জুলাই হামলা মামলায় চার্জশিটে নেই অস্ত্র হাতে আলোচিত সেই বাবরের নাম

জুলাই হামলা মামলায় চার্জশিটে নেই অস্ত্র হাতে আলোচিত সেই বাবরের নাম

চট্টগ্রামে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলার তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বিজ্ঞাপন

তবে আলোচিত এই অভিযোগপত্রে স্থান পাননি হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, যার বিরুদ্ধে জুলাই ও আগস্টে নিউমার্কেট এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।

মামলাটি করেন মো. আফসার ওরফে কাফিল উদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট নগরের নিউমার্কেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি আহত হন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে পিবিআই চলতি বছরের মার্চে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ওই মামলায় তিনি ১৮৭জনকে আসামী করলেও বাবরের নাম ছিল না।

তবে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, জুলাই–আগস্টে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও সংবাদে আমরা দেখেছি, যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে গুলি ছোড়ার অভিযোগও ব্যাপকভাবে এসেছে। বাদী মামলায় তাঁর নাম উল্লেখ না করলেও তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব ছিল তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর সম্পৃক্ততা যাচাই করা। যদি ঘটনাস্থলে তাঁর উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাঁকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।

তদন্তে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, নোমান আল মাহমুদ, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাস সুমনসহ ৬৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক সিএমপি কমিশনার সাইফুল ইসলামসহ ২৬ জনকে প্রমাণের অভাবে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগপত্রে বাদীর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা বাবরের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো উল্লেখ নেই। পুলিশের নথি অনুযায়ী, কাফিল উদ্দিনের প্রকৃত নাম মো. আফসার। জুলাই অভ্যুত্থানের আগে তিনি প্রকাশ্যে হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাবরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি আত্মগোপনে যান।

এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, বাদী যদি বাবরের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে থাকেন এবং পরবর্তী সময়ে বাবরের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন–সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা হয়ে থাকে, তাহলে এই মামলার অভিযোগপত্রে তাঁর নাম কেন আসেনি।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহসানুল ইসলাম বলেন, তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে, কেবল তাঁদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনার সুপারিশ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে।

বাদীর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তের মূল বিষয় ছিল বাদী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন কি না, তিনি আহত হয়েছেন কি না এবং তাঁর অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না।

অন্যদিকে কাফিল উদ্দিন বলেছেন, তিনি একসময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বিবেকের তাড়নায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন