পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতনে নাদিয়া নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি বিষপান করে নাদিয়া। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নাদিয়া উপজেলার টগড়া গ্রামের মৃত নাছির হাওলাদারের একমাত্র মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে তার চাচা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হাবিবুল্লাহর সঙ্গে নাদিয়ার বিয়ে হয়।
নাদিয়ার মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ের স্বামীর আগে থেকেই অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এ কারণে সে নাদিয়াকে তেমন গুরুত্ব দিত না। স্বামীর পরিবারের লোকজনও আমার মেয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করত। এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাদিয়ার বাবা নাছির হাওলাদার মারা যাওয়ার পর তার সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে পারিবারিকভাবে হাবিবুল্লাহর সঙ্গে নাদিয়ার বিয়ে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিয়ের পর হাবিবুল্লাহ বিদেশে চলে যান। পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি নাদিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন না এবং তার সঙ্গে ভালো আচরণও করতেন না। এ সময় নাদিয়া শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।
স্বামীর আচরণ নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে অভিযোগ করলে তারা নাদিয়াকে সহযোগিতা না করে উল্টো বকাঝকা করতেন বলে অভিযোগ করেন তার মা। পরিবারের দাবি, এ নিয়ে প্রায়ই নাদিয়ার সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়ির ঝগড়া-বিবাদ হতো।
অভিযোগ রয়েছে, হাবিবুল্লাহর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য কলহের পাশাপাশি নাদিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নাদিয়া কচা নদীর ওপারে চরখালী এলাকায় তাঁর নানাবাড়িতে চলে যান। সেখানে তিনি বিষপান করেন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাদিয়ার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহব্বত আলী খান বলেন, ‘ঘটনাটি এখন পর্যন্ত আমাদের জানা নেই। যেহেতু লাশ বরিশালে রয়েছে। লাশ আসার পর আমরা খোঁজ নেব। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-6dff5e-720x405.webp)