মিনার রশীদ

অনেক দিন আগে ‘সখী তুমি কার’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল! সিনেমাটি দেখিনি, তবে শিরোনাম দেখে কাহিনিটি অনুমান করতে কষ্ট হয়নি! বাংলাদেশে টিআইবি, সিপিডি ঘরানার কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের দেখলেই হতাশ নায়কের মতো মনে প্রশ্ন জাগে, সখী তুমি কার? কোনো সন্দেহ নেই—টিআইবি, সিপিডি কিংবা

চামচাদের দাবিমতো শেখ মুজিব ৭২-৭৫ সালেই ফোরজি এবং ফাইভজির স্বপ্ন দেখে ছিলেন কিন্তু একটি শিশু রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় জিনিস হিসেবে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পারেননি। অথচ তার চেয়েও বিশ-পঁচিশ বছর আগে নেহরু নিজের দলের কয়েকজন নেতাকে ডেকে বিরোধী দল গঠনের নির্দেশ

আমাদের প্রজন্ম কিংবা তার আগের প্রজন্মের লেখাপড়ার শুরু বা হাতেখড়ি হতো সহজ ধারাপাত আর বাল্যশিক্ষা দিয়ে। বর্তমান সময়ের মতো এত বাহারি আয়োজন ছিল না। সেই সহজ-সরল আয়োজনের মাধ্যমেই অক্ষর চেনানোর সঙ্গে সঙ্গে ছন্দ, নীতি আর শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো আমাদের।

একসময় আমাদের গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোর প্রবেশপথে এক বা একাধিক মাইক নিয়ে কিছু ধর্মীয় বক্তা বসতেন। বাজারে যাওয়া মানুষের উদ্দেশে সারাক্ষণই বলা হতো—‘আমার ইসলামদরদি ভাইয়েরা, দুনিয়ার বাজার করতে যাচ্ছেন, সঙ্গে আখিরাতের সওদাও নিয়ে যান।’ একই ধরনের ভাষা মসজিদ ও মাদরাসার ফান্ড সংগ্রহের সময়েও নিয়মিত শোনা যেত। চারআ

আজকের লেখাটির মদত পেয়েছি একজন পাঠকের মন্তব্য থেকে! ওই বিজ্ঞ পাঠক আমার সাম্প্রতিক কোনো স্ট্যাটাসের মন্তব্য কলামে লিখেছেন, ‘আজকে মাহমুদুর রহমান সাহেবের বক্তব্য ও তারেক রহমানের জবাব বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

এ দেশের এক সূর্যসন্তান এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর এমএ জলীল বলে গেছেন, অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা! আর আমাদের স্বাধীনতাকে অরক্ষিত করতেই এরশাদ, মইন ইউ, জেনারেল মাসুদ এদের অনেক আগে থেকেই গ্রুম করা হয়েছিল!

মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর ‘খামোশ’ বলে গর্জনটি শোনা যায় নাই! তেমনিভাবে এখন থেকে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ ডাকটি আর তেমন করে শোনা যাবে না। বলাই বাহুল্য, এই দুঃসংবাদটি শোনার জন্য জাতির এক ধরনের আতঙ্কমিশ্রিত প্রস্তুতি ছিল।

আজ থেকে ঠিক ২০ বছর আগে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তখনকার তুমুল জনপ্রিয় সাপ্তাহিক যায়যায়দিন-এ একটি লেখার শিরোনাম দিয়েছিলাম ‘মিডিয়ার আক্রমণে দিশাহারা বিএনপি’। লেখাটি তখন পাঠক মহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। আজ ২০ বছর পর একই ছন্দে উপরোক্ত শিরোনামে লিখতে হচ্ছে।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কিংবা রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করার যে প্রত্যাশা জনগণ বহু বছর ধরে বুকে লালন করে এসেছে, তার সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপ অর্থাৎ কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী

দেশে বেকারের সংখ্যা আর রাজনৈতিক কর্মীর সংখ্যা কাছাকাছি বলেই অনুমিত হচ্ছে। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য লাখ লাখ নেতাকর্মীর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কিছু নীতিবান, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতিক। রাজনীতি এখানে সেবার ক্ষেত্র না হয়ে অনেকের জন্য বিকল্প পেশায় পরিণত হয়েছে। ফলে রাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে আর শক্তিশালী

জাতির কিছু মহামানব ধারণা করছেন, তাদের বুদ্ধি ছাড়া সারা জাতি অচল! তারা আমাদের জানাচ্ছেন, পশ্চিমা দেশগুলো হলো ‘স্বাধীনতার স্বর্গরাজ্য’। সেখানে ধর্ম, মূল্যবোধ বা সেন্টিমেন্টের কোনো গুরুত্ব নেই—সবই নাকি বাকস্বাধীনতার নামে উন্মুক্ত; কিন্তু বাস্তবতা অনেক ভিন্ন।

এক রাজা টের পেলেন যে তাকে যে দুধ দেওয়া হচ্ছে, সেটি দিনে দিনে পাতলা হয়ে যাচ্ছে। তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বললেন—‘আমার মনে হচ্ছে, আমার দুধে পানি মেশানো হচ্ছে’।

শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ১০ টাকা সের দরে জনগণকে চাল খাওয়াবেন। ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন। এসব দইয়ের ডিব্বা কেমন করে চুন হয়েছিলÑতা সবার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে।

আয়নাঘরে আট বছর কাটিয়ে মায়ের কোলে ফিরে এসেছেন ভাগ্যবান আরমান। একইভাবে, একই সময়, আয়নাঘরে কাটিয়ে ঘরে ফিরলেও, রেখে যাওয়া মাকে জীবিত পাননি ব্রিগেডিয়ার আমান আজমী। যতদিন জীবিত থাকবেন, এই কষ্ট তাকে তাড়িয়ে বেড়াবে। কষ্টের অনেক পরত বা স্তর রয়েছে। পরের পরত থেকে আগের পরতকে তাই ভাগ্যবান মনে হয়।

‘মনের তালা খুলল কে, চাবিওয়ালা, চাবিওয়ালা!’ প্রখ্যাত শিল্পী রুনা লায়লার সেই সুরেলা প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে বেড়াচ্ছি! তবে ব্যক্তিগত জীবনে নয়, রাষ্ট্রীয় জীবনে। এই রাষ্ট্রের জীবনেও একটা বিশেষ তালা আছে, আর তার নাম আর্টিকেল ৭০! এই তালা লাগানো হয়েছিল সেই সব মাননীয়র জন্য, যাদের মধ্যে ‘ছাগলীয়’ প্রবৃত্তি রয়ে

মানবসমাজের সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান পরিবার, আর সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্র। পরিবার মানুষকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ শেখায়; আর রাষ্ট্র শেখায় শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও সম্মিলিত জীবনযাপনের রীতি।

বিরাজনীতিকরণ একটি রাষ্ট্রের জন্য বিষস্বরূপ। সাপের বিষ যেমন স্বাদের অনুভূতি (Taste sensation) নষ্ট করে ফেলে, বিরাজনীতিকরণের বিষ তেমনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বাদ বা আকাঙ্ক্ষাটিকে ধ্বংস করে ফেলে!

সম্প্রতি ডেইলি স্টার একটি মজাদার পরিসংখ্যানের খবর বাজারে ছেড়েছে। ‘ইনোভিশন কনসাল্টিং’ নামের একটি অজানা সংস্থার সার্ভের ফল তুলে ধরেছে। তাতে বলা হয়েছে, অতীত নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বঙ্গবন্ধু, শূন্য স্কোরে শেখ হাসিনা। সমস্যা হলো, এই পত্রিকার সম্পাদক এখনো মনে করেন যে আগের প্রজন্ম তো বটেই, জেন-জি

