বন্দরনগরী বাগেরহাটের মোংলায় মাদকের সহজলভ্যতা, জুয়ার বিস্তার ও চুরির অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ উপজেলার সুন্দরবন, চিলা, সোনাইলতলা, চাঁদপাই, বুড়িরডাঙ্গা ও মিঠাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজার রমরমা বেচাকেনা চলছে।
অন্যদিকে পৌরসভার মাদ্রাসা রোডের বাংলা মদের দোকান, পশুর হোটেলের পাশের বার এবং পোর্ট স্কুলের পাশে হোটেল আল-প্রিন্সকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করা একটি মদের দোকান পরে আবার চালু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহল এবং কথিত কিছু সংবাদকর্মীর সঙ্গে সমঝোতার পর দোকানটি ফের খোলা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং দোকানটির অনুমোদনসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জন-অসন্তোষের মুখে একপর্যায়ে মাদ্রাসা রোডের বাংলা মদের দোকানটি তালাবদ্ধ করে বন্ধ করা হয়েছিল। এমনকি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। কিন্তু কিছুদিন পর দোকানটি আবার চালু হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দোকানটি বন্ধ হয়েছিল, কী কারণে আবার চালু হলো, এর বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না এবং বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত মানা হচ্ছে কি না। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিভিত্তিক ব্যাখ্যা ও তদন্ত জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হুমায়ুন শেখ বলেন, ‘এখানে মাদক খুব সহজে পাওয়া যাচ্ছে বলে আমরা মনে করি। মদের দোকান, বারসহ বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি দরকার। প্রশাসনের নিয়মিত টহল চাই।’
অভিভাবক মো. সাগর তালুকদার বলেন, ‘যুবকদের একটা অংশ মাদক আর জুয়ার মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। এতে তাদের পড়াশোনা, কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদকসেবী বলেন, ‘মাদক ও জুয়ার কারণে আমার সাজানো সুখের সংসার ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব। আমার মতো আর কেউ যেন নিঃস্ব না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি দরকার।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, মদের দোকান ও বারগুলোতে বিক্রির ক্ষেত্রে আইন ও অনুমোদনের শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে মদ বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন তারা। দোকানে পলিথিনে মদ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে; এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও পরিবেশবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে মোংলা থানা পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী, মজুতদার কিংবা নেপথ্যে থেকে যারা এ ধরনের অপরাধে পৃষ্ঠপোষকতা করছে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট বসানো, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বন্ধ হওয়া দোকানটি কীভাবে আবার চালু হলো, এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর চান স্থানীয় বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

