সম্পাদক পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একটা বৈঠক করেছেন। সেখানে সাংবাদিকদের নামে হওয়া ‘মিথ্যা মামলায়’ অভিযুক্ত ২৮২ জনের একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নির্যাতিত সাংবাদিকের এরূপ কোনো তালিকা ওনারা তাদের প্রিয় আপার কাছে দেননি! এই দীর্ঘ সময়ে বহু সাংবাদিক মামলা, কারাবরণ, গুম-আতঙ্ক, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, আবুল আসাদ, শহিদুল আলম, শফিকুল ইসলাম কাজল, আহমেদ কবির কিশোর, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, কনক সারওয়ার, ইলিয়াস হোসেন,অলিউল্লাহ নোমান এবং এ রকম আরো শত শত—ওনারা কি সাংবাদিক ছিলেন না?
এই নগণ্য ব্যক্তির নামেও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে একটা আজগুবি মামলা ঠুকেছিল। কথিত ছিল যে, মিরপুরে মোনায়েম খানের মেয়ের জামাইয়ের বাসায় বসে আমরা বারোজন ষড়যন্ত্র করছিলাম। পুলিশের ধাওয়ায় তিনজন ধরা পড়ে এবং আমিসহ বাকি ৯ জন পালিয়ে যাই! কিন্তু যখন বুঝতে পেরেছে যে কল্পিত ঘটনা সংগঠিত হওয়ার সময়ে আমি স্পষ্টতই দেশে আসিনি-তখন ক্ষান্ত দিয়েছে!
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সম্পাদক পরিষদের এই দাবির ব্যাখ্যায় বলেছেন, এদের অধিকাংশই লীগের নেতা হিসেবে নির্যাতনে জড়িত ছিলেন। এখন ভুঁইফোঁড় সংবাদমাধ্যম দেখিয়ে সাংবাদিক সেজে বসেছেন! এছাড়া সাংবাদিক নামধারী যে কজন দুর্বৃত্ত আটক হয়েছেন, তারা সরাসরি গণহত্যার সহায়তাকারী ও উসকানিদাতা! আর এদের সমর্থনে দাঁড়িয়েছে আমাদের সম্পাদক পরিষদ।
সম্পাদক পরিষদের এই চরম ইতরামি সহ্য করতে না পেরে অতি সজ্জন হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়ার প্রাক্তন প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্ট্যাটাস দিয়েছেন, “কী রে ‘সম্পাদক’ পরিষদ! হাসিনার ফ্যাসিবাদী রেজিমের সময় আমার এবং আরো অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যখন নরহত্যা, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে শত শত মামলা করে বছরের পর বছর হয়রানি, হেনস্তা ও নির্যাতন করা হয়েছে, তখন কি এর বিরুদ্ধে পরিষদওলারা একটি শব্দ উচ্চারণ করেছিলি বা লিখেছিলি? তোদের পেয়ারের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার কাছে কি কখনো কোনো তালিকা দিয়েছিলি মুনাফিকের দল? না, আমি ক্রুদ্ধ নই। ঠান্ডা মাথায় তোদেরকে প্রশ্ন করছি।”
মতলবাজ এই পরিষদের চাণক্য কৌশলটি লক্ষ করুন! এই পরিষদের ব্যানার নিয়ে এখন সামনে এগিয়ে এসেছেন গত রেজিমে বিতর্কিত হননি এমন দুজন। তাদের একজন নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবির এবং অন্যজন মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী। এই দুজন হাসিনা রেজিমের বিরুদ্ধে কঠিন কঠিন কথা বললেও তাদের খুব একটা বালা-মুসিবতে পড়তে হয়নি। সেই ঋণের কিছু বোধহয় এখন আদায় করছেন। মতিউর রহমান চৌধুরী তারেক রহমানকে বাংলার মার্টিন লুথার কিং খেতাব দিয়ে তার পত্রিকার প্রথম পাতায় খবর ছেপেছেন। নূরুল কবির কবুল করেছেন, তিনি নাক-মুখ বন্ধ রেখে দুর্গন্ধময় বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। এ দুজনকে ইমাম মেনে পেছনে আছেন যথারীতি সেই মতি-মাহফুজ!