‘স্ট্রাইক বাংলাদেশ, ক্যাপচার চিটাগং’ শিরোনাম দিয়ে একটি ভিডিও বার্তা ইন্ডিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। হুমকিদাতা খুব সাধারণ ব্যক্তি নহেন। ত্রিপুরা রাজপরিবারের সদস্য এবং একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা।

কংগ্রেস নেতা শশী থারুর একটা টুইটে (এক্সে) লিখেছেন, ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের জয় ভারতের ভবিষ্যতের জন্য এক উদ্বেগজনক ইঙ্গিত। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমিরও টুইটবার্তায় শিবিরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দুটো কাজই আন্তর্জাতিক আদব-কায়দার আলোকে অশোভন, অগ্রহণযোগ্য! আমাদের এই অস্বস্তির কথা জেনে জামায়াত

শেখ হাসিনার ভেতরের গিলা-কলিজা ঠিকঠাক জায়গায় থাকলে তিনি নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুশোচনায় ভুগতেন। অনুশোচনার কলকবজাগুলো ঠিকঠাক থাকলে আজ গণভবনের সেসব তৈলবাজ সাংবাদিক ধরে আক্ষরিক অর্থেই জুতাপেটা করতেন। বিশেষ করে যে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি কোটাবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রছাত্রীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে

‘ভাইল’ মারা শব্দটি গ্রামীণ জীবনের খুব জীবন্ত ও চিত্রধর্মী একটি শব্দ। এটিকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করার মতো কোনো সুশীল বাংলা শব্দ আসলে নেই। এর মর্মার্থ হচ্ছে—চাতুর্যের আশ্রয়ে কাউকে তার অজান্তে বা তার সম্মতি ছাড়া এমন কিছু করিয়ে ফেলা, যা সে আসলে করতে চাইছিল না।

অনেকেই আমাকে তারেক রহমানের উচ্চারিত মৌলবাদ শব্দটি নিয়ে কিছু লেখার অনুরোধ করেছেন। আমাকে যদি একবাক্যে বলতে হয়, তবে বলব, তারেক রহমান যদি বিএনপিকে আগের আদর্শে রাখতে চান

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটি অদ্ভুতভাবে গড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক নেতাদের বিশেষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সব পরিমিতিবোধ হারিয়ে ফেলি! রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মীয় আলেম—উভয়ের ক্ষেত্রে বিশেষণের বাড়াবাড়ি লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে পীরদের নামের আগে এই বিশেষণ অত্যধিক লম্বা হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে এই বিশেষণ

আমরা খাওয়া-দাওয়া, হ্যান্ডশেকসহ সব ভালো কাজ ডান হাতে করি এবং শৌচকর্মসহ অনেক অপছন্দনীয় অথচ প্রয়োজনীয় কাজ বাম হাতে সারি! ফলে ‘ডান’ শব্দটিতে একটি শ্রেয়তর অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে! এই দেশে বামপন্থিরা নিজেদের ব্রাহ্মণ ঠাহর করে এবং ডানপন্থিদের নমশূদ্র জ্ঞান করে! এ কারণেই এই ব্রাহ্মণরা ডানপন্থাকে দক্ষিণপন্থি

এনসিপির তরুণ নেত্রী তাসনিম জারার একটি কথা আমার খুব মনে ধরেছিল। তিনি বলেছিলেন, আমরা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে সৎ মানুষদের নিয়ে একটি দল গঠন করছি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, রাজনীতির নামে ধর্মকে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান আরো স্পষ্ট ও পরিণত করতে ‘ব্যালান্সড ফরেইন পলিসি’ ধারণাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভায় গোপাল ভাঁড় ছিলেন একজন কৌতুকপ্রিয়, ব্যঙ্গাত্মক কিন্তু তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন চরিত্র।

নিজের পাপে আজ আওয়ামী লীগ ডেড বা মৃত। জামায়াত অস্পৃশ্য (রাজাকার), এনসিপি শিশু। কাজেই উইলিয়াম কুপারের সেই কবিতার মতো বিএনপির কোনো কোনো নেতা আওড়াচ্ছেন,

আপনাদের হয়তো স্মরণে আছে যে ডাক্তার শামরুখ মাহজাবিনের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে ২০১৪ সালের নভেম্বরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। এই অভাগা মেয়েটি ছিলেন আওয়ামী লীগের জনৈক সংসদ সদস্যের পুত্রবধূ। বলা হয়েছিল, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কেউ থুতু মেরে, আবার কেউ পেশাব করে প্রতিপক্ষকে ভাসিয়ে দিতে চান। সবসময় মানুষ এসব কথার আক্ষরিক অর্থ খুঁজে না। তবে মাঝেমধ্যে খোঁজে এবং তাতে হুমকিদাতার জীবন দুর্বিষহ করে তোলে।

আমার গত লেখাটি নিয়ে পাঠকমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মাননীয় সম্পাদক সাহেব ফোন করে পাঠকদের মন্তব্যের দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নিজেও প্রায় সবগুলো মন্তব্য পড়েছি। বেশির ভাগ আপত্তি এসেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে সাপোর্ট করে কিছু লেখা নিয়ে।

আমরা যাদের ‘র’-এর এজেন্ট বলি, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাফেলায় তাদের মোনাফেক বলা হতো। রাসুল (সা.) সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রটির হারমোনি বা ঐকতান ধরে রাখার স্বার্থে কোনো মোনাফেকের নাম প্রকাশ করেননি!

দেশবাসী এতদিনে ড. ইউনূস সরকারের মধ্যে অতিমাত্রায় গরম এক শিশুপীরকে খুঁজে পেয়েছে। কিছুদিন আগে ঘটা করে ২০২৪-এর আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তাকে ঘোষণা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেহাত নাবালক এই শিশুটির মধ্যে এমন কোনো প্রতিভা এযাবৎ পরিলক্ষিত হয়নি।

বিএনপির অনেক সুহৃদ বর্তমান অবস্থান নিয়ে নিজেদের হতাশার কথা প্রকাশ করছেন। জামায়াতকে নিয়েও একই হতাশা কাজ করছে। বর্তমান সরকারকে নিয়েও খুব স্বস্তিতে নেই। আসলে আমরা সবাই পারফেক্ট একটা সিস্টেম চাই। এই চাওয়াটি কিছুটা অবিবেচনাপ্রসূত হলেও অপরাধ নহে।

জনৈকা এনজিও নেত্রী ও বর্তমান সরকারের এক শক্তিশালী উপদেষ্টা সব রাজনীতিবিদের প্রতি প্রশ্ন রেখেছেন, ‘গত ৫৩ বছরে আপনারা কী করেছেন?’ তার এই স্পর্ধা দেখে স্তম্ভিত হলাম! ভাবতে লাগলাম, এই প্রশ্ন করার সাহস ও সুযোগটি তারা কেন পেলেন, কীভাবে পেলেন?

এযাবৎ দেশে যত এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের ৯৫ ভাগ নিজেদের স্ত্রী-সন্তানকে পরবর্তী এমপি বানাতে চেয়েছেন, অনেকেই এই প্রচেষ্টায় কামিয়াব হয়েছেন। দেশের ৯৮ ভাগ মন্ত্রী নিজেদের পোষ্যকে মন্ত্রী করার খায়েশ প্রকাশ করে গেছেন।

জাতি হিসেবে আমাদের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে! যেকোনো বড় ইস্যুতে আমরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাই। তখন যে যেদিকে তাকায়, সে অন্যদিকের কথা সম্পূর্ণ ভুলে যায়! ১৯৫২ থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল, এমনকি হাল আমলের এক-এগারো এবং সর্বশেষ জুলাই বিপ্লব অথবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে পড়ে।

বাঙালির অনেক কিছুর অভাব থাকলেও টেনশনের কোনো অভাব নেই । এসব টেনশনের কিছু জেনুইন, অধিকাংশই অহেতুক! এখন টেনশন শুরু হয়েছে, আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচনে গেলে সেটা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্য হবে কি না! এই টেনশন লেনলেওয়ালারা গত ১৫ বছর এই ভূখণ্ডের ওপরেই বসবাস করেছেন ।

ইসলাম বিয়েব্যবস্থাকে সহজ করেছে। আমরা এটাকে দিন দিন কঠিন করে তুলছি। ইন্ডিয়ান সিনেমা দেখে বিয়ের অনুষ্ঠানকে দিন দিন কালারফুল এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়বহুল করা হচ্ছে! গাড়ি-বাড়ি করা ছাড়া অনেক ছেলে বিয়ে করতে চান না। ছেলেদের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদেরও বিয়ের গড় বয়স বেড়ে যাচ্ছে!

জুলহাস যা তৈরি করেছেন, তা মূলত একটি বড় আকারের খেলনা। জুলহাসের এই প্রতিভাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আমরা ভাবতে পারি। কিন্তু তাকে নিয়ে আমরা অনেকেই যে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি, তা রীতিমতো ভয়ংকর!

ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলটিকে স্বাগত জানাচ্ছি একটি প্রত্যাশাসহ। আমরা আগের প্রজন্মের সেই বিষাক্ত রাজনীতি চাই না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শত্রু নন।

এই দুটি ছাত্রসংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক মধুর সম্পর্ক কখনোই ছিল না। বলতে গেলে, কাছে বা সুদূর অতীতের বেশিরভাগ সময় পারস্পরিক একটা অবিশ্বাস, অনাস্থা কাজ করেছে। একটি জায়গাতেই মিল ছিল, তা হলো উভয়ের একটা কমন শত্রু ছিল, উভয়কেই সমূলে ধ্বংস করতে চেয়েছে।

ফ্রান্সের এক ইঁদুরকে পিনাকীদা ফুলকুমারী নাম দিয়ে রাজকুমারী বানিয়ে ফেলেছেন। পক্ষান্তরে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের গুটিকয় সাংবাদিককে ‘গিরগিটি’ হিসেবে অভিহিত করে প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছেন।

বড় বড় কথা বলার লোকের অভাব নেই। কিন্তু সে কথা অনুযায়ী কাজ করার মতো লোকের সত্যি অভাব রয়েছে। যে কাজ করা দরকার, তা কেউ করছে না।

দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক কালচার সম্পর্কে আমার চেয়েও ভালো জানেন। বিএনপি একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক বুর্জোয়া দল, কোনো আদর্শিক দল নহে। সেই দল থেকে রাতারাতি সব ফেরেশতা বের হয়ে আসবে, সেটা আমরা কখনোই আশা করতে পারি না। কাজেই পিনাকীদার মতো অনেকেই হয়তো বেশি আশা করে এখন হতাশ হয়ে পড়ছেন। বিএনপি আমাদের জন্য বা দেশের জ

গল্পটি অনেকেরই জানা আছে। তবুও একবার স্মরণ করিয়ে দিলে কলামটির বক্তব্য মন ও মননে ভালো করে প্রবেশ করবে। বিশেষ করে যাদের উদ্দেশে কথাগুলো বলতে চাচ্ছি, আশা করি তাদের কঠিন মর্মে ঢুকতে সক্ষম হবে।

একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে করা আবেদনের শুনানির জন্য তাকে হাজির করা হয়েছিল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে। তবে লিফটে না তুলে সিঁড়ি দিয়ে চারতলায় উঠিয়ে আদালতের এজলাসে নেওয়ায় পুলিশের ওপর প্রচণ্ড ক্ষেপে যান কামরুল।

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় সচরাচর রাজনৈতিক সরকারের চেয়ে প্রশাসনিক আমলারাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের যে পরিবর্তন হয়েছে, তা শুধু স্বাভাবিক সরকার পরিবর্তন নয়, ছাত্র-জনতার একটি অভ্যুত্থান হয়ে গেছে।