যশোরের বেনাপোল সীমান্তে কথিত পুশইন চেষ্টার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সীমান্ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে বসবাস করছে। সীমান্তের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি এসব ঘটনার আন্তর্জাতিকভাবে বিচার দাবি করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
পুশইন চেষ্টার প্রতিবাদ এবং সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সাদিপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বুধবার ভোররাতে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভোরের দিকে ভারতীয় বিএসএফ তাদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়।
বুধবার সকালে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ড্রোন উড়িয়ে পর্যবেক্ষণ চালালেও শূন্যরেখায় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি। একই সঙ্গে সীমান্তে অতিরিক্ত মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যদেরও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিভিন্ন বাঙ্কার থেকে অতিরিক্ত সদস্য সরিয়ে নেওয়া হলেও সীমান্তে বিজিবির নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার গভীর রাতে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের নরহরিপুর এলাকায় কয়েকটি ট্রাকে করে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জড়ো করা হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। পরে রাতের অন্ধকারে সীমান্তের আলো নিভিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ জনকে শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের টহলরত সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। ঘটনার পর থেকে শূন্যরেখায় অবস্থানকারী ব্যক্তিদের মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে, বর্তমানে সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও বিজিবির নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

