আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তিস্তার বালুচরে লাউয়ের বীজ উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

রিয়াদুন্নবী রিয়াদ, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

তিস্তার বালুচরে লাউয়ের বীজ উৎপাদনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের গাউছিয়া চরের কৃষকরা লাউয়ের বীজ উৎপাদনের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। একসময়কার অনাবাদি বালুচরে এখন বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ লাউয়ের গাছ। কৃষকদের মতে, সবজি হিসেবে বিক্রির চেয়ে বীজ উৎপাদন অনেক বেশি লাভজনক। ফলে এখানকার শতাধিক কৃষক পরিবার এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

প্রায় পাঁচ বছর আগে স্থানীয় কৃষক আলা মিয়া রংপুরের আরডিআরএস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বাদাম চাষে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে এক প্রশিক্ষকের পরামর্শে লাউ চাষ শুরু করেন। তিনি রংপুর সিটি বাজার থেকে সংগ্রহ করেন লাল তীর কোম্পানির ভিত্তি বীজ। আশানুরূপ ফলন পেয়ে অন্য কৃষকরাও এতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে গাউছিয়া চরের অনেক কৃষক নিজেরাই মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন কৃষিবীজ কোম্পানিকে সরবরাহ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইস্পাহানি অ্যাগ্রো লিমিটেড, মেডাল সিড, ব্যাক সিড ও লাল তীর কোম্পানি। প্রতি একরে ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রতি কেজি বীজের দাম খুচরা বাজারে ৪০০ টাকা। এতে একরপ্রতি গড়ে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা।

তিস্তার চরে লাউয়ের বীজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই এলাকার অন্যতম সফল কৃষক আবু সাঈম বলেন, এই মৌসুমে আমি আট একর জমিতে লাউয়ের বীজ উৎপাদনের জন্য চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন হলে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কেজি বীজ পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হলে মোট আয় হতে পারে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এতে নিট লাভ দাঁড়াবে প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, মাচাং পদ্ধতির বদলে বালু জমিতে সরাসরি চাষ করেও ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। চরের কৃষকদের এই সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আরো অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন বীজ উৎপাদনে। জলবায়ুজনিত বৈরিতা, অসময়ের বর্ষা, কিংবা খরাতেও তারা হাল ছাড়ছেন না। বালুর চরে তারা গড়ে তুলছেন সোনার ফসল।

গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম জানান, চরের কৃষকেরা এখন শুধু খাদ্য নয়, বীজ উৎপাদনেও এগিয়ে যাচ্ছেন। আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। তিনি আরো জানান, গঙ্গাচড়া উপজেলায় এ বছর প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে, যার একটি বড় অংশেই বীজ উৎপাদিত হচ্ছে। এতে চরের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: