এলাহী নেওয়াজ খান

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ-উত্তর জার্মানি ও ইতালির ফ্যাসিস্টদের করুণ ইতিহাসের পর ইরানের ফ্যাসিস্ট শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির কথাই ধরুন। তার ভয়ংকর গোয়েন্দা সংস্থা সাভাকের কথা কে না জানে। পশ্চিমা সহায়তায় গড়ে ওঠা এই গোয়েন্দা সংস্থা তথাকথিত কমিউনিস্ট ও ইসলামপন্থিদের ওপর সীমাহীন নিপীড়ন চালিয়েছিল।

অতি-রাজনীতির শাসন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অনেক সমস্যা ও সংকট নিয়ে আলোচনাকে দূরে সরিয়ে রাখে। বলা যায়, রাজনৈতিক ভাবনা আমাদের বোধশক্তিকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।

মার্চ ফর গাজা। অসাধারণ একটা ঘটনা ঘটে গেল ঢাকায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং তার চারপাশজুড়ে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ। হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা। লাখ লাখ কণ্ঠে গগনবিদারী সেই স্লোগান, নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার। সম্মিলিত কণ্ঠে বিশ্ববাসীকে তারা জানিয়ে দিল স্বাধীন করো ফিলিস্তিন।

তিন দিক দিয়ে ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত, পূর্ব দিকে গৃহযুদ্ধে রক্তাক্ত মিয়ানমার, দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গরাশি এবং মাঝখানে ৫৪ হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট বাংলাদেশ। কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, আছে ১৮ কোটি মানুষের বিশাল জনশক্তি।

জুলাই বিপ্লবের পর বদলে গেছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দৃশ্যপট। বিজিবি এখন বিএসএফের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলছে।

মূল্যবৃদ্ধি, খাদ্যাভাব, দুর্ভিক্ষ প্রভৃতি নিয়ে আমাদের রাজনীতির ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক। সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এদেশের মানুষ এসব দেখে আসছে। বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। কতবার কতভাবে যে তাদের জীবনের স্বপ্নগুলো ভেঙে খান খান হয়ে গেছে তার কোনো হিসাব নেই।

বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ছাড়াও অন্যান্য ছত্রসংগঠন ইফতারি বিতরণ করছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের ব্যাপক ইফতারি বিতরণ সর্বমহলের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। এটা এ কারণেই যে, শিবির অতীতে এই ক্যাম্পাসে এ রকম মুক্ত পরিবেশ আর কখনো পায়নি।

এবার ভেবেছিলাম বাংলাদেশে জাতীয় ঐকমত্যের একটি প্ল্যাটফর্ম দাঁড়িয়ে যাবে। জুলাই বিপ্লবের সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের যে দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে সে ভাবনা অবান্তর ছিল না; বরং উৎফুল্ল হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল।

দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে খুলনা প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সংঘর্ষের ঘটনা একটু পুরোনো হলেও, এর মধ্য দিয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের একটা প্রকাশ্য রূপ আমাদের চোখে পড়ছে, যা কেউ ভাবেনি।

একটি আমূল পরিবর্তনের পর ছয় মাস ধরে মানুষের মধ্যে একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব পরিলক্ষিত হচ্ছিল। আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা মানুষ বুঝতে উঠতে পারছিল না।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের পতনের পর বিশ্বজগৎ এখন ৮০ বছর অতিক্রম করছে। ইতোমধ্যে জার্মান-ইউরোপের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়ছে।

আরাফার দিন ছাড়া অন্য কোনোদিন নেই, যেদিন আল্লাহ তায়ালা তাঁর সর্বাধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন। অন্য একটি বর্ণণায় আছে, সেদিন তিনি পৃথিবীর নিকটবর্তী হন এবং ফেরেশতাদের বলেন, ‘তোমরা সাক্ষী থাকো, আমি তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম।’ সুতরাং ইসলামে রহমতের পাহাড় ও আরাফাতের ময়দান মুসলম

এত নির্যাতন করার পরও তিনি একবারের জন্যও শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেন না। যখন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রশ্ন করলেন, আপনার রাগ হয় না? উত্তরে শুধু তিনি বললেন, রাগ করে কী হবে, আল্লাকে বলি।

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের পরিকল্পনা ও ভাবনাগুলো নানামুখী হলেও আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার পেছনে প্রধানত দুটি লক্ষ্য ছিল। আবার এ দুটি লক্ষ্যও নির্ধারিত হয়েছিল একটি যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। মূলত পরাভূত শক্তির মুকুটে যেমন একটি বিজয়ের পালকের দরকার ছিল; তেমনি বিজাতার বিরুদ্ধে ভূরাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করাও

আমরা কি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ম্যাসাকারের কথা ভুলে গেছি? সম্ভবত তা-ই; কিংবা হয়তো শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের নিষ্ঠুর শাসনকালের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডগুলো অতীতের অনেক কিছু ভুলিয়ে দিয়েছে। তবে আমরা খুব তাড়াতাড়িই সবকিছু ভুলে যাই, যেমন করে আমরা ভুলে গিয়েছিলাম ১৯৭২-৭৫-এর দুঃস্বপ্নের দিনগুলোর কথা।

চেয়ার টেনে বসতে বসতে আমাদের বললেন, প্রেসিডেন্ট (জিয়াউর রহমান) আজ আমাকে বলেছেন, কি খান সাহেব, হাসিনা আসছে বলে কি ভয় পাচ্ছেন? এটা শুনে আমরা কিছুটা অবাকই হলাম। মনে হলো তাহলে কি প্রেসিডেন্ট নিজেই ভয় পাচ্ছেন!