যতদূর জানি, সম্পাদক পরিষদটি গঠিত হয় ২০১৩ সালের দিকে । সংগঠনটির ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করা, পেশাদার সাংবাদিকতা শক্তিশালী করা এবং সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়া। সংগঠনটির দুই বছরের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করে ২০১৫ সালে লিখেছিলাম, সম্পাদক পরিষদ নাকি বাকশালের খোঁয়াড়?
বাস্তবে তারা সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানকে কিংবা রাষ্ট্রকে নয়, সরকারকে রক্ষা করছিল। তাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে নিজেদের জাতির বিবেক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। কিন্তু বিবেকের প্রথম শর্ত হচ্ছে সাহস। আর সাহসের সেই জায়গাটিই ছিল সবচেয়ে অনুপস্থিত। তাদের মধ্যে দু-একজন নিরীহ গোছের থাকলেও তাদের কণ্ঠ ছিল খুবই ক্ষীণ।
বিশেষ করে, এমন একসময় ছিল, যখন দেশের সংবাদমাধ্যমের বড় অংশ নিজেদের নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পরিবর্তে কার্যত রাজনৈতিক ‘প্রোপাগান্ডা মেশিনে’ পরিণত করেছিল। তারা শুধু তিল থেকেই তাল বানায়নি, অনেক সময় আস্ত তালকেই ঘায়েব করে দিয়েছে অথবা শূন্য থেকে সেই আস্ত তাল বানিয়েছে!
এরাই তাদের সিন্ডিকেটেড সাংবাদিকতার মাধ্যমে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জজ মিয়া নাটকের আদলে মহানাটক সাজিয়েছে, এরাই দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় তারেক রহমানসহ চারদলীয় জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জড়িয়েছে! এরাই বেগম জিয়া কর্তৃক এতিমের টাকা আত্মসাতের কাহিনি বানিয়েছে! আজকে যদি এই জুলাই অভ্যুত্থান না ঘটত, তবে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে এসব দণ্ড মাথায় নিয়েই কবরে যেতে হতো।
২০১৩ সালে সংগঠিত রূপে আত্মপ্রকাশ করলেও এদের সিন্ডিকেটেড সাংবাদিকতা অনেক আগেই শুরু হয়েছিল! এদের নিজেদের মধ্যে এক ধরনের অলিখিত কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর বোঝাপড়া ছিল। প্রোপাগান্ডা যুদ্ধকে তারা সাজাত যেন একটি সুসংগঠিত সামরিক কৌশলের মতো। সেখানে ছিল বিভিন্ন স্তর, বিভিন্ন দায়িত্ব এবং বিভিন্ন ভাষার বা ন্যারেটিভের ব্যবহার।
সবার সামনে থাকত তাদের ‘ইনফ্যান্ট্রি বাহিনী’। এরা ছিল আওয়ামী বলয়ের অন্ধ অনুসারী কিছু পত্রিকা ও মিডিয়া কর্মী, যাদের প্রধান কাজ ছিল সত্য-মিথ্যার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষকে লাগাতার আক্রমণ করা। কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য, দলিল বা প্রমাণের প্রয়োজন তারা অনুভব করত না। অভিযোগই ছিল তাদের অস্ত্র আর চরিত্রহনন ছিল তাদের কৌশল। বিএনপির মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এবং জামায়াতের সব নেতাই ছিল তাদের মূল টার্গেট!
তখন সম্পাদক পরিষদের মূল পান্ডাদের একজন ছিলেন শ্যামল দত্ত। তার সম্পাদিত ভোরের কাগজ ছিল সেই ‘ইনফ্যান্ট্রি পর্যায়ের’ কাগজগুলোর একটি। একই কাতারে অনেকেই রাখতেন জনকণ্ঠ, কালের কণ্ঠ প্রভৃতি পত্রিকাকে। এদের ভাষা ছিল আক্রমণাত্মক, বিভাজনমূলক এবং প্রায়ই বিদ্বেষপ্রসূত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তখন একক শব্দে ‘বিএনপি-জামায়াত’ বলে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো, যেন তারা রাষ্ট্র ও সমাজের স্বাভাবিক পরিসরের বাইরের কোনো অপশক্তি।
এর পরের ধাপে রাখা হতো কিছু তুলনামূলক ‘সফট’ পত্রিকাকে। যেমন : দৈনিক যুগান্তর, কিংবা দৈনিক সমকাল। এরা আওয়ামী তোষণ কিংবা বিএনপি-জামায়াত বিদ্বেষে কিছুটা ‘চক্ষুলজ্জা’ বজায় রাখত। ভাষা হতো অপেক্ষাকৃত মার্জিত, কিন্তু কাঠামোগত পক্ষপাত প্রায় একই থাকত। পার্থক্য শুধু উপস্থাপনার ভঙ্গিতে।
সবশেষে ছিল তথাকথিত ‘নিরপেক্ষতার দাবিদার’ অভিজাত স্তর। সেখানে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছিল প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার । এরা সরাসরি আক্রমণের ভাষা ব্যবহার না করলেও, কোন খবরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, কোন ঘটনাকে চেপে রাখা হবে, কোন শব্দ ব্যবহার করা হবে-সেই বাছাইয়ের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করত। অনেকের অভিযোগ ছিল, এই ‘নিরপেক্ষতার মুখোশ’ সাধারণ মানুষের জন্য আরো বিভ্রান্তিকর ছিল।
এই তিনস্তরের সবাই অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিত। বিরোধী পক্ষের বা ভিন্ন মতাবলম্বী সব সংবাদমাধ্যমকে এরা স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি হিসেবে তুলে ধরত। নিরপেক্ষ নামধারী, বিশেষ করে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ‘দলকানা’ নামক একটি ন্যারেটিভ ছড়িয়ে দেয়! এদের বুদ্ধিবৃত্তিক এসব ইতরামির জবাব যারা দিতে পারতেন, তাদের সবাইকে দলকানা ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে বিরোধী কণ্ঠকে নিস্তেজ ও গুরুত্বহীন করে ফেলে!
এই ন্যারেটিভটি এদের হাতে একটি মোক্ষম অস্ত্র হয়ে পড়ে! আওয়ামী পক্ষের দলকানা মিডিয়ার (জনকণ্ঠ এবং ভোরের কাগজ) সমান্তরালে দাঁড় করিয়ে দেয় বিরোধী পক্ষের সব মিডিয়া হাউসকে (যেমন : দিনকাল, সংগ্রাম, নয়া দিগন্ত, যায়যায়দিন ও আমার দেশ)! এর ফলে বিএনপি এবং জামায়াত বলয়ের স্টক খালি হয়ে পড়াকেও বাকশালি বলয়ে বেশ কিছু থেকে যায়!
কাটাকাটি করার পরও চেতনার পক্ষে দুই স্তরের নিরপেক্ষ পত্রিকা ওদের ন্যারেটিভ প্রচারের জন্য অ্যাভেইলেবল থাকত! মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে মাওলানা আব্দুল মান্নানের পত্রিকা দৈনিক ইনকিলাব এক-এগারোর আগে আগে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যায় এবং এই মিডিয়া সিন্ডিকেটের উৎসাহে আত্মঘাতী গোল দিতে থাকে!
