আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

অর্থাভাবে ঢাবিতে ভর্তি অনিশ্চিত প্রতিবন্ধী বাবার মেধাবী কন্যা শাহানাজের

উপজেলা প্রতিনিধি, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

অর্থাভাবে ঢাবিতে ভর্তি অনিশ্চিত প্রতিবন্ধী বাবার মেধাবী কন্যা শাহানাজের
বাবা মায়ের মাঝে মেধাবী কন্যা শাহানাজ

দারিদ্র্য আর সংগ্রামকে সঙ্গী করেই বড় হয়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. শাহানাজ আক্তার। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তার সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বকশীগঞ্জ এলাকার দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া শাহানাজ ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ও মনোযোগী। নানা প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি অবিরাম পরিশ্রম করে তার শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগে ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে ২০০ টাকা জমা দিয়ে রসিদও সংগ্রহ করেছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত ভর্তি, হলের খরচ, বইপত্র এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করা তার পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে শাহানাজ ও তার পরিবারের সদস্যদের।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহানাজের বাবা মো. সাহাবুল ইসলাম একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। সংসারের হাল ধরতে তিনি কাঁধে মাইক নিয়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, অনুষ্ঠান ও স্থানীয় ঘোষণার জন্য গ্রামে গ্রামে মাইকিং করে সামান্য আয় করেন।

অন্যদিকে মা স্বপনা বেগম মানুষের বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসারের খরচে সহযোগিতা করেন। তাদের এই সীমিত আয়ে কোনোভাবে সংসার চললেও মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শাহানাজ আক্তার বলেন, “অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু টাকার অভাবে যদি ভর্তি হতে না পারি, তাহলে আমার এতদিনের সব স্বপ্ন ভেঙে যাবে।”

তার মা স্বপনা বেগম বলেন, “মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে শুনে খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন টাকার চিন্তায় ঘুম আসে না। কেউ যদি একটু সাহায্য করতেন, তাহলে মেয়েটা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারত।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাহানাজ ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। অর্থের অভাবে তার মতো একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলে তা সমাজের জন্য বড় ক্ষতি হবে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা এগিয়ে এসে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন। তাদের বিশ্বাস, সুযোগ পেলে শাহানাজ একদিন নিজের মেধা ও যোগ্যতায় পরিবারের পাশাপাশি দেশের মুখও উজ্জ্বল করবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন