মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ তাত্ত্বিক, সাহিত্য-সমালোচক এবং আপসহীন জনবুদ্ধিজীবী। আলোচনার শুরুতেই একটি ঐতিহাসিক ও তথ্যগত ভ্রান্তি নিরসন করা প্রয়োজন; অনেকেই তাকে ইহুদি বংশোদ্ভূত মনে করলেও তিনি মূলত জেরুজালেমের এক ফিলিস্তিনি আরব খ্রিষ্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে তার এই

বিশ্বসাহিত্যের প্রেক্ষাপটে প্রতিরোধ সাহিত্য বা ‘রেজিস্ট্যান্স লিটারেচার’ সর্বদা একটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসে পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রাসন, শোষণ এবং নব্য-উপনিবেশবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতি-আখ্যান।

বাংলা-পাক-ভারত উপমহাদেশে লিটল ম্যাগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ছিল বিচিত্র ও বহুভাষিক। বিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় এর বিস্তার ঘটে। বাংলা সাহিত্যে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’-কে (১৯১৪) যথার্থ অর্থে প্রথম আধুনিক লিটল ম্যাগাজিন বলা হয়

ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪) বাংলা সাহিত্যের এক স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। তার ‘লাশ’, ‘পাঞ্জেরী’, ‘সাত সাগরের মাঝি’, ‘আউলাদ’ ও ‘১৯৭৪’-এর মতো কবিতাগুলোয় যে ক্ষুধাকাতর মানুষের হাহাকার ধ্বনিত হয়েছে, তা উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্ত্বের আলোকে এক গভীর পাঠের দাবি রাখে।

ঔপনিবেশিক শক্তি নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করে এবং উপনিবেশিত জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে হীন ও নিকৃষ্ট হিসেবে তুলে ধরে। এর ফলে, উপনিবেশিত জাতি ধীরে ধীরে তাদের নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় হারাতে থাকে। বিদ্রোহী কবিতায় অত্যন্ত সচেতনভাবে এই ভাষা-ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।