এক-এগারোর পরপর বিএনপি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ভূমিকাও ছিল চরম হতাশাজনক। বিএনপিতে যাদের মিডিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারা মনে করেছিলেন যে বিএনপির টাকা ও মিডিয়া আওয়ামী মেধাকে ব্যবহার করবে। তাছাড়া নিজেদের নিরপেক্ষ দেখানোর মানসে (বিএনপির মিডিয়া এবং লীগের ব্রেইন) আওয়ামীঘেঁষা সাংবাদিক ও কলাকুশলী দিয়ে এসব মিডিয়া হাউস ভরে ফেলা হয়! কিন্তু এক-এগারোর নিদানকালে দেখা গেল-অত্যন্ত চমৎকারভাবে আওয়ামী ব্রেইন বিএনপির টাকা ও স্থাপনাগুলো ব্যবহার করছে।
ন্যাড়া নাকি একবার বটতলায় যায়, কিন্তু সেই একই ভুল বিএনপি আবার করছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে মিডিয়া হাউসগুলোর নিয়ন্ত্রণ বিএনপি নিয়েছে, সেখানকার কলাকুশলী ও মগজ এখনো সবই আওয়ামী লীগের! জানি না, সামনে অগত্যা কোনো নতুন এক-এগারো সৃষ্টি হলে এদের ভূমিকা কেমন হবে?
তারেক রহমান ও জিয়া পরিবার সম্পর্কে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার কীভাবে প্রোপাগান্ডা চালাত, সে সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি! তবে তাদের ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, তথা সম্মুখসারির দৈনিক জনকণ্ঠে কিংবা দৈনিক ভোরের কাগজে কীভাবে এই তারেকবিদ্বেষ চালানো হতো, তার একটি নমুনা আপনাদের সম্মুখে পেশ করছি!
তখন লন্ডনপ্রবাসী কলামিস্ট মরহুম আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী সপ্তাহে চারটি কাগজে কলাম লিখতেন! তিনি একবার বোমা ফাটালেন যে তারেক রহমান শাহীন স্কুলে থাকাকালে নাকি স্কুলের এক মেয়ের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেছেন। তখন নাকি মেয়েটির অভিভাবক তারেক রহমানের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাছে নালিশ করেন!
শাস্তি হিসেবে প্রেসিডেন্ট নিজের বেল্ট খুলে তারেক রহমানকে নির্দয়ভাবে প্রহার করেন! মজার বিষয় হলো-প্রেসিডেন্টের পাশে দাঁড়িয়ে এ ঘটনাটি নিজ চোখে দেখেছেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী! একজন প্রেসিডেন্ট তার ছেলেকে নিজের কোমরের বেল্ট দিয়ে পেটাবেন তাও আবার এক দলকানা সাংবাদিকের সামনে! চরিত্র হননের সব সীমা গাফ্ফার চৌধুরীরা লঙ্ঘন করেছিলেন।
যে পত্রিকাগুলো এগুলো ছাপাত, তারা আবার এই সম্পাদক পরিষদের হর্তাকর্তা ছিলেন। লেখাটি আমার চোখে পড়ার পর দৈনিক নয়া দিগন্তে আমার সাপ্তাহিক কলামটিতে তা তুলে ধরি।
আগাচৌ নামে পরিচিত এই ভদ্রলোক একটি গান লিখে বিখ্যাত হয়েছিলেন। সেই একটি গানকে পুঁজি করে কয়েক দশক ভাঙিয়ে খেয়ে গেছেন! তারেক রহমানের শাহীন স্কুলের সহপাঠীদের মধ্যে আমার কয়েকজন বন্ধু রয়েছেন। তাদের মধ্যে কানাডাপ্রবাসী (ক্লাসের ফার্স্ট বয়) মান্নার কাছে জানতে চাইলাম-এ রকম কোনো ঘটনা তখন প্রেসিডেন্টপুত্রকে নিয়ে ঘটেছিল কি না!
তারেক রহমান শাহীন স্কুলে পড়েছেন ১৯৮০ সালে! আর আগাচৌ নিজের অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসার নাম করে দেশ ছাড়েন ১৯৭৪ সালে! শেখ মুজিবের জীবদ্দশায় আর দেশে ফেরেননি। যতটুকু জেনেছি, জিয়াউর রহমানের শাসনামলেও ভদ্রলোক দেশে ফেরেননি!
