

আলদাদপুর গ্রামের বাসিন্দা দীপংকর দাস বলেন, আজকে সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত। সবাই বাড়িতে অবস্থান করছেন। অমলেশ বর্মণ বলেন, রাতে আতঙ্ক ছিল, এখন পুলিশ আছে, তাই কিছুটা সাহস পেয়েছি।

চার দশক আগে তৈরি বাঁধটির ৬৭ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ৪৫ কিলোমিটার অংশ এখন কার্যত অরক্ষিত। কোথাও বাঁধের প্রস্থ ১৪ ফুট থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ ফুটে। কোথাও আবার বৃষ্টির পানিতে বাঁধের অস্তিত্বই নেই বলেই চলে । অথচ এর মাঝেই কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ এসেছে, হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমধর্মী ও মানবিক আয়োজনে যৌতুকবিহীন ২০ জন এতিম মেয়ের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

রংপুরের গঙ্গাচড়ার চর মটুকপুরে গড়ে তোলা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর ৯১টি। সরকারি কাগজে হয়তো সফলতার গল্প লেখা থাকলেও ৭০টির বেশি ঘরে এখন তালা ঝুলছে।