তবে ফজলু কমান্ডার যদি ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে গুলির আওয়াজ শুনতে পারেন, তবে লন্ডনে বসে ঢাকার এই দৃশ্য আগাচৌ দেখতে পারবেন না কেন?
আমার ওই বন্ধুটি জানায়, ‘তারেক রহমান ছিলেন অত্যন্ত নিরীহ ও ভদ্রগোছের। তার পক্ষে এ ধরনের কাজ করা অসম্ভব ছিল। তাছাড়া প্রেসিডেন্টের ছেলে হিসেবে তার দিকে পুরো স্কুলের অসংখ্য ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের একটা বিশেষ মনোযোগ ছিল। একমাত্র গাঁজাখোর ছাড়া এ রকম লেখা আর কেউ লিখতে পারে না।’
অথচ এই গাঁজাখোর লোকটিই তার কিছু সাঙ্গপাঙ্গ সঙ্গে নিয়ে আমাদের চিন্তাজগৎকে প্রভাবিত করে গেছেন কয়েক দশক ধরে। আর এরই প্রভাবে কমান্ডার ফজলু শুধু লীগারদের কাছেই নয়-বিএনপির বলয়েও জাতীয় বীর হিসেবে গণ্য হচ্ছেন!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আওয়ামী সিন্ডিকেট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর মতো এ রকম অনেক তারকা এবং মহাতারকা সৃষ্টি করেছিল! আপনি আগাচৌ সম্পর্কে কিছু বলতে যাবেন, দেখবেন জাতির আবেগে রক্ত সরবরাহ করা অমর একুশের গানটির স্রষ্টা এই মহাফাঁপরবাজ লোকটি! মজার বিষয় হলো-এই একটি গান ছাড়া তার দ্বিতীয় কোনো গান বা কবিতা নেই!
সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের আরেক মহাদুর্বৃত্ত ফ্যাসিবাদের এমপি-মন্ত্রী থাকাকালে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছেন, নিজ এলাকায় ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের কয়েকজন ছেলেকে হত্যা করেছেন। এখন সেই দুর্বৃত্তের প্রতি জাতির সহানুভূতি সৃষ্টির প্রয়াস করে যাচ্ছে এই সম্পাদক পরিষদ নামক বাকশালের খোঁয়াড়টি!
যে সাংবাদিক মিথ্যাকে সত্য বানান, যে সংস্কৃতিকর্মী নির্যাতনকে মহিমান্বিত করেন, যে বিনোদন কিংবা ক্রীড়া জগতের তারকা মানুষের বিবেককে ঘুম পাড়িয়ে দেন—তারা শুধু দর্শক নন; অনেক সময় তারা অপরাধের সক্রিয় সহযোগী।
জার্মানিতে এডলফ হিটলারের ক্ষমতায় ওঠার পেছনে শুধু নাৎসি বাহিনীর শক্তি কাজ করেনি; তার আগে কাজ করেছে এক বিশাল প্রচারযন্ত্র। নাৎসি প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলস সংবাদমাধ্যম, চলচ্চিত্র, নাটক, গান ও সাহিত্যকে ব্যবহার করেছিলেন ঘৃণাকে ‘জাতীয় চেতনা’ বানাতে। ইহুদিদের মানুষ নয়, ‘জাতির শত্রু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল ধারাবাহিকভাবে। মানুষকে এমনভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল, যেন গণহত্যা একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্রীয় কর্তব্য বলে মনে হয়।
শেখ হাসিনার গণহত্যার পটভূমি সৃষ্টিতে হুবহু একইভাবে কাজ করে গেছেন আমাদের দেশের অনেক সাংবাদিক ও তথাকথিত সংস্কৃতিকর্মী। এরাই আবার হামলীগ হয়ে একই ডেইলি স্টারদের প্ররোচনায় স্পেইস তৈরি করছেন!
শীতনিদ্রা থেকে বেরিয়ে আসছে এদেরই সম্পাদক পরিষদ!
মাই কান্ট্রিমেন! প্লিজ ওয়েক আপ!
লেখক: কলামিস্ট